আপডেট :»Sunday - 19 November 2017.-
  বাংলা-

কুয়েতে বাংলাদেশ কুরআন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এর উদ্দ্যোগে সুধীজনের সম্মানার্থে বিশেষ ইফতার মাহফিল

কুয়েত প্রতিনিধিঃ ফারওয়ানীয়া কেন্দ্রীয় মার্কাজে কুরআন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ মাওলানা নুরুল আলমের সভাপতিত্বে এবং  মোঃ ওয়াহিদুর রহমানের পরিচালনায় দেশ বিদেশী সুধীজনের সম্মানার্থে বিশেষ এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
রমজানের তাৎপর্য সহ মুসলিম উম্মাহ’র বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন (লন্ডন মেহমান) ইসলামী চিন্তাবীদ ব্যরিষ্টার হামিদ হোসেন আজাদ ও ড: শোয়েব, কুয়েত মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড: আদেল দমকী, জালিয়াত কুয়েত চেয়ারম্যান ড: সুলেমান শাত্তি এবং মাওলানা মোস্তাকুর রহমান।
ইফতার মাহফিলে দেশ-বিদেশী অসংখ্য অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

5 Responses

  1. Ami niomitu banglar barta pore… Amar khub valo lage…. Potrekatir niropakkotay ami khub ANONDDITH

  2. মাদরাসার ধর্মীয় শিক্ষা বন্ধ করার জন্য সকল মন্ত্রী-এমপিকে সবিনয়ে অনুরোধ করছি; মুসলিমদের সকল ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুষ্ঠান কুরআন বিরোধী। প্রমাণ দেখুন-

    প্রচলিত সালাতে যা পাঠ করা হয় তাতে বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিমের সালাত হয় না

    কুরআনে দেখুন, ‘তুমি যে কোন অবস্থায় থাক এবং তুমি তৎসম্পর্কে কুরআন হতে যা তিলাওয়াত কর এবং তোমরা যে কোন কার্য কর, আমি তোমাদের পরিদর্শক যখন তোমরা তাতে প্রবৃত্ত হও। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর অণু পরিমাণও তোমার রবের অগোচর নয় এবং তা অপেক্ষা ক্ষুদ্রতর অথবা বৃহত্তর কিছুই নেই যা সুস্পষ্ট কিতাবে নেই;-১০:৬১। ‘সুস্পষ্ট কিতাবে সব কিছুই আছে;-১১:৬। ‘কিতাবে আমি কোন কিছুই বাদ দেই নি;-৬:৩৮। [আল্লাহর নির্দেশ সালাতে সালাত সম্পর্কে কুরআন থেকে তিলাওয়াত করতে হবে। সালাত ব্যতীত কুরআনের সাথে অন্য কিছু তিলাওয়াত করলে সালাত শিরক মুক্ত হবে কী?]

    প্রচলিত হাদিসে দেখুন, ‘প্রথম শ্রেণির ওহীকে কুরআন এবং দ্বিতীয় শ্রেণির ওহীকে হাদিস বলে;-মেশকাত-১/পৃষ্ঠা-(গ)। ‘কুরআনের আয়াত সালাতে তেলাওয়াত করা হয় এবং একে ‘ওহী মাতলু ও আল্লাহ্র কালাম বলা হয়;- বোখারী শরীফ, পৃষ্ঠা-(১২)।
    ‘মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নবী-রসূলগণের নিকট প্রেরিত সংবাদ বা বাণীকে ওহী বলা হয়। ওহী দুই প্রকার।

    ক. ওহী মাতলু : যে ওহী তিলাওয়াত করা হয়। কুরআন মাজিদ সালাতে তিলাওয়াত করা হয় বলে একে ওহী মাতলু বলা হয়।
    খ. ওহী গায়র মাতলূ : যে ওহী তিলাওয়াত করা হয় না। হাদিস শরীফ সালাতে তিলাওয়াত করা হয় না। এ জন্য একে ওহী গায়র মাতলূ বলে।

    ওহী বিষয়ের অংশটুকু ৭ম শ্রেণির পাঠ্য বই, শিক্ষাবর্ষ-২০১৫ এর ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা, পৃষ্ঠা-১৬ থেকে। অন্যদিকে ‘কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ – দাখিল সপ্তম শ্রেণির পাঠ্য বইয়ের ৬ ও ১৪ পৃষ্ঠা দেখুন- ওহী দুই প্রকার। যথা ১. ওহী মাতলু (পঠিত ওহী), যেমন: কুরআন, সালাতে কুরআন পড়া ফরজ। ২. ওহী গায়র মাতলূ (অপঠিত ওহী), যেমন: হাদিস। ‘আল্লাহ্ তাঁর রাসূলের প্রতি যে সকল ওহী নাযিল করেছেন তা দুই প্রকার।

    প্রথম শ্রেণির ওহী : ‘যে যে শব্দ বা বাক্যের সাথে নাযিল করা হয়েছে তা হুবুহু বহাল রাখতে রাসূল বাধ্য ছিলেন। কুরআন এ-ই শ্রেণির ওহী। একে ‘ওহীয়ে মাত্লূ বলে। সালাতে কেবল এরই তিলাওয়াত করা হয়। [শ্রদ্ধেয় ইমামগণ! ওহীয়ে মাতলূ শিখেছেন কী?]

    দ্বিতীয় শ্রেণির ওহী : দ্বিতীয় শ্রেণির ওহীর শব্দ বা বাক্য অবিকল বজায় রাখতে রাসূল বাধ্য ছিলেন না। ওহী দ্বারা প্রাপ্ত মূল ভাবটিকে তাঁর নিজস্ব ভাষায় প্রকাশ করার অধিকার তাঁকে দেওয়া হয়েছিল। একে ‘ওহীয়ে গায়র মাতলূ’ বলে। একে সালাতে পড়া যায় না। ওহী বিষয়ের অংশটুকু, মেশকাত শরীফ;-১/ওহীর শ্রেণি ও হাদিস’, পৃষ্ঠা ‘(গ)’ থেকে ।

    কুরআনে দেখুন, ‘তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনে শুনে সত্যকে গোপন করো না;-২:৪২; ৩:৭১। ‘দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহ্ সম্বন্ধে সত্য ব্যতীত বলো না;-৪:১৭১। [শ্রদ্ধেয় ইমামগণ! সালাতে ওহীয়ে গায়র মাতলূ পড়েন কেন?]

    কুরআনে দেখুন, ‘বল, হে মানুষ! রাসূল তোমাদের রবের নিকট হতে সত্য এনেছে; সুতরাং তোমরা বিশ্বাস কর, এতে তোমাদের কল্যাণ হবে;-৪:১৭০; ২:২৬; ১৩:১; ২৩:৯০; ৩৪:৬; ৩৫:৩১; ৩৭:৩৭। ‘তোমার রবের নিকট থেকে অবশ্যই সত্য এসেছে;-১০:৯৪। ‘আমি সত্যসহই কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং তা সত্যসহই অবতীর্ণ হয়েছে;-১৭:১০৫; ৩৯:২; ৪২:১৭। [প্রচলিত হাদিস কী আল্লাহ্ সত্যসহ অবতীর্ণ করেছেন?]

    কুরআনে দেখুন, ‘আল্লাহ্ সত্যকে তাঁর কালেমা দ্বারা প্রতিষ্ঠিত করেন এবং কাফিরদের নির্মূল করেন; তা এ জন্য যে, তিনি সত্যকে সত্য ও বাতিলকে বাতিল প্রতিপন্ন করেন, যদিও অপরাধিগণ তা পছন্দ করে না;-৮:৭-৮। ‘অপরাধীরা অপ্রীতিকর মনে করলেও আল্লাহ্ তাঁর কালেমা অনুযায়ী সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন;-১০:৮২। বল, ‘সত্য এসেছে এবং বাতিল বিলুপ্ত হয়েছে; বাতিল তো বিলুপ্ত হবারই;-১৭:৮১। ‘আমি সত্য দ্বারা আঘাত হানি বাতিলের ওপর; ফলে তা বাতিলকে চুর্ণ-বিচুর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ বাতিল নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। দুর্ভোগ তোমাদের! তোমরা যা বলছো তার জন্য;-২১:১৮; ৩৪:৪৮।’ বল, ‘সত্য এসেছে এবং বাতিল না পারে নূতন কিছু সৃজন করতে, আর না পারে পুনরাবৃত্তি করতে;-৩৪:৪৯। ‘আল্লাহ্ বাতিলকে মুছে দেন এবং নিজ কালেমা দ্বারা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন;-৪২:২৪। [আল্লাহ্ প্রচলিত হাদিসে ঈমান আনতে বলেছেন কী?]

    [বাংলাদেশের প্রতিটি নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এবং দাখিল মাদ্রাসার লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীকে ওহী গায়র মাতলু শিক্ষা দেওয়া হয়। যা সালাতে তিলাওয়াতযোগ্য নয় অথচ প্রতিদিন প্রতি ওয়াক্তে দুই রাকাত সালাতে ১. নিয়ত (নাওয়াইতু আন উছালিয়া ….), ২. আল্লাহু আকবার, ৩. ‘আঊযূবিল্লাহি-…., ৪. সানা (সুব্হানাকা….) ৫. (ফাতিহার পরে) আমিন, ৬. আল্লাহু আকবার, ৭. (রুকূতে) সুব্হানা রাব্বিয়াল আযিম (কমপক্ষে তিনবার), ৮. ছামিয়াল্লা হুলিমান হামিদা, ৯. রাব্বানা লাকাল হামদ, ১০. আল্লাহু আকবার, ১১. (সিজদায়) সুবহানা রাব্বি আল্ আলা (কম পক্ষে তিন বার), ১২. আল্লাহু আকবার, ১৩. (দুই সিজদার মাঝে) রাব্বিগ ফিরলি-…., ১৪. (২য় সিজদায়) সুবহানা রাব্বি আল্ আলা (কম পক্ষে তিন বার), ১৫. আল্লাহু আকবার, ১৬. (ফাতিহার পরে) আমিন, ১৭. আল্লাহু আকবার, ১৮. (রুকুতে) সুব্হানা রাব্বিয়াল আযিম (কমপক্ষে তিনবার), ১৯. ছামিয়াল্লা হুলিমান হামিদা, ২০. রাব্বানা লাকাল হামদ, ২১. আল্লাহু আকবার, ২২. (সিজদায়) সুবহানা রাব্বি আল্ আলা (কম পক্ষে তিন বার), ২৩. আল্লাহু আকবার, ২৪. (দুই সিজদার মাঝে) রাব্বিগ ফিরলি…., ২৫. (২য় সিজদায়) সুবহানা রাব্বি আল্ আলা (কম পক্ষে তিন বার), ২৬. আল্লাহু আকবার, ২৭. (শেষ বৈঠকে) আত্তাহিয়্যাতু…., ২৮. দরূদ…., ২৯. দু’আ মাসুরা…. এবং ৩০. আহলে হাদিসেরা বলেন, ‘আল্লাহু আক্বার আলহামদুলিল্লাহ হামদান-কাছীরান তায়্যিবান মুবারাকান ফীহি এবং ৩১. সালাত শেষ করা হয় যে সালামের মাধ্যমে তাও ওহী গায়র মাতলু। ওহীর প্রকার ভেদে যা শিক্ষা দেওয়া হয় সে-ই অনুসারে পৃথিবীর কোটি কোটি মুসলিমদের যারা প্রচলিত সালাত পড়ে তাদের সালাত হয় কী?

