26 Chaitro 1426 বঙ্গাব্দ শুক্রবার ১০ এপ্রিল ২০২০
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ »
Home / শীর্ষ সংবাদ / ডেসটিনির আমানত ফিরে পাওয়া নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের শঙ্কা

ডেসটিনির আমানত ফিরে পাওয়া নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের শঙ্কা

সৈয়দ সামসুজ্জামান নীপু বাংলাদেশে এমন কী ব্যবসায় আছে যা করলে কোনো প্রতিষ্ঠানের মোট সম্পদের পরিমাণ তিন বছরের ব্যবধানে ১৩ হাজার ভাগেরও বেশি বৃদ্ধি পায়? বাংলাদেশে এমন কী ব্যবসায় আছে যা করলে তিন বছরের ব্যবধানে আমানতের পরিমাণ তিন হাজার ৫০০ ভাগ বেড়ে যায়? অথবা বাংলাদেশে এমন কী ব্যবসায় আছে যা করলে কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধন পাঁচ বছরের ব্যবধানে মাত্র এক কোটি ৬২ লাখ টাকা থেকে বেড়ে হয় এক হাজার ১৯৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা?
হ্যাঁ, এ ধরনের এক ‘আজব’ ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছে ‘ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক তদন্ত প্রতিবেদনে এই তথ্যই বেরিয়ে এসেছে। বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি সমবায় অধিদফতরের নিবন্ধন নিয়ে পুরোদস’র ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে- যা কি নো একটি অবৈধ কাজ। শুধু তাই নয়, লাখ লাখ মানুষের কাছ থেকে উচ্চ সুদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শত শত কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন’ তারল্য সঙ্কটের কারণে যেকোনো সময় আমানতের টাকা ফেরত প্রদান বিঘ্নিত হতে পারে। কারণ এত কিছু করার পরও কোম্পানিটি লাভ নয় বরং লোকসানই দিচ্ছে। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটির নিট লোকসান ছিল ১৪৫ কোটি টাকা। ২০১১ সালে এই লোকসানের পরিমাণ বেড়ে ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক হিসাব কষে বের করেছে।
বাংলাদেশের ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা পরিদর্শন ও ভিজিল্যান্স বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত এই তথ্য প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে, ডেসিটিনি গ্রুপের এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে প্রতারণামূলক ও অভিনব ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, অভিনব কায়দায় এমএলএম (মাল্টি লেভেল মার্কেটিং) কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উচ্চ হারে ও অযৌক্তিকভাবে মূলধন বৃদ্ধি এবং সংগৃহীত আমানত ও মূলধনের অর্থ সুকৌশলে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে অন্যান্য কোম্পানিতে সরিয়ে নিচ্ছে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস’া নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুরোধক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা পরিদর্শন ও ভিজিলেন্স বিভাগের দুইজন উপপরিচালক যথাক্রমে মো: জহির হোসেন ও রণজিৎ কুমার রায়কে ডেসিটিনি গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড কাকরাইলের অফিসে তদন্তকাজে পাঠানো হয়। তারা চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে পরিