আপডেট :»Wednesday - 15 August 0001.-
  বাংলা-

আতঙ্কের নাম নাসিরনগর- সরাইল সড়ক সূর্যাস্তের পর ডাকাতের দখলে একদিকে ডাকাতি অন্যদিকে পুলিশের টহল

আক্তার হোসেন ভূইয়া, নাছিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : নাসিরনগর-সরাইল মহাসড়কে ধরন্তী হাওর এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুটিয়া-কুন্ডা সেতুর মধ্যতর্বী স্থানে বেশক’টি যাত্রীবাহী যানবাহনে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতির শিকার দাতমন্ডল গ্রামের বকুল মিয়া ও নাজিম মিয়া জানায়,সড়কের আশপাশে টহল পুলিশ ছিল । রাস্তায় ব্লক ফেলে সিএনজি আটক করে তাদের কাছ থেকে মুখোশধারী ১৫/১৬ জন সংঘবদ্ধ ডাকাত দল নগদ ৩৬ হাজার ৬০৪ টাকাসহ ৪টি মোবাইল সেট নিয়ে যায়। এসময় একাধিক যানবাহনে ডাকাতরা লুটপাট ও তান্ডব চালায়। ভুক্তভোগীরা এ সড়কে প্রায়ই ডাকাতির ঘটনাকে পুলিশের নিষ্ক্রিতাকেই দায়ি করছে। এই সড়কে প্রায়দিনই কেউ না কেউ ডাকাতির শিকার হচ্ছে। ভুক্তভোগী লোকজন জানায়, দুই উপজেলার মাঝামাঝি স্থানে ডাকাতি হয় বলে পুলিশ বিষয়টি এড়িয়ে যায়। সড়কটি এখন সূর্যাস্তের পর ডাকাতদের দখলে থাকে। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে নাসিরনগর-সরাইল সড়কের সরাইল উপজেলার পুটিয়া ব্রীজ ও নাসিরনগর উপজেলার কুন্ডা ব্রীজ এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে নিয়মিতই ঘটছে ডাকাতির ঘটনা। সন্ধ্যার পর থেকে ভোর হওয়া পর্যন্ত একেক দিন একেক সময় এসব ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। কোন কোন সময় পুলিশের পাশেই ঘটছে ডাকাতির ঘটনা। যদিও জেলা পুলিশের বিশেষ টহলের কারনে কিছু দিন ডাকাতির ঘটনা বন্ধ ছিল। এসব বিষয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রতিনিয়তই আলোচনা হয়। গোর্কণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ হান্নান জানান, এ পথে রাতে চলতে গেলে আমার নিজেই ভয় হয়। সড়কের মধ্যবর্তী স্থানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। ওই সড়কে ডাকাতদের কবলে পড়েছেন বদলী হওয়া নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা জামিল আহমেদ ও সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ উত্তম কুমার চক্রবর্তী। ওই পথে নিয়মিত চলাচলকারীদের মধ্যে ডাকাতের কবলে পড়েনি,এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুস্কর। নাসিরনগর বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ স্বাধীন মিয়া জানান, ডাকাতির ভয়ে সন্ধ্যার আগেই বাড়ি ফেরার চেষ্টা করি। এব্যাপারে নাসিরনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবদুল কাদের জানান, এ সড়কে নিয়মিত পুলিশ টহল দেয়। নাসিরনগর এলাকায় ডাকাতি হচ্ছে না। তবে ডাকাতির শিকার লোকজন নাসিরনগর এলাকার। সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ উত্তম কুমার চক্রবর্তী জানান, আমি নিজেও ডাকাতের কবলে পড়েছিলাম। আগের চেয়ে ডাকাতি অনেক কমে গেছে। ডাকাতি রোধে পুটিয়া ব্রীজের পাশে একটি পুলিশ ক্যাম্পের জন্য একটি ঘরের নিমার্ণ কাজ চলছে। তবে ডাকাতি হলেও কেউ মামলা করতে আসে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিহা ফেরদৌসী জানান, ডাকাতি রোধে সড়কের মধ্যবর্তী স্থানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন জরুরী। এ বিষয়ে জেলা আইনশৃংখলা রক্ষা কমিটির সভায় আমি ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রতিনিয়তই আলোচনা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*
*

>