    যারা বলেন, সালাতে হাদিস পাঠ করা হয় না, তাদের কাছে প্রশ্ন: জোহর, আসর, সূন্নত ও নফল সালাতে আপনারা কি তিলাওয়াত করেন? আর মহিলারা সালাতে কি তিলাওয়াত করে? সালাতের মধ্যে যখন আল্লাহ্র বান্দা (৭২:১৯) মুহাম্মাদের জন্য ইব্রাহীমের মত শান্তি, রহমত ও বরকত কামনা করা হয়, তখন মুহাম্মাদ রাসূল হিসেবে সর্বশ্রেষ্ঠ থাকেন কী?] ‘আল্লাহ্ নিকট নিকৃষ্ট জীব সে-ই বধির ও মূক যারা কিছুই বুঝে না;-৮:২২, ৫৫। ‘যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে তারা বধির ও মূক, অন্ধকারে রয়েছে;-৬:৩৯। [আল্লাহর আলোতে সালাত শিরকমুক্ত (৪:৪৮, ১১৬) করার প্রয়োজন আছে কী?]

    কুরআনে দেখুন, ‘হে মু’মিনগণ! ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য প্রার্থনা কর;-২:৪৫, ১৫৩। ‘সালাতের স্বর উচ্চ করো না এবং অতিশয় ক্ষীণ করো না; এ-ই দুয়ের মধ্য পথ অবলম্বন কর;-১৭:১১০। [সালাতে রাব্বি ও রাব্বানা দিয়ে প্রার্থনা করলে পুরস্কার প্রাপ্তির ঘোষণা রয়েছে (২:২৫০-২৫১; ৩:১৪৬-১৪৮, ১৯১-১৯৫; ৫:৮৩-৮৫; ৭:১৫৫-১৫৬; ২৩:১০৯-১১১; ২৫:৭৪-৭৬; ৪৬:১৫-১৬; ৬০:৪-৬; ৬৬:৮)। ‘আল্লাহু আকবর’ শব্দও কুরআনে হুবুহু নেই। ‘রাব্বুনাল্লাহু’ বললে পুরস্কারের ঘোষণা রয়েছে (৪১:৩০-৩২; ৪৬:১৩-১৪)। ইমাম সাহেবগণ! আপনারা আল্লাহ্র নির্দেশ মত ‘সালাতের মাধ্যমে প্রার্থনা এবং মধ্যম স্বরে সালাত পাঠ করেন কী? একক আল্লাহ্ ছাড়া আপনাদের রব কত জন?]

    কুরআনে দেখুন, ‘তিনি তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন দীন যার নির্দেশ দিয়েছিলাম নূহ্কে, আর যা আমি ওহী করেছি তোমাকে (মুহাম্মাদকে) এবং যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইব্রাহীম, মূসা ও ‘ঈসাকে, এ বলে যে, তোমরা দীনকে প্রতিষ্ঠিত কর এবং তাতে মতভেদ করো না…;৪২:১৩। [প্রশ্নঃ নূহ, ইব্রাহীম, মূসা ও ‘ঈসা নবী কিভাবে সালাত পড়েছিলেন?]

    কুরআনে দেখুন, ‘আল্লাহ্ সৎপথে পরিচালিত করেছিলেন ১. ইব্রাহীম, ২. ইসহাক, ৩. ইয়া’কুব, ৪. নূহ, ৫. দাঊদ, ৬. সুলাইমান, ৭. আইউব, ৮. ইউসুফ, ৯. মূসা, ১০. হারুন, ১১. যাকারিয়া, ১২. ইয়াহ্য়া, ১৩. ঈসা, ১৪. ইল্য়াস, ১৫. ইস্মা’ঈল, ১৬. আল্-য়াসা’আ, ১৭. ইয়ূনুস্ ও ১৮. লূতকে, এবং শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলাম বিশ্বজগতের উপর প্রত্যেককে- ……. আমি তাদেরকেই কিতাব, কর্তৃত্ব ও নুবূওয়াত দান করেছি, ……. তাদেরকেই আল্লাহ সৎপথে পরিচালিত করেছেন, সুতরাং তুমি (মুহাম্মাদ) তাদের পথের অনুসরণ কর। বল, ‘এর জন্য আমি তোমাদের নিকট পারিশ্রমিক চাই না, এ তো শু বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ;-৬:৮৩-৯০। [প্রশ্ন হলো উপরোক্ত নবীগণ কিভাবে সালাত পড়েছিলেন?]

    প্রচলিত হাদিসে দেখুন, ‘ফজরের সালাতে সূরা বাকারা [মোট ২৮৬ আয়াত] পড়লেন (মালেক);-মেশকাত-২/৮০৩। ‘সূরা ইউসূফ [মোট ১১১ আয়াত] ফজরের সালাতে পুনঃ পুনঃ পড়তে শুনেছি (মালেক);-মেশকাত-২/৮০৪। ‘ফজরের সালাতে সূরা ইউসূফ [মোট ১১১ আয়াত] ও সূরা হজ্জ [মোট ৭৮ আয়াত] পড়তেন (মালেক);-মেশকাত-২/৮০৫। ‘রাসূল নিজে সূরা সাফ্ফাত [মোট ১৮২ আয়াত] দ্বারা আমাদের ইমামত করতেন (নাসাঈ);-মেশকাত-৩/১০৬৭। রাসূল জোহর ও আসরের সালাতে সূরা-ওয়াল্লাই লি-ইজা ইয়াগশা [সূরা লায়ল, মোট ২১ আয়াত] ও সূরা-সাব্বিহিছ্ মা-রাব্বিকাল আ’লা [সূরা আলা, মোট ১৯ আয়াত] পড়তেন (মুসলিম);-মেশকাত-২/৭৭২। রাসূল জোহর ও আসরের সালাতে প্রথম দুই রাকাতে ‘সূরা ফাতিহা এবং অপর দুইটি সূরা পড়তেন ও শেষ দুই রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়তেন (বুখারি-মুসলিম);-মেশকাত-২/৭৭০। ‘রাসূল মাগরিবের সালাতে সূরা আ‘রাফ [মোট ২০৬ আয়াত] পড়তেন (নাসাঈ);-মেশকাত-২/৭৮৯। ‘রাসূল মাগরিবের সালাতে সূরা ‘হা-মীম আদ্দুখান [মোট ৫৯ আয়াত] পড়েছেন (নাসাঈ);-মেশকাত-২/৮০৭। ‘রাত্রের সালাতে রাসূল ‘সূরা বাকারা [মোট ২৮৬ আয়াত], সূরা আলে ইমরান [মোট ২০০ আয়াত], সূরা নিসা [মোট ১৭৬ আয়াত] ও সূরা মায়েদা [মোট ১২০ আয়াত] বা আন্আম [মোট ১৬৫ আয়াত] পাঠ করতেন (আবূ দাঊদ);-মেশকাত-৩/১১৩২। [ইমাম সাহেবগণ! আপনারা রাসূলের অনুসারণ করলে সালাতে পূর্ণ সূরা বাকারা, সাফফাত বা ইমরান পড়েন কী? জোহর ও আসরের সালাতে আপনারা কি পাঠ করেন তা শুনা যায় না কেন? সালাতে ওহী মাতলু (কুরআন) পড়বেন আর ওহী গায়র মাতলু (হাদিস) পড়া বন্ধ করবেন কী?]

    প্রচলিত হাদিসে দেখুন, ‘যখন তোমাদের কেউ মসজিদে আসবে সে যেন দেখে : যদি তার জুতায় ময়লা আছে, তা হলে যেন তা মুছে ফেলে এবং জুতাসহকারেই সালাত পড়ে (আবূ দাঊদ ও দারেমী);-মেশকাত-২/৭১০। রাসূল সালাতের সময় জুতা ডানে বা বামে না রেখে নিজের দুই পায়ের মধ্যখানে রেখে অথবা জুতাসহই সালাত পড়তে বলেছেন (আবূদাঊদ ও ইবনু মাযা);-মেশকাত-২/৭১১। ‘রাসূল খালি পায়ে ও জুতাসহকারে সালাত পড়েছেন (আবূদাঊদ);-মেশকাত-২/৭১৩। রাসূল ইহুদীদের বিরোধিতা করে জুতা ও মোজাসহকারে সালাত পড়তে বলেছেন;-মেশকাত-২/৭০৯। [ইমাম সাহেবগণ! আপনাদের মত রাসূল জুতা বামে, ডানে বা সামনে রেখে সালাত পড়েছেন কী?]

    কুরআনে দেখুন, ‘তবে কি তোমরা কিতাবের (কুরআনের) কিছু অংশে বিশ্বাস কর এবং কিছু অংশ প্রত্যাখান কর? সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করে তাদের একমাত্র প্রতিফল দুনিয়ার জীবনে হীনতা এবং কিয়ামতের দিন তারা কঠিনতম শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত হবে …. তারাই আখিরাতের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবন ক্রয় করে; সুতরাং তাদের শাস্তি লাঘব করা হবে না এবং তারা কোন সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না;-২:৮৫-৮৬। [ইমাম সাহেবগণ! আল্লাহ্ নির্দেশ অমান্য করে আপনারা কুরআনের আংশিক মানেন কেন? আল্লাহ্ ব্যতীত আপনাদের অন্য রব আছে কী? থাকলে সে-ই রবের পরিচয় দিবেন কী?] ‘যারা আল্লাহকে অস্বীকার করে ও তাঁর রাসূলদেরকেও এবং আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের মধ্যে ঈমানের ব্যাপারে তারতম্য করতে চায় এবং বলে, ‘আমরা কতক বিশ্বাস করি ও কতক অবিশ্বাস করি’ আর তারা মধ্যবর্তী কোন পথ অবলম্বন করতে চায়, তারাই প্রকৃত কাফির এবং কাফিরদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত রেখেছি;-৪:১৫০-১৫১। [উপরোক্ত আয়াত অনুসারে আল্লাহ্র কিতাবের আংশিক অনুসরণ করলেই কাফির হয়। ইমাম সাহেবগণ! আপনারা কাফির চিনেন কী? কুরআন অনুসারে আপনাদের পরিচয় কাফির না মুসলিম?] ‘মানুষকে ভয় করো না, আমাকেই ভয় কর এবং আমার আয়াতসমূহ তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করো না। আল্লাহ্ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না, তারাই কাফির;-৫:৪৪। [যারা সালাতে কুরআনের আংশিক এবং রাসূলের হাদিস নামে আংশিক পাঠ করে উপরোক্ত আয়াত অনুসারে তারা কাফির না মুসলিম? ইমাম সাহেবগণ জবাব দিবেন কী?]

