আপডেট :»Monday - 23 October 2017.-
  বাংলা-
পুরানো সংখ্যা খোঁজ করুন »

মহাজোট সরকারের ৪৩ মাসে ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন নেই, হতাশায় নাসিরনগরবাসী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : মহাজোট সরকারের ৪৩ মাসেও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না হওয়ায়, হতাশ হয়ে পড়েছে নাসিরনগরবাসী। নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামীলীগকে মতায় নিলে এলাকায় বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, নদী খনন করে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবে বলে ২০০৮ সালে জাতীয়তাবাদী দলের শক্তঘাটি হিসেবে পরিচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১ নাসিরনগর আসনটি দখলে নেয় মহাজোট। এ আসন থেকে ৪ বারের মত সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন প্রবীন রানীতিবিদ এড: ছায়েদুল হক। নির্বাচনের পূর্ব মূর্হুতে আওয়ামীলীগের নেতারা প্রতিশ্রুতি
দিয়ে ছিলেন মহাজোট সরকার মতা গেলে প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুৎ পৌছে দিবে। অজয় পাড়ার প্রতিটি গ্রাম বিদ্যুতের আলোকে আলোকিত হয়ে উঠবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা তথা এলাকার রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন হবে। মরা নদীগুলো খনন করে নৌ যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি ঘরে ঘরে একজনকে চাকুরী দেওয়া হবে বিনামুল্যে সার এবং ১০ টাকা কেজি চাউল দেওয়া হবে। কিন্তু আজও সে সব অঙ্গীকারের প্রতিফলন না দেখে নাসিরনগর বাসী। মহাজোট সরকার মতা আসার প্রায় ৪ বছরের অধিক সময় অতিবাহিত হলেও প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন তেমন একটা ঘটেনি। নদী খননের জন্য কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়ে নামে মাত্র উদ্ভোধন করেই আটকে গেছে কাজ। আওয়ামীলীগ নেতাদের মূখে উন্নয়নের বানী শুনে জনগণ ভোট দিয়ে মতা পাঠিয়ে ছিল। মহাজোট সরকার মতায় আসার পর এলাকার রাস্তাঘাটের যেমন কাংঙ্খীত উন্নয়ন হয়নি। তেমনি হয়নি বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান। আর ঘরে ঘরে চাকুরীতো আকাশ কুসুম কল্পনা। বরং চাকুরী দেওয়ার নাম করে উপজেলার শিক্ষিত বেকার ছেলে মেয়েদের করা হয়েছে হয়রানি। উল্লেখ যোগ্য রাস্তা ঘাটের মধ্যে নাসিরনগর ছাতিয়াইন রাস্তা উন্নয়ন হলেও নাসিরনগর চাপরতলা ছাতিয়াইন রাস্তার কাজ বাধাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে, এমন কি ঠিকারদার পালিয়ে যাওয়ার ও খবর পাওয়া গেছে। নাসিরনগর মাধবপুর সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় চাষের জমিতে পরিনত হয়েছে। উপমহা দেশের প্রথম মুসলিম ব্যারিষ্টার এ রসুলের জন্মস্থান ঐতিহ্যবাহি গ্রাম গুনিয়াউক নাসিরনগর সংযোগ সড়কটি ভেঙ্গে ছুড়ে খানাখন্দে পরিনত হয়েছে। ওই দুইটি রাস্তা সুস্থ মানুষ চলাফেরা করলেও অসুস্থ হয়ে পড়ে। নাসিরনগরের অধিকাংশ গ্রাম এখনো বিদ্যুৎ শুন্য। সন্ধ্যার পর পরই ওই সমস্ত গ্রামের উপর নেমে আসে অন্ধ্যকারের অমানিশা। যার জন্য ওই সমস্ত গ্রামে ঘটছে ঘন ঘন চুরি ডাকাতির মত অসংখ্য ঘটনা। মাননীয় সংসদ সদস্য এড: ছায়েদুল হক একজন প্রবীন ও সৎ রাজনীতিবীদ হিসাবে পরিচিতি থাকলেও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের নানা অন্যায়, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দূর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ জনগণের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে। অনেকই বলাবলি করছে এই দুই নেতার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। দুই নেতার দূর্নীতি আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্বস্থ একটি সূত্রে ও লোক মুখে শোনা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদকের বেশ কিছু দূর্নীতির প্রমান এ প্রতিনিধির হাতে এসে পৌছেছে। যা পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে ধারাবাহিক ভাবে প্রচার করে জন সম্মুখে প্রকাশ করার সম্ভাবনা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী খনন কাজ বেমালিয়া, লঙ্গন, বলবদ্রর প্রায় ৪৫ কি: মি: নদী খনন ব্যপক প্রচারণার মাধ্যমে উদ্ভোধন করা হলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। জানা গেছে নাসিরনগর চাতলপাড় অরুয়াইল রাস্তার নিমার্ণের প্রতিশ্র“তি দিয়ে ভলাকুট, খাগালিয়া কান্দি নামক স্থানের কিছু অংশে কাজ করেও বাকিটি বন্ধ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*
*