    ‘সত্য কখনো গোপন থাকে না’ গ্রন্থের সর্বশেষ সংস্করণ থেকে সংকলিত।

    ‘লিগ্যাল নোটিশ’
    সংবিধানের ধর্মীয় স্বাধীনতার আলোকে মুসলিমগণ দুনিয়া ও আখিরাতে মুক্তির জন্য কুরআনের অনুসরণ করবে। দেশের শান্তি ও আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা করে সংকলককে যারা বার বার ধর্মবিরোধী বলেছে, বিভিন্ন রকম অত্যাচার করেছে, ঘুমন্ত অবস্থায় স্বপরিবারে পুড়িয়ে মারার জন্য ঘরের মধ্যে ১০ লিটার পেট্রোল দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল তাদের নিকট নারায়ণগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও গাজীপুরে মোট ১০ টি লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়, তার কোনটির জবাব মেলেনি। সংকলককে দাওয়াত পত্র পাঠিয়ে যিনি তার একটি প্রশ্নেরও জবাব দেননি, সে নোটিশটি পাঠকের জ্ঞাতার্থে এই সংকলনের সাথে সংযোজন করা হলো-

    ৩য় লিগ্যাল নোটিশ তারিখ-০৭/০৯/২০০৮খৃঃ
    প্রেরকঃ মোঃ আমিরুল ইসলাম, সহকারী প্রধান শিক্ষক, …. বড়ই বাড়ী এ. কে. ইউ. ইনস্টিটিউশন ও কলেজ, কালিয়াকৈর, গাজীপুর। সাবেক সিনিয়র শিক্ষক (ইংরেজি), জালকুড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জ।

    মাধ্যমঃ মোঃ আব্দুর রব হাওলাদার, …. এ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট, ঢাকা। ১৬/২/১ ব্রাহ্মণ চিরণ, গোলাপবাগ, থানা-ডেমরা, ঢাকা-১২০৩। মোবাইল-০১৬৭৩৯৯৯৮৭৭। ফোন-৭৫৪৮১৪১।

    প্রতিঃ জনাব, প্রফেসর ডাঃ মোঃ মতিয়ার রহমান, …. ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল …. ৫৩/১, জনসন রোড, ঢাকা-১১০০। চেয়ারম্যান, কুরআন গবেষনা ফাউন্ডেশন ও সেক্রেটারী, কুরআন শিক্ষা সোসাইটি, ঢাকা।

    জনাব,
    সালামুন আলাইকা। আমার উপরে বর্ণিত মোয়াক্কেল কর্তৃক নিযুক্ত হয়ে তার সাথে আলোচনা করে তার বক্তব্য অনুসারে আপনাকে নিম্ন লিখিত আকারে ও প্রকারে চেয়ারম্যান, কুরআন গবেষনা ফাউন্ডেশন, ঢাকা এবং সেক্রেটারী, কুরআন শিক্ষা সোসাইটি, ঢাকা হিসেবে ৩য় লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করা হলো। ২য় লিগ্যাল নোটিশের পর আপনার প্যাডবিহীন সাদা কাগজে ১৬/০৩/০৮ তারিখে আমার মোয়াক্কেল এর নিকট আপনি একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। ২১/০১/০৮ তারিখে দেয় ১ম লিগ্যাল নোটিশের জবাব পাওয়ার আশায় আমার মোয়াক্কেল উক্ত চিঠির জবাবে গত ২৩/০৩/০৮ তারিখে উক্ত লিগ্যাল নোটিশের একটি ফটোকপি পাঠিয়েছিলেন। জবাব না পাওয়ায় ৩য় লিগ্যাল নোটিশ হিসেবে আপনার মান মর্যদা রক্ষার্থে উক্ত ২১/০১/০৮ তারিখে দেয় ১ম লিগ্যাল নোটিশের প্রায় হুবহু কপি নিম্নে প্রদান করা হলো-

    প্রতি ইংরেজি মাসের প্রথম শুক্রবারে আপনি কুরআন নিয়ে বিষয় ভিক্তিক আলোচনা করেন। আপনার আলোচনার শেষে শ্রোতাদের নিকট হতে লিখিত প্রশ্ন নেন জবাব দেওয়ার জন্য। আমার মোয়াক্কেল বিগত ০৭/১২/০৭ তারিখে ১৬টি প্রশ্ন সম্বলিত কম্পিউটার টাইপ করা প্রশ্নগুলির এক কপি আপানার নিকট এবং অুনষ্ঠান শেষে আপনার হাতে আরও একটি প্রশ্নের কপি দিয়েছিলেন। তা হতে আপনি একটি প্রশ্নেরও জবাব না দেওয়ায় আমার মোয়াক্কেল বিশেষভাবে আহত হয়ে আপনাকে লিগ্যাল নোটিশ দিতে বাধ্য হলেন। এ নোটিশের সাথে বিগত ০৭/১২/০৭ তারিখে আপনাকে দেয়া প্রশ্নগুলো নিম্নলিখিত ভাবে পুণ: সংযুক্ত করা হলো। যার জবাব লিখিতভাবে প্রদান করার জন্য আপনাকে অনুরোধ করা হলো।

    ‘বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহীম’
    শ্রদ্ধাভাজন স্যার,
    সালামুন আলাইকা। আল্লাহ্ বলেন, ‘কুরআন বিধানসমূহের বিশদ ব্যাখ্যা;-সূরা-১০, ইউনুস, আয়াত-৩৭। কুরআন মুসলিমদের জন্য প্রত্যেক বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা, পথ নির্দেশ, দয়া ও সুসংবাদস্বরূপ;-সুরা-১৬, নাহল, আয়াত-৮৯। তাই আশা করি, কুরানিয়া অনুষ্ঠানে, বিধানসমূহের বিশদ ব্যাখ্যা কুরআন নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনার ২য় দিনে সালাত সম্পর্কে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর বুঝিয়ে বললে আপনার নিকট কৃতজ্ঞ থাকব।

    ১। আল্লাহ্ বলেন, ‘নিশ্চয়ই সাফল্য লাভ করবে যে পবিত্রতা অর্জন করে এবং তার রবের নাম স্মরণ করে ও সালাতে (প্রার্থনাতে) দাঁড়ায়;-সূরা-৮৭, আ‘লা, আয়াত-১৪, ১৫। তিরমিযির এক হাদিসে বলা হয়েছে – রাসূল (সাঃ) ‘বিস্মিল্লাহির্ রাহমানির রাহীম’ দ্বারা সালাত আরম্ভ করতেন;-মেশকাত-২/৭৮৬। প্রশ্নঃ আমরা প্রত্যেকটি কাজ শুরুর আগে বিস্মিল্লাহ্ বলি। ১১৩টি সূরার শুরুতে বিস্মিল্লাহ্ বলা হয়; কিন্তু সালাত (প্রার্থনা) করা সময় সালাতের মুসাল্লায় দাঁড়িয়ে ১. ইন্নিওয়াজ্জাহ্তু …. ২. নাওয়াতু আন উছাল্লিয়া …. ৩. আল্লাহু আকবর, ৪. ছুব্হানাকা …. ৫. আওজুবিল্লাহ্ …. তার পরে, ৬. ‘বিস্মিল্লাহির্ রাহমানির রাহীম’ পড়ার কারণ কি?

    ২। আল্লাহ্ বলেন, ‘যখন কুরআন পাঠ করবে তখন অভিশপ্ত শয়তান হতে আল্লাহর শরণ নিবে;-সূরা-১৬, নাহ্ল, আয়াত-৯৮। সালাতের জন্য মুছাল্লায় দাঁড়িয়ে প্রথমেই বলা হয়- ‘ইন্নিওয়াজ্জাহ্তু অয়াজ হিয়্যালিল্লাজি …. সূরা-৬, আন্আম, আয়াত-৭৯। প্রশ্ন: এ তো কুরআনের আয়াত যা সালাতের শুরুতে পাঠ করা হয়। কিন্তু সালাতের শুরুতে নাহলের ৯৮ আয়াত অনুসারে অভিশপ্ত শয়তান হতে আল্লাহকে শরণ না করার কারণ কি?

    ৩। আল্লাহ্ বলেন, ‘সালাতের স্বর উচ্চ করো না এবং নীরব করো না; এ দুইয়ের মধ্য পথ অবলম্বন কর;-সূরা-১৭, বনী ইসরাইল, আয়াত-১১০। প্রশ্ন: উক্ত আয়াতকে প্রত্যাখ্যান করে কোন্ কোন্ আয়াত দলিল হিসেবে গ্রহণ করতঃ কখনও উচ্চ, কখনও নিরব এবং কখনও উচ্চ ও নিরব উভয় স্বরেই সালাত (প্রার্থনা) করা হয়?

    ৪। আল্লাহ্ বলেন, ‘যখন কুরআন পাঠ করা হয় তখন তোমরা মনোযোগের সাথে তা শ্রবণ করবে এবং নিশ্চুপ হয়ে থাকবে যাতে তোমাদের প্রতি দয়া করা হয়;-সূরা-৭, আ‘রাফ, আয়াত-২০৪। প্রশ্ন: যোহর ও আসর সালাতে ইমামগণ কোন কোন আয়াত অনুসারে মধ্যম স্বরে না পড়ে মনে মনে কুরআন পাঠ করেন এবং মুক্তাদীরা কুরআন পাঠ না শুনে কোন্ কোন্ আয়াত অনুসারে নিশ্চুপ থাকেন?

    ৫। আল্লাহ্ বলেন, ‘তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর;-সূরা-২, বাকারা, আয়াত-৪৫ ও ১৫৩। প্রশ্ন: উক্ত আয়াতদ্বয়কে প্রত্যাখ্যান করে কোন কোন আয়াত দলিল হিসেবে সালাতের মাধ্যমে প্রার্থনা না করে আল্লাহকে কুরআন পাঠ করে শুনানো হয়? যেমন-সালাতে আল্লাহকে শুনানো হয়-‘তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্য ক্ষেত্র। অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পার;-সূরা-২, বাকারা, আয়াত-২২৩।

    ৬। আল্লাহ্ বলেন, ‘তুমি যে কোন অবস্থায় থাকো এবং তুমি তৎসম্পর্কে কুরআন হতে যা তিলাওয়াত কর এবং তোমরা যে কোন কার্য কর, আমি তোমাদের পরিদর্শক;-সূরা-১০, ইউনুস, আয়াত-৬১। আল্লাহ্ নবীকে আরও বলেন, ‘বল, ‘নিজ হতে এ বদলানো আমার কাজ নয়। আমার প্রতি যা ওহী হয় আমি শুধূ তারই অনুসরণ করি (১০:১৫; ৬:৫০, ১০৬; ৭:২০৩; ১০:১০৯; ২১:৪৫; ৩৩:২; ৪৬:৯)। আল্লাহ্ আরও বলেন, ‘তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ কর না কেন – তার মীমাংসা তো আল্লাহরই নিকট;-সূরা-৪২, শুরা, আয়াত-১০। প্রশ্ন: উক্ত আয়াতগুলো অনুসারে আল্লাহর নবী প্রত্যেকটি বিষয় কুরআন থেকে পাঠ করতেন। তিনি ওহীর অনুসরণ করতেন। রুকু, সিজদা ও তাশাহুদে কুরআন থেকে পাঠ করার মত কি কোন আয়াত নেই? থাকলে সেগুলো কোন কোন আয়াত?

    ৭। কুরআনে ‘আমিন’ শব্দের অর্থ বিশ্বস্ত লেখা হয়েছে নিম্ন লিখিত আয়াতে- সূরা-৭, আরাফ, আয়াত-৬৮; সূরা-১২, ইউসুফ, আয়াত-৫৪; সূরা-২৬, শু‘আরা’, আয়াত-১০৭, ১২৫, ১৪৩, ১৬২ ও ১৭৮; সূরা-২৭, নামল, আয়াত-৩৯; সূরা-২৮, কাসাস, আয়াত-২৬; সূরা-৪৪, দুখান, আয়াত-১৮। যিনি জমি মাপেন অর্থাৎ ‘ভূমি জরিপকারী’ তাকেও ‘আমিন’ বলা হয়। নবী মুহাম্মাদকেও ‘আল্ আমিন’ বলা হত। প্রশ্ন: সূরা-১৪, ইব্রাহীমের ৪০ আয়াতের-‘রব্বানা ওতাক্বাব্বাল দু‘আ-য়ি’ অর্থাৎ ‘আমাদের রব! আমার প্রার্থনা কবুল করুন।’ না বলে, প্রার্থনা শেষে ‘আমিন’ বলার কারণ কি?

    ৮। আল্লাহ্ বলেন, ‘তাদের সম্পদ হতে সদ্কা গ্রহণ কর। তা দ্বারা তাদের পবিত্র ও পরিশোধিত কর এবং তাদের জন্য দু‘আ কর;-সূরা-৯, তাওবা, আয়াত-১০৩। প্রশ্ন: উক্ত আয়াত অনুসারে সদ্কা আদায় করে তার জন্য দু’আ না করে সালাতের শেষে কোন কোন আয়াত অনুসারে প্রার্থনা করা হয়?

    ৯। ‘মু’মিনগণ রাসুলগণের মধ্যে পার্থক্য করে না;-সূরা-২, বাকারা, আয়াত-২৮৫; আমরা নবীদের মধ্যে কোন পার্থক্য করি না;-সূরা-২, বাকারা, আয়াত-১৩৬; এবং সূরা-৩, আলে-ইমরান, আয়াত-৮৪। ‘যারা রাসূলগণের মধ্যে পার্থক্য করে না তারা পুরস্কার পাবে;-সূরা-৪, নিসা, আয়াত-১৫২। আমরা নবী মুহাম্মাদকে নবীদের সর্দার বলি; কিন্তু দরূদে ইব্রাহীমে বলি- আল্লাহুম্মা সাল্লি আ’লা …. অর্থাৎ আল্লাহ্! আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিজনের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন যেভাবে রহমত বর্ষণ করেছেন ইব্রাহীম ও ইব্রাহীমের পরিজনের প্রতি ….। প্রশ্ন: সালাতের মধ্যে এ দু‘আ পাঠ করে রাসূল মুহাম্মাদ ও রাসূল ইব্রাহীমের মধ্যে পার্থক্য করার কারণ কি?

    ১০। আল্লাহ্ বলেন, ‘আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাউকে ডেকো না;-সূরা-৭২, জিন, আয়াত-১৮। ‘তুমি আল্লাহর সাথে অন্য কোন ইলাহকে ডেকো না, ডাকলে তুমি শাস্তি প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে;-সূরা-২৬, শু‘আরা, আয়াত-২১৩। আমরা তাশাহুদে বলি-‘আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি …. অর্থাৎ সমস্ত সম্মান, শান্তি ও পবিত্র বিষয় আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। প্রশ্ন: সালাতের মধ্যে তাশাহুদে আল্লাহর সংগে নবীকে ডাকার কারণ কি?

    ১১। আল্লাহ্ বলেন, ‘তুমি আমার সূন্নাতের কোন পরিবর্তন পাবে না;- সূরা-১৭, বনী ইস্রাঈল, আয়াত-৭৭। ‘তুমি আল্লাহর সূন্নাতের কোন পরিবর্তন পাবে না;- সূরা-৩৫, ফাতির, আয়াত-৪৩। আল্লাহর সূন্নাত;- সূরা-৩৩, আহযাব, আয়াত-৩৮, ৬২; সূরা-৪০, মু’মিন, আয়াত-৮৫। প্রশ্ন: আমরা ৫ ওয়াক্ত সালাতে রাসূলের সূন্নাত নামে সূন্নাত সালাত (প্রার্থনা) করি। দাঁড়ি রাখা, টুপি মাথায় দেওয়া বা মিষ্টি খাওয়াও না-কি রাসূলের সূন্নাত। তাহলে উক্ত আয়াতগুলো অনুসারে ‘আল্লাহর সূন্নাতগুলো’ কি কি?

    ১২। বুখারি, মুসলিম ও ইব্নুমাযায় বলা হয়েছে- ‘সালাত ২ রাকাত করে ফরয হয়েছিল এবং হিযরতের পর ৪ রাকাত করে ফরয হয়;-মেশকাত-৩/১২৭০। রাসূল সফরের সালাত দুই রাকাত পড়ার নিয়ম প্রবর্তন করেছেন এবং এ দু রাকাতই হলো পূর্ণ সালাত, কসর নহে;-মেশকাত-৩/১২৭২। প্রশ্ন: হাদিসগুলো সত্য হলে ফযর, জুম’আ ও ঈদের সালাত ২ রাকাত থাকল এবং মাগরিবের সালাত ৩ রাকাত হওয়ার কারণ কি?

    ১৩। আল্লাহ্ বলেন, ‘হে র্মাইয়াম! তোমার রবের অনুগত হও ও সিজ্দা কর এবং যারা রুকু করে তাদের সহিত রুকু কর;-সূরা-৩, আলে-ইমরান, আয়াত-৪৩। ‘তোমরা সালাত কায়েম কর ও যাকাত দাও এবং যারা রুকু করে তাদের সাথে রুকু কর;-সূরা-২, বাকারা, আয়াত-৪৩। প্রশ্ন: নারী-পুরুষ সকলকেই আল্লাহ্ রুকু কারীদের সাথে রুকু করতে বলেছেন। দুই রাকাত ফরয সালাত ইমামের সংগে কায়েম করতে গিয়ে ১০ বার ইমামের প্রতি আস্থা হারানোর কারণ কি? মুক্তাদিরা নিজেরা বললে এক্তেদা থাকে কি?

    [১. ছুব্হানাকা ১ বার, ২. রুকুতে ২ বার, ৩. সিজদায় ৪ বার, ৪. দুই সিজদার মাঝখানে ২ বার, ৫. শেষ বৈঠকে ১ বার মোট ১০ বার।], তাছাড়া উক্ত আয়াতদ্বয় অনুসারে প্রতিটি মসজিদে মহিলাদের সালাত কায়েম না করার কারণ কি?

    ১৪। আল্লাহ্ বলেন, ‘অতঃপর অযোগ্য উত্তরপুরুষগণ একের পর এক তাদের স্থলাভিষিক্তরূপে কিতাবের উত্তরাধিকারী হয়, তারা এ তুচ্ছ দুনিয়ার সামগ্রী গ্রহণ করে এবং বলে, ‘আমাদের ক্ষমা করা হবে …. ;-সূরা-৭, আ‘রাফ, আয়াত-১৬৯। ‘…. তাদের পরে আসলো অপদার্থ পরবর্তীগণ, তারা সালাত নষ্ট করল ও লালাসা-পরবশ হলো;-সূরা-১৯, র্মাইয়াম, আয়াত-৫৯। আল্লাহ্ আরও বলেন, ‘অনুসরণ করো তাদের, যারা তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চায় না এবং যারা সৎপথপ্রাপ্ত;-সূরা-৩৬, ইয়াসীন, আয়াত-২১। তাদের আল্লাহ্ সৎপথে পরিচালিত করেছেন, সুতরাং তুমি তাদের পথের অনুসরণ কর। বল, এর জন্য আমি তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চায় না, এ তো শুধু বিশ্ব জগতের জন্য উপদেশ;-সূরা-৬, আন্আম, আয়াত-৯০। আরও দেখুন-১০:৭২; ১১:২৯, ৫১; ১২:১০৪; ২৫:৫৭; ২৬:১০৯, ১২৭, ১৪৫, ১৬৪, ১৮০; ৩৪:৪৭; ৩৮:৮৬ আয়াত।

    ‘আল্লাহ্ যে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যারা তা গোপন রাখে ও বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করে তারা নিজেদের উদরে জাহান্নামের আগুন ব্যতীত আর কিছুই ভক্ষণ করে না। কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তাদের সাথে কথা বলবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। তাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে;-সূরা-২, বাকারা, আয়াত-১৭৪। প্রশ্নঃ উপরোক্ত আয়াতগুলো অনুসারে কুরআনের আয়াত গোপন করে সালাত নষ্ট করে যারা সালাত কায়েম করার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করেন তারা জাহান্নামি নয় কি? যারা জাহান্নামিদের অনুসরণ করে তারাও জাহান্নামি নয় কি?

    ১৫। আল্লাহ্ বলেন, ‘তোমরা যখন পৃথিবীতে ভ্রমন করবে তখন যদি তোমাদের আশংকা হয় হয় যে, কাফিররা তোমাদের জন্য ফিতনা সৃষ্টি করবে, তবে সালাত কসর (সংক্ষিপ্ত) করলে তোমাদের কোন দোষ নেই। কাফিররা তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু;-সূরা-৪, নিসা, আয়াত-১০১। প্রশ্নঃ বর্তমানে সালাত কায়েম করলে কাফিররা কোন প্রকার ভীতি প্রদর্শন বা ফিত্না সৃষ্টি করে না। কিন্তু ভ্রমণকালে অধিকাংশ মুসলিমের আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে সালাত কসর (সংক্ষিপ্ত) করার কারণ কি?

    ১৬। আল্লাহ্ বলেন, ‘মানুষকে ভয় করো না, আমাকেই ভয় কর এবং আমার আয়াতসমূহ তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করো না। আল্লাহ্ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না, তারাই কাফির;-সূরা-৫, মায়িদা, আয়াত-৪৪। ‘কেবল কাফিররাই আমার আয়াত অস্বীকার করে;-সূরা-২৯, আনকাবুত, আয়াত-৪৭। আল্লাহ্ আরও বলেন, ‘কাফিরদের প্রার্থনা ব্যর্থই হয়;- সূরা-১৩, রা’দ, আয়াত-১৪ ও সূরা-৪০, মু‘মিন, আয়াত-৫০। প্রশ্নঃ কুরআন অনুসারে প্রচলিত সালাত কাফিরদের সালাত। ফলে সালাত ব্যর্থ হচ্ছে একথা সত্য নয় কি?

    ধন্যবাদান্তে-
    (মোঃ আমিরুল ইসলাম)
    সিনিয়র শিক্ষক
    জালকুড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জ।
    মোবাইল-০১৯১৮৫১৬৫১৩/০১৮১৬৭৪৩২৭৬।
    আপনার দাওয়াত পত্রের ২য় পৃষ্ঠায় ৪৭ নং সূরা মুহাম্মাদ এর ২৪ আয়াতের উল্লেখ আছে-‘তারা কি কুরআন নিয়ে চিন্তা- গবেষণা করে না? না তাদের অন্তরে তালা পড়ে গেছে?

    অতিরিক্ত প্রশ্ন:-১। আপনার নিজের অন্তরের চিন্তা করুন- কুরআনুন করিমে (৫৬:৭৭) প্রায় ১০০ বার ‘সালাত’ শব্দ লিখা আছে। তা কি আপনার অন্তরে প্রবেশ করেছে? আপনি ‘সালাত’ শব্দটি মুখে বলতে এবং লিখতেও পারেন না কেন?।

    অতিরিক্ত প্রশ্ন:-২। কুরআনে যেখানেই সালাত আছে প্রায় সেখানে যাকাতের উল্লেখ আছে। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে ‘হাইয়্যালাস সালাতের সাথে হাইয়্যালাল ফালার অর্থাৎ কল্যাণের জন্য আসুন বলে ডাক দেয়া হয়। কিন্তু কুরআন – হাদিস অনুসারে প্রতিটি মুসলিম মুসল্লীর ওপর যাকাত ফরয। প্রতিদিন সালাত (প্রার্থনা) করার সময় যাকাত আদায়-বন্টণ করে মুসল্লীদের কল্যাণ করার ব্যাপারে আপনি মুখ খোলেন না কেন?

    অত্র নোটিশ প্রাপ্তির ০৭ দিনের মধ্যে জবাব দিবেন। অন্যথায় আপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ……….
    ধন্যবাদান্তে
    আবদুর রব হাওলাদার
    ০৭/০৯/২০০৮
    এ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট, ঢাকা।
    অবগত করা হয় সচিব, ধর্ম মন্ত্রণালয়, চেয়ারম্যান, দূর্নীতি দমন কমিশন, চেয়ারম্যান, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও মহা-পরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশকে।

    ‘সত্য কখনো গোপন থাকে না’ গ্রন্থের সর্বশেষ সংস্করণ থেকে সংকলিত।

    ‘কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব

    তারিখ : ১৫/০৬/২০১৫ খ্রি:

    বরাবর
    প্রধান শিক্ষক
    আমলাসদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়
    মিরপুর, কুষ্টিয়া।

    বিষয় : কেন চাকুরি থেকে চুড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হবে না তার কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব প্রসংগে।

    সূত্র:……স্মারক নং ………. তাং – ০৯/০৬/২০১৫ খ্রি:

    জনাব,
    যথাবিহিত সম্মান জ্ঞাপন পূর্বক নিবেদন এই যে, সাধারণ মুসলিমগণ জানেন, ‘কুরআনের ব্যাখ্যা হাদিস কিন্তু কুরআন বিরোধী হাদিস গ্রহণ যোগ্য নয়।’ প্রচলিত ইসলাম ধর্মের ধারক, বাহক ও প্রচারকগণ কুরআন ও হাদিস মানেন না। তারা রাসূলের নামে কুরআন বিরোধী হাদিসের অনুসরণ করেন। মাদ্রাসাগুলোতে রাসূলের নামে আল্লাহর নির্দেশ বলে জান্নাতে যাওয়ার প্রত্যাশায় বুখারি ও অন্য হাদিস থেকে উদ্বৃতি দিয়ে মানুষ হত্যা, চুরি, যিনা, বেশ্যাবৃত্তি ও নিরাপরাধ নারীর সংসার ভাংগার বিষয়ও শিক্ষা দেওয়া হয়। মুসলিমদের পাঁচটি স্তম্ভ বলে খ্যাত কালেমা, সালাত, সিয়াম ইত্যাদিসহ প্রচলিত ১২০টিরও অধিক কুরআন বিরোধী বিষয় মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষা দেওয়া হয়। আলেমগণ ধর্ম হিসেবে ২৫টিরও অধিক বিষয় ইঞ্জিল ও তৌরাত শরীফ থেকে অনুসরণ করেন। অন্য দিকে ৮০টিরও অধিক কুরআন সমর্থিত বিষয় (হাদিস) রয়েছে যা আলেমগণ মানেন না। কুরআনে সালাতুজ্জোহর, সালাতুল আসর ও সালাতুল মাগরিব নামে কোন সালাত নেই। অথচ শিক্ষকদের অনেকেই জান্নাত লাভের প্রত্যাশায় নিজের সৎকর্ম ক্লাস ফাঁকি দিয়ে উক্ত সালাত পড়তে যান। আল্লাহ্ বলেন, ‘আর যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম তারাই জান্নাতবাসী, তারা সেখানে স্থায়ী হবে;-২:৮২। এরূপ আয়াত-২:২৫, ৬২; ৩:১০৪; ৪:৫৭; ৪:১২২; ৪:১৭৩; ৫:৯; ৫:৬৯; ৬:১৬০; ৭:৪২; ১০:৯; ১১:১১; ১১:২৩; ১১:১১৫-১১৬; ১৩:২৯; ১৪:২৩; ১৬:৩০-৩১; ১৬:৯৭; ১৭:৯; ১৭:১৬; ১৮:২; ১৮:৩০-৩১; ১৮:৮৮; ১৮:১০৭-১০৮; ১৯:৬০; ১৯:৯৬; ২০:৭৫-৭৬; ২০:৮২; ২০:১১২; ২১:৯৪; ২২:১৪; ২২:২৩; ২২:৫০; ২৪:৫৫; ২২:৫৬; ২৫:৭০; ২৭:৮৯; ২৮:৬৭; ২৮:৮০; ২৯:৭; ২৯:৯; ২৯:৫৮; ৩০:১৫; ৩০:৪৪-৪৫; ৩১:৮-৯; ৩২:১৯; ৩৩:২৯; ৩৩:৩১; ৩৪:৪; ৩৪:৩৭; ৩৫:৭; ৪০:৪০; ৪১:৮; ৪২:২২-২৩; ৪২:২৬; ৪৫:৩০; ৪৭:২; ৪৭:১২; ৪৮:২৯; ৫৩:৩১; ৬৪:৯; ৬৫:১১; ৭৭:৪১-৪৪; ৭৬:৫-২১; ৮৪:২৫; ৮৫:১১; ৯৫:৬; ৯৮:৭-৮; ১০৩:২-৩। ‘অতএব তোমরা সৎকর্মে প্রতিযোগীতা কর;-২:১৪৮; ৫:৪৮। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পড়লে বা, ৩০ দিন না খেয়ে সিয়াম সাধনা করে ও রাতে তারাবির সালাত পড়লে আল্লাহর জান্নাতে যাওয়া যাবে উপরোক্ত ৭০টি আয়াতের মত একটি আয়াতও সম্মানিত আলেমগণ আল্লাহর কিতাব কুরআন থেকে দেখাতে পারবেন না। ‘বোখারী শরীফ’ পায়ের নিচে রেখে আপনি বলেন যে এর উপর দুই পা রেখে আমি পায়খানা করতে পারি’ বাক্যটি হুবুহু সত্য নয়। ঘটনাটি ঘটে বিদ্যালয় ছুটির দিনে বাসাবাড়িতে। চাকুরির বিষয় আল্লাহ্র এ আয়াতের অন্তর্ভুক্ত। ‘যখন ইব্রাহীম বলেছিলেন, ‘আমার রব! একে নিরাপদ শহর করুন, আর এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ্ ও আখিরাতে ঈমান আনে তাদের ফলমূল হতে রিয্ক দিবেন। তিনি বললেন, ‘যে কেউ কুফরি করবে তাকেও কিছু কালের জন্য জীবনোপভোগ করতে দিব, অতঃপর তাকে জাহান্নামে শাস্তি ভোগ করতে বাধ্য করব;-২:১২৬।

    আল্লাহর কোন শরীক নেই (৬:১৬৩), তাঁর সার্বভৌমত্বে কোন অংশী নেই (১৭:১১১) এবং ‘তিনি কাউকেও নিজ কর্তৃত্বের শরীক করেন না;-১৮:২৬। আল্লাহ্ বলেন, ‘যারা ঈমান আনে আল্লাহ্ তাদের ওলী, তিনি তাদের অন্ধকার হতে বের করে আলোতে নিয়ে যান। আর যারা কুফরি করে তাগূত (বুখারি ও তার দোসর শয়তানগণ) তদের আউলিয়া, তারা তাদের আলো হতে অন্ধকারে (বুখারি ও তার দোসরদের কিতাবে) নিয়ে যায়। তারাই অগ্নি-অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে;-২:২৫৭। ‘এরূপে আমি মানব ও জিনের মধ্যে হতে প্রত্যেক নবীর শত্রু করেছি, প্রতারণার উদ্দেশ্যে তারা একে অন্যকে চমকপ্রদ বাক্য দ্বারা প্ররোচিত করে। ……. সুতরাং তাদের ও তাদের মিথ্যা রচনাকে (বুখারি ও তার দোসরদের মিথ্যা কিতাবকে) বর্জন কর;-৬:১১২। ‘আল্লাহর নামে কিতাব রচনা করলেও শাস্তি (২:৭৯)

  3. ৯৮. আপনি কী আল্লাহর জান্নাতে যেতে চান, তাহলে সৎকর্ম করুন, কুরআনের অনুসরণ করুন
    ১. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদেরকে শুভসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার নিম্নদেশে নহর প্রবাহিত। …. তারা সেখানে স্থায়ী হবে;-২:২৫।
    ২. ‘নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইয়াহুদি হয়েছে এবং নাসারা ও সাবিঈন- যারাই আল্লাহ্ ও আখিরাতে ঈমান আনে ও সৎকাজ করে, তাদের জন্য পুরস্কার আছে তাদের রবের নিকট। তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দু:খিতো হবে না;-২:৬২।
    ৩. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকার্য করে তারাই জান্নাতবাসী, তারা সেখানে স্থায়ী হবে;-২:৮২।
    ৪. ‘তোমাদের মধ্য এমন একদল হোক যারা কল্যাণের দিকে আহবান করবে এবং সৎকার্যের নির্দেশ দিবে ও অসৎকার্যে নিষেধ করবে, তারাই সফলকাম;-৩:১০৪।
    ৫. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকার্য করে তাদেরকে দাখিল করব জান্নাতে, যার পাদদেশে নহর প্রবাহিত; সেখানে তারা স্থায়ী হবে, সেখানে তাদের জন্য পবিত্র সংগী থাকবে এবং তাদেরকে চির স্নিগগ্ধ ছায়ায় দাখিল করব;-৪:৫৭।
    ৬. ‘আর যারা ঈমান আনে ও সৎকার্য করে তাদেরকে দাখিল করব জান্নাতে, যার পাদদেশে নহর প্রবাহিত; সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে; আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য, কে আল্লাহ অপেক্ষা কথায় অধিক সত্যবাদী?;-৪:১২২।
    ৭. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকার্য করে তিনি তাদেরকে পূর্ণ পুরস্কার দান করবেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও বেশি দিবেন;-৪:১৭৩।
    ৮. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকার্য করে আল্লাহ্ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপুরস্কার আছে;-৫:৯।
    ৯. ‘মু’মিনগণ, ইয়াহুদিগণ, সাবিঈনগণ ও নাসারাদের মধ্যে কেউ আল্লাহ ও আখিরাতে ঈমান আনলে এবং সৎকাজ করলে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দু:খিতো হবে না;-৫:৬৯।
    ১০. ‘কেউ কোন সৎকাজ করলে সে তার দশগুণ পাবে এবং কেউ কোন অসৎ কার্য করলে তাকে শুধু তারই প্রতিফল দেওয়া হবে;-৬:১৬০।
    ১১. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকার্য করে তারাই জান্নাতবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে;-৭:৪২।
    ১২. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকার্য করে তাদের রব তাদের ঈমান হেতু তাদেরকে পথনির্দেশ করবেন সুখদ কাননে, তাদের পাদদেশে নহর প্রবাহিত হবে;-১০:৯।
    ১৩. ‘যারা ধৈর্যশীল ও সৎকর্মপরবয়ণ তাদেরই জন্য আছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার;-১১:১১।
    ১৪. ‘যারা মু’মিন ও সৎকর্মপরায়ণ এবং তাদের রবের প্রতি বিনয়াবনত, তারাই জান্নতের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে;-১১:২৩।
    ১৫. ‘আল্লাহ্ সৎকর্মপরায়ণদের শ্রমফল নষ্ট করেন না। তোমার পূর্ব যুগে আমি যাদের রক্ষা করেছিলাম তাদের মধ্যে অল্প কতক ব্যতীত সজ্জন ছিল না, যারা পৃথিবীতে বিপর্য ঘটাতে নিষেধ করত;-১১:১১৫-১১৬।
    ১৬. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, পরম আনন্দ এবং শুভপরিণাম তাদেরই;-১৩:২৯।
    ১৭. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকার্য করে তাদের দাখিল করা হবে জান্নাতে, যার পাদদেশে নহর প্রবাহিত; সেখানে তারা স্থায়ী হবে;-১৪:২৩।
    ১৮. ‘যারা সৎকর্ম করে তাদের জন্য আছে এ দুনিয়ায় মংগল এবং আখিরাতের আবাস আরও উৎকৃষ্ট ….স্থায়ী জান্নাত যাতে তারা প্রবেশ করবে; তার পাদদেশে নহর প্রবাহিত; তারা যা কিছু কামনা করবে তাতে তাদের জন্য তাই থাকবে…;-১৬:৩০-৩১।
    ১৯. ‘মু’মিন হয়ে পুরুষ ও নারারীর মধ্যে যে কেউ সৎকর্ম করবে তাকে আমি নিশ্চয়ই পবিত্র জীবন দান করব এবং তাদেরকে তাদের কর্মের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দান করব;-১৬:৯৭।
    ২০. ‘নিশ্চয়ই এ কুরআন হিদায়াত করে সে পথের দিকে যা সুদৃঢ় এবং সৎকর্মপরবায়ণ মু’মিনদেরকে সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার;-১৭:৯।
    ২১. ‘আমি যখন কোন জনপদ ধ্বংস করতে চাই তখন তার সমৃদ্ধিশালী ব্যক্তিদেরকে সৎকর্ম করতে আদেশ করি, কিন্তু তারা সেথায় অসৎকর্ম করে; অতঃপর তার প্রতি দন্ডাজ্ঞা ন্যয়সংগত হয়ে যায় এবং আমি তা সম্পূণরুপে বিধ্বস্ত করি;-১৭:১৬।
    ২২. একে (কুরআনকে) করেছেন সুপ্রতিষ্ঠিত তাঁর কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য, এবং মু’মিনগণ, যারা সৎকর্ম করে, তাদেরকে এ সুসংবাদ দিবার জন্য যে, তাদের জন্য আছে উত্তম পুরস্কার, যাতে তারা স্থায়ী হবে;-১৮:২।
    ২৩. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে- আমি তো তার শ্রমফল নষ্ট করি না- যে উত্তমরূপে কার্য সম্পাদন করে। তাদেরই জন্য আছে স্থায়ী জান্নাত যার পাদদেশে নহর প্রবাহিত, সেথায় তাদেরকে স্বর্ণ কংকনে অলংকৃত করা হবে, তারা পরিধান করবে সূক্ষ ও পুরু রেশমের সবুজ বস্ত্র ও তথায় সমাসিন হবে সুসজ্জিত আসনে; কত সুন্দর পুরস্কার ও উত্তম আশ্রয়স্থল;-১৮:৩০-৩১।
    ২৪. ‘যে ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তার জন্য প্রতিদানস্বরূপ আছে কল্যাণ;-১৮:৮৮।
    ২৫. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের আপ্যায়নের জন্য আছে ফিরদাওসের উদ্যান। সেথায় তারা স্থায়ী হবে, তা হতে স্থানান্তর কামনা করবে না;-১৮:১০৭-১০৮।
    ২৬. ‘যারা তওবা করেছে, ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে। তারা তো জান্নাতে প্রবেশ করবে;-১৯:৬০।
    ২৭. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে দয়াময় অবশ্য তাদের জন্য সৃষ্টি করবেন ভালোবাসা;-১৯:৯৬।
    ২৮. ‘যারা তাঁর নিকট উপস্থিত হবে মু’মিন অবস্থায় সৎকর্ম করে, তাদের জন্য আছে সমুচ্চ মর্যাদা-স্থায়ী জান্নাত, যার পাদদেশে নহর প্রবাহিত, সেথায় তারা স্থায়ী হবে;-২০:৭৫-৭৬।
    ২৯. ‘এবং আমি অবশ্যই ক্ষমাশীল তার প্রতি, যে তওবা কর, ঈমান আনে, সৎকর্ম করে ও সৎপথে অবিচলিত থাকে;-২০:৮২।
    ৩০. ‘যে সৎকর্ম করে মু’মিন হয়ে, তার কোন আশংকা নেই অবিচারের এবং অন্য কোন ক্ষতির;-২০:১১২।
    ৩১. ‘সুতরাং যদি কেউ মু’মিন হয়ে সৎকর্ম করে তার প্রচেষ্টা অগ্রাহ্য হবে না;-২১:৯৪।
    ৩২. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ্ তাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার নিম্নদেশে নহর প্রবাহিত …;-২২:১৪।
    ৩৩. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ্ তাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে যার পাদদেশে নহর প্রবাহিত, সেথায় তাদেরকে অলঙ্কৃত করা হবে স্বর্ণ-কঙ্কন ও মুক্তা দ্বারা এবং সেথায় তাদের পোশাক-পরিচ্ছেদ হবে রেশমের;-২২:২৩।
    ৩৪. ‘সুতরাং যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্য আছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিযক;-২২:৫০।
    ৩৫. ‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ্ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন, যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীগণকে এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য প্রতিষ্ঠিত করবেন তাদের দীনকে যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়-ভীতির পরিবর্তে তাদেরকে অবশ্যই নিরাপত্তা দান করবেন;-২৪:৫৫।
    ৩৬. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তারা অবস্থান করবে সুখদ কাননে;-২২:৫৬।
    ৩৭. ‘তারা নয়, যারা তওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে। আল্ল
    াহ তাদের পাপ পরিবর্তন করে দিবেন পুণ্যের দ্বারা;-২৫:৭০।
    ৩৮. ‘যে কেউ সৎকর্ম নিয়ে আসবে, সে তা হতে উৎকৃষ্ট প্রতিফল পাবে এবং সে-দিন তারা শঙ্কা হতে নিরাপদ থাকবে;-২৭:৮৯।
    ৩৯.‘যে ব্যক্তি তওবা করেছিল এবং ঈমান এনেছিল ও সৎকর্ম করেছিল, আশা করা যায় সে সাফল্য অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে;-২৮:৬৭।
    ৪০. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্য আল্লাহর পুরস্কারই শ্রেষ্ঠ এবং ধৈর্যশীল ব্যতীত এ কেউ পাবে না;-২৮:৮০।
    ৪১. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আমি নিশ্চয়ই তাদের থেকে তাদের মন্দকর্মগুলো মিটিয়ে দিব, আমি অবশই তাদেরকে প্রতিদান দিব, তারা যে উত্তম কর্ম করত তার;-২৯:৭।
    ৪২. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আমি অবশ্যই তাদেরকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত করব;-২৯:৯।
    ৪৩. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আমি অবশ্যই তাদের বসবাসের জন্য সুউচ্চ প্রাসাদ দান করব জান্নাতে, যার পাদদেশে নহর প্রবাহিত, সেখানে তারা স্থায়ী হবে;-২৯:৫৮।
    ৪৪. ‘যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তারা জান্নাতে থাকবে;-৩০:১৫।
    ৪৫: ‘যারা সৎকর্ম করে তারা নিজেদের জন্য রচনা করে সুখশয্যা। কারণ যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ্ তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে পুরস্কৃত করেন ….;-৩০:৪৪-৪৫।
    ৪৬. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্য আছে সুখদ কানন; সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য…;-৩১:৮-৯।
    ৪৭. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ তাদের আপ্যায়নের জন্য তাদের স্থায়ী বাসস্থান হবে জান্নাত;-৩২:১৯।
    ৪৮. ‘আর যদি তোমরা কামনা কর আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও আখিরাত, তবে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল আল্লাহ্ তাদের জন্য মহাপ্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন;-৩৩:২৯।
    ৪৯. ‘তোমাদের মধ্য যে কেউ আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের প্রতি অনুগত হবে ও সৎকর্ম করবে তাকে আমি পুরস্কার দিব দুইবার এবং তার জন্য আমি প্রস্তুত রেখেছি সম্মানজনক রিয্ক;-৩৩:৩১।
    ৫০. ‘যারা মু’মিন ও সৎকর্মপরায়ণ তিনি তাদেরকে পুরস্কৃত করবেন। তাদেরই জন্য আছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিয্ক;-৩৪:৪।
    ৫১. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারাই তাদের কর্মের জন্য পাবে বহুগুণ পুরস্কার; আর তারা প্রাসাদে নিরাপদে থাকবে;-৩৪:৩৭।
    ৫২. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্য আছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার;-৩৫:৭।
    ৫৩. ‘পুরুষ কিংবা নারীর মধ্যে যারা মু’মিন হয়ে সৎকর্ম করে তারা দাখিল হবে জান্নাতে, সেথায় তাদের দেওয়া হবে বে-হিসাব পরিমাণ রিযক;-৪০:৪০।
    ৫৪. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার;-৪১:৮।
    ৫৫. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তারা থাকবে জান্নাতের মনোরম স্থানে। তারা যা কিছু চাইবে তাদের রবের নিকট তাই পাবে। ….. এ সংবাদই আল্লাহ দেন তাঁর বান্দাদেরকে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে;-৪২:২২-২৩।
    ৫৬. ‘তিনি যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের আহবানে সাড়া দেন এবং তাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ বর্ধিত করেন;-৪২:২৬।
    ৫৭. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের রব তাদের দাখিল করবেন স্বীয় রহমতে;-৪৫:৩০।
    ৫৮. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং মুহাম্মাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে বিশ্বাস করে, আর তা-ই তাদের রবের নিকট হতে প্রেরিত সত্য, তিনি তাদের মন্দ কর্মগুলো বিদূরিত করবেন এবং তাদের অবস্থা ভালো করবেন;-৪৭:২।
    ৫৯. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ্ তাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে যার নিম্নদেশে নহর প্রবাহিত;-৪৭:১২।
    ৬০. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ্ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের;-৪৮:২৯।
    ৬১. ‘যারা মন্দ কর্ম করে তাদেরকে তিনি দেন মন্দ ফল এবং যারা সৎকর্ম করে তাদেরকে দেন উত্তম পুরস্কার;-৫৩:৩১।
    ৬২. ‘যে ব্যক্তি আল্লাহে্ বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে তিনি তার পাপ মোচন করবেন
    এবং তাকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার নিম্নদেশে নহর প্রবাহিত, সেথায় তারা চিরস্থায়ী হবে;-৬৪:৯।
    ৬৩. ‘যে কেউ আল্লাহে বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে তিনি তাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার পাদদেশে নহর প্রবাহিত, সেথায় তারা চিরস্থায়ী হবে; আল্লাহ তাকে
    দিবেন উত্তম রিযক;-৬৫:১১।
    ৬৪. ‘মুত্তাকীরা থাকবে ছায়ায় ও প্রস্রবণ বহুল স্থানে, তাদের বাঞ্ছিত ফলমূলের প্রাচর্যের মধ্য। ‘তোমাদের কর্মের পুরস্কারস্বরূপ তোমরা তৃপ্তির সাথে পানাহার কর।‘ এভাবে আমি সৎকর্মপরায়ণদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি;-৭৭:৪১-৪৪।
    ৬৫. ‘সৎকর্মশীলেরা পান করবে এমন পানীয় যার মিশ্রণ কাফুর- এমন একটি প্রস্রবণ যা হতে আল্লাহর বান্দাগণ পান করবে, তারা এ প্রস্রবণকে যথা ইচ্ছা প্রবাহিত করবে …. এবং তাদেরকে দিবেন উৎফুল্লতা ও আনন্দ, আর তাদের ধৈর্যশীলতার পুরস্কারস্বরূপ তাদেরকে দিবেন উদ্যান ও রেশমী বস্ত্র। সেথায় তারা সমাসীন হবে সুসজ্জিত আসনে, তারা সেখানে অতিশয় গরম অথবা অতিশয় শীত বোধ করবে না। সন্নিহিত বৃক্ষছায়া তাদের উপর থাকবে এবং তার ফলমুল সম্পূর্ণরূপে তাদের আয়ত্তাধীন করা হবে। তাদের পরিবেশন করা হবে রৌপ্যপাত্রে এবং স্ফটিকের মত স্বচ্ছ পানপাত্রে- রজতশুভ্র স্ফটিক পাত্রে, পরিবেশন কারীরা যথাযথ পরিমাণে তা পূর্ণ করবে। সেথায় তাদেরকে পান করতে দেওয়া হবে যানজাবীল মিশ্রিত পানীয়, জান্নাতের এমন এক প্রশ্রবণের যার নাম সালসাবীল। তাদেরকে পরিবেশন করবে চিরকিশোরগণ, যখন তুমি তাদেরকে দেখবে তখন মনে করবে তারা যেন বিক্ষিপ্ত মুক্তা, তুমি যখন সেথায় দেখবে, দেখতে পাবে ভোগ-বিলাসের উপকরণ এবং বিশাল রাজ্য। তাদের আবরণ হবে সূক্ষè সবুজ রেশম ও স্থূল রেশম, তারা অলংকৃত হবে রৌপ্য নির্মিত কংকনে, আর তাদের রব তাদেরকে পান করাবেন বিশুদ্ধ পবনীয়;-৭৬:৫-২১।
    ৬৬. ‘‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার;-৮৪:২৫।
    ৬৭. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য আছে জান্নাত, যার পাদদেশে নহর প্রবাহিত;- ৮৫:১১।
    ৬৮. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য তো আছে নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার;-৯৫:৬।
    ৬৯. ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারাই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ। তাদের রবের নিকট আছে তাদের পুরস্কার- স্থায়ী জান্নাত, যার নিম্নদেশে নহর প্রবাহিত, সেথায় তারা চিরস্থায়ী হবে। আল্লাহ্ তাদের প্রতি প্রসন্ন এবং তারাও তাঁতে সন্তুষ্ট;-৯৮:৭-৮।
    ৭০. ‘মানুষ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত, কিন্তু তারা নয়, ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়;-১০৩:২-৩। স্মরণ কর, তোমাদের রব ঘোষণা করেন, ‘তোমরা কৃতজ্ঞ হলে তোমাদিগকে অবশ্যই অধিক দিব;-১৪:৭। ‘অতএব তোমরা সৎকর্মে প্রতিযোগীতা কর;-২:১৪৮। ‘সুতরাং তোমরা সৎকর্মে প্রতিযোগীতা কর;-৫:৪৮। ‘আমাদের তো আর মৃত্য হবে না প্রথম মৃত্যুর পর এবং আমাদেরকে শাস্তি দেওয়া হবে না। এ তো মহাসাফল্য। এরূপ সাফল্যের জন্য সাধকদের উচিত সাধনা করা;-৩৭:৫৮-৬১।

    ‘সালাতুয্ যোহর, সালাতুল আসর ও সালাতুল মাগরিব’ এর সালাত পড়ার নির্দেশ আল্লাহর কিতাব কুরআনে আছে কী?
    ‘সত্য কখনো গোপন থাকে না’ গ্রন্থের সর্বশেষ সংস্করণ থেকে সংকলিত।

  4. বুখারি ও তার দোসরদের অসাধ্য সাধন
    বোখারী শরীফের ২৭-২৮ পৃষ্ঠায় দেখুন, ‘একটি হাদিসের জন্য মদীনা হতে প্রায় ৬০০ মাইল অতিক্রম করে দামেশকে আবুদ দরদার নিকট যান। উটের ওপর সওয়ার হয়ে দীর্ঘ একমাস পর মদীনা হতে সিরিয়ায় যান। একটি হাদিস সংগ্রহের জন্য একাধারে কয়েক দিন ও কয়েক রাত ভ্রমন করেন। একটি হাদিস সংগ্রহের জন্য বসরা হতে শত শত মাইল দূরে মদীনায় এবং মদীনা হতে মিশর যেতেন। এরূপে শত শত, হাজার হাজার সাক্ষ্যদাতার দ্বারে দ্বারে ঘুরে ঘুরে ইমাম বুখারি ৬ লক্ষেরও অধিক হাদিস সংগ্রহ করেছিলেন। যাচাই-বাছাই করে ১৮০০ জন সাক্ষ্যদাতার মাধ্যমে বর্তমান গ্রন্থটি সংকলন করেন। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল ১০ লক্ষ হাদিস সংগ্রহ করে তা থেকে বেছে ৩০ হাজার হাদিসের একটি গ্রন্থ সংকলন করেন। ইমাম বুখারি ৯০ হাজার লোককে বুখারি শিক্ষা দিয়েছেন। বেঁচেছিলেন ১৩ দিন কম ৬২ বছর। ৫৬ বছর বয়সে নিশাপুরে, পরে স্বদেশ বুখারায় আবস্থান করেন। ১৮ বছর বয়সে হাদিস সংগ্রহ শুরু করেন। প্রতিটি হাদিস লেখার পূর্বে গোসল করে দুই রাকাত সালাত পড়েন এবং প্রতিটি পরিচ্ছদ লিখতেও দুই রাকাত সালাত পড়েন। হাদিস সংগ্রহের জন্য সিরিয়া, মিশর, আলজাযায়ের, বসরা, কুফা, বাগদাদ, হেজায ভ্রমনের পর রাসূলের রওজার পাশে বসে ১৬ বছরে স্বীয় কন্ঠস্থ ৬ লক্ষ হাদিস হতে বেছে প্রায় ৪ হাজার হাদিস একত্রিত করে সহীহ বুখারি গ্রন্থটি সংকলন করেন। এর মূল ২৬০২ বা ২৫১৩টি হাদিস। ১৮ পৃষ্ঠা দেখুন, ‘মোহাদ্দেসগণ প্রত্যেক হাদিসের সংগে তার সাক্ষীগণের তালিকা উল্লেখ করেছেন। যথা- ইমাম বুখারি বলেন, ‘১. মোহাদ্দেস হুমায়দী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ২. তিনি সুফিয়ান নামক মোহাদ্দেসের মুখে শুনেছেন, ৩. তিনি ইয়াহ্ইয়া ইবনে সায়ীদ আনসারীর মুখে শুনেছেন, ৪. তিনি মোহাম্মদ ইবনে ইব্রাহীম তায়মীর নিকট হতে সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন যে, ৫. তিনি আলকামা ইবনে আবী ওয়াক্কাসের মুখে নিজ কানে শুনেছেন, ৬. তিনি ওমর ইবনে খাত্তাব-কে মিম্বরে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিতে শুনেছেন যে, ৭. আমি রাসূলকে বলতে শুনেছি।…….. (এখান থেকে মুল হাদিস লেখা শুরু / রাসূল বলেছেন,) ……..

    বিশ্লেষণ-১: ১৮ বছর বয়সে হাদিস সংগ্রহ শুরু, ১৬ বছর যাচাই বাছাই এবং ৬ বছর নিশাপুরে ও স্বদেশ বুখারায় আবস্থান মোট (১৮ + ১৬ + ৬) = ৪০ বছর। তাহলে হাদিস সংগ্রহ করলেন (৬২ – ৪০) = ২২ বছর। ২২ বছরে ৬ লক্ষ হাদিস সংগ্রহের ইতিহাস : প্রায় ৬০০ মাইল বা শত শত মাইল অতিক্রম করে, ১ মাস পরে বা কয়েক দিন ও কয়েক রাত ভ্রমন করে ১টি হাদিস সংগ্রহ করা হয়েছে। যদি তিনি প্রতিদিন গড়ে ১টি হাদিস সংগ্রহ করেন তবে তার জন্য সময় প্রয়োজন (৬,০০,০০০÷৩৬০) = ১,৬৬৭ বছর। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের ১০ লক্ষ হাদিস সংগ্রহের জন্য প্রয়োজন (১০,০০,০০০÷৩৬০) = ২,৭৭৭ বছর। বুখারির প্রতি ২ দিনে ১টি হাদিস সংগ্রহের জন্য প্রয়োজন (৬,০০,০০০÷৩৬০)২ = ৩,৩৩৩ বছর। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের (১০,০০,০০০÷৩৬০) ২ = ৫,৫৫৫ বছর। বুখারি প্রতি ৩ দিনে ১টি হাদিস সংগ্রহ করলে সময় প্রয়োজন (৬,০০,০০০÷৩৬০) ৩ = ৫,০০০ বছর। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের প্রয়োজন (১০,০০,০০০÷৩৬০) ৩ = ৮,৩৩৩ বছর। এখন খাওয়া-দাওয়া, প্রসব-পায়খানা, ওযূ-গোসল, পাঁচ ওয়াক্তের সালাত ও ঘুমের জন্য ১১ ঘণ্টা বাদ দিয়ে বিরামহীনভাবে প্রতিদিন ১৩ ঘণ্টা হাদিস সংগ্রহ করলে বুখারি সাহেবের সময় লাগত {(৬,০০,০০০÷৩৬০) ÷৭৬} = ২২ বছর। প্রতি ১০ মিনিটের মধ্যে ১টি হাদিস সংগ্রহ করলে ৭ পুরুষের নামসহ প্রতিদিন গড়ে ৭৬টি হাদিস মুখস্ত করা কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব কী?

    বিশ্লেষণ-২ : নিশাপুরের রেষারেষিতে চলে যান বুখারায়। সেখানে শাসনকর্তা তাকে বুখারা ত্যাগ করতে বাধ্য করেন, তিনি বাইকান্ধে চলে যান, পরে সমরকন্দের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, পথে খরতঙ্গ গ্রামে অবস্থান করেন। ভীতির মধ্যে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। ৬ বছরে ৯০ হাজার মানুষকে বুখারি শিক্ষার ইতিহাস : প্রাইভেট পড়ানোর মত যদি ৫০ জনের একটি ব্যাচ হয় তাহলে মোট ব্যাচ হবে (৯০,০০০÷৫০) = ১৮০০টি। প্রতিদিন প্রতি ব্যাচে ২০০০ (দুই হাজার) হাদিস শিক্ষা দেওয়া হয় তবে ২৫০০ টি হাদিস শিক্ষার সময় লাগবে ১.২৫ দিন অর্থাৎ, {(১৮০০১.২৫)÷৩৬০} = ৬ বছর। মানবিক প্রয়োজনীয় কাজ করার পর বিরামহীনভাবে ১ দিনে ৫০ ব্যক্তিকে ২০০০ (দুই হাজার) হাদিস শিক্ষা দেওয়াও অসম্ভব। ধরে নিলাম, আপনার সময়ের বড় অভাব। বুখারি সাহেব যদি ১ দিনের একটু বেশি সময়ে ৫০ জনকে, এভাবে ৯০,০০০ মানুষকে বুখারি শরিফ শিক্ষা দিতে পারেন তবে আপনার জীবনে দুই দিনে কেন আপনার প্রাণ প্রিয় বুখারি শরীফ এক বারও পড়েন নি?

    বিশ্লেষণ-৩ : ২৩ বছরে কুরআন নাজিল হয়। কুরআনের ব্যাখ্যা হাদিস হলে প্রতিটি আয়াতের জন্য একটি করে হাদিস। তাহলে মোট হাদিসের সংখ্যা হতো ৬,২৩৬ টি। প্রতিদিন গড়ে নাজিল হয় (২৩৩৬০)÷৬,২৩৬) = ১.২৮ আয়াত। এ হিসাবে বুখারির হাদিস সংগ্রহ করতে সময় লাগত{(৬,০০,০০০÷১.২৮)÷৩৬০} = ১,৩০৪ বছর। গড়ে প্রতিদিন ৩টি করে হাদিস সংগ্রহ করলে বুখারির সময় প্রয়োজন {(৬,০০,০০০÷৩)÷৩৬০} = ৫৫৫ বছর। সুতরাং ২২ বছরে ছয় লক্ষ হাদিস মুখস্ত করা কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব কী?

    বিশ্লেষণ-৪ : ১৬ বছরে স্বীয় কন্ঠস্থ ৬ লক্ষ হাদিস যাচাই এর ইতিহাস : ৬ লক্ষ হাদিস থেকে ৫ লক্ষ ৯৬ হাজার বাদ দেওয়ার জন্য ১টি হাদিস যাচাই বাছাই করতে যদি ১০ মিনিট সময় লাগে এবং বিরামহীনভাবে ১৭১/২ ঘণ্টা সময় লাগে তবে প্রতি দিনে যাচাই বাছাই হবে {(১৭১/২৬০)÷১০} = ১০৫টি হাদিস। সুতরাং ১০মিনিটে ১টি হাদিস যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয় তবে সময় প্রয়োজন {(৬,০০,০০০÷১০৫) দিন ÷৩৬০}= ১৬ বছর। প্রতিটি হাদিস ২০ মিনিটে যাচাই বাছাই হলে প্রয়োজন ৩২ বছর এবং ৩০মিনিটে হলে প্রয়োজন ৪৮ বছর। ঘুম, প্রসব-পায়খানা, ৫ ওয়াক্ত সালাত, গোসল ও খাওয়ার সময় বাদে প্রতিদিন ১৭১/২ ঘন্টা সময় এবং ১০মিনিটের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে গোসল করে ২ রাকাত সালাত পড়ে ৭ পুরুষের নামসহ ১টি হাদিস লেখা কোন মানুষের পক্ষে আদৌ সম্ভব কী?

    বিশ্লেষণ-৫ : ১,৮০০ জন সাক্ষ্যদাতার সংগে সাক্ষাতের ইতিহাস : প্রতি ঘণ্টায় ২০ মাইল বেগে প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা গেলে ৬০০ মাইল যেতে সময় লাগবে {৬০০÷(২০১০)} = ৬ দিন। উটের পিঠে সওয়ার হয়ে দীর্ঘ একমাস পর মদীনা হতে সিরিয়ায় পৌঁছেছিলেন। একটি হাদিস সংগ্রহের জন্য একাধারে কয়েক দিন ও কয়েক রাত ভ্রমন করেছেন। একটি হাদিস সংগ্রহের জন্য বসরা হতে শত শত মাইল দূরে মদীনায় এবং মদীনা হতে মিশর যেতেন। সিরিয়া, মিশর, আলজাযায়ের, বসরা, কুফা, বাগদাদ, হেজায যেতে গড়ে প্রতি ৫দিন পরে একজনের সাথে সাক্ষাত করতে প্রয়োজন (১,৮০০৫) = ৯,০০০ দিন। এ হিসেবে একজনের নিকট থেকে হাদিস সংগ্রহ করেছিলেন একদিনে (৬,০০,০০০÷৯,০০০) = ৬৭টি। ১টি হাদিস সংগ্রহ করতে ১৫ মিনিট সময় লাগলে প্রতিদিন সময় প্রয়োজন {(৬৭১৫)÷৬০} = ১৭ ঘণ্টা। ১৭ ঘন্টা বিরামহীম এবং ১৫ মিনিটের মধ্যে ৭ পুরুষের নামসহ ১টি হাদিস মুখস্ত করা একটি মানুষের পক্ষে সম্ভব কী?

  5. আল্লাহর সংবিধান : আপনি কী আল্লাহর জান্নাতে যেতে চান, তাহলে ঈমান এনে সংকর্ম করুন (২:২৫, ৮২; ৪:৫৭, ১২২; ১০:৯; ১১:২৩; ১৪:২৩; ১৮:৩০-৩১; ২২:১৪, ২৩; ২৪:৫৫; ২৯:৫৮; ৪৭:১২; ৮৫:১১; ৯৮:৭-৮), একমাত্র কুরআনের অনুসরণ করুন (৬:১১২)। আল্লাহর জাহান্নামে যেতে চান, তাহলে বুখারিসহ অন্যান্য গ্রন্থের (২:৭৯, ২৫৭) অনুসরণ করুন। যারা আল্লাহর আয়াত মানে না তারা হাঁপানো কুকুর (৭:১৭৬) ও পুস্তক বহনকারী গাধার মত (৬২:৫) এবং সৃষ্টির নিকৃষ্টতম জীব (৭:১৭৯; ৮:২২, ৫৫; ৯৮:৬)।
    সূরা ও আয়াত নম্বর মিলিয়ে দেখুন।

    বুখারি-মুসলিমদের সংবিধান : যেহেতু রাসূলের নির্দেশ কুরআনের বিষয়ের সমান; বরং তা অপেক্ষাও অধিক (১/১৫৭); তাই জাহান্নামে যেতে চান, ইমামতি করে ও আযান দিয়ে পারিশ্রমিক নিন (২/৬১৭; ৬/২৮৬০), জান্নাতে যেতে চান তাহলে ‘কুরআন মজীদ পাঠকারী ও আল্লাহর কিতাবের দিকে আহ্বানকারীকে হত্যা করুন (৭/৪২৬০, ৪২৭০), যারা উত্তম কথা বলে তাদেরকে হত্যা করুন (৭/৪২৫৩), প্রয়োজনে ১০০ জনকে হত্যা করুন, বুখারি-মুসলিমের উপর ভরসা রাখুন, জান্নাতে যাবেন (৫/২২১৯), জান্নাতে যাওয়ার জন্য চুরি করুন, যিনা করুন (১/২৪; ৫/২২৬৬), জান্নাত- জাহান্নাম সত্য বলুন, ‘আমল যাই থাকুক না কেন?’(১/২৫), বেশ্যাবৃত্তি করে কুকুরকে পানি পান করান (৪/১৮০৭), অথবা বলুন ‘আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল (১/৩২), অথবা বলুন ‘আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই (১/৩৩), তা হলেই জান্নাতে যেতে পারবেন। আমল করুন নিচের নিয়মে: ‘প্রত্যেক রাত্রে সূরা ওয়াকিয়া পড়ুন, কখনও দরিদ্র হবেন না (৫/২০৭৭), তিন আঙ্গুলে খানা খান (৮/৩৯৮৫), ‘জুতা পায়ে দিয়ে সালাত পড়ুন (২/৭০৯, ৭১০, ৭১১, ৭১৩), ‘মসজিদে দাঁড়িয়ে প্রসব করুন, পানি ঢেলে সালাত পড়ুন (২/৪৬০), কুরবানির পশুর গলায় জুতার মালা পরান (৫/২৫১০, ২৫১১, ২৫১৪, ২৫১৮, ২৫২৪), ‘সূরা ফাতিহায় সকল রোগের আরোগ্য রয়েছে (৫/২০৬৬), ‘রোগ মুক্তির জন্য ঔষুধ বর্জন করে কালিজিরার ব্যবহার করুন (৮/৪৩২১); আর ইসলাম গ্রহণ করে হালাল পশুর পেসাব পান করুন (৭/৪২৫৭), নিজ হাতে নিজের খত্না করুন আশি বছর বয়সে (১০/৫৪৫৯) এবং নিজ স্ত্রী ও মেয়েদের মুসলিম বানানোর জন্য খত্না করান (৮/৪২৬৫)। ‘সিয়াম সাধনা অবস্থায় দিনের বেলায় নিজ স্ত্রীকে চুম্বন করুন ও জিহ্বা চুসুন এবং দৈহিক মিলন ঘটান (৪/১৯০৩, ১৯০৮, ১৯০৯)। চিন্তার কোন কারণ নেই। এসব কুরআন বিরোধী বুখারি-মুসলিমদের হাদিস!

    ‘আল্লাহ্ মিথ্যাকে মুছে দেন এবং নিজ কালেমা দ্বারা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন;-৪২:২৪।
    মেশকাত শরীফের খণ্ড ও হাদিস নম্বর মিলিয়ে দেখুন (প্রয়োজনে মাদ্রাসায় যান)।
    ‘সত্য কখনো গোপন থাকে না’ গ্রন্থের সর্বশেষ সংস্করণ থেকে সংকলিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*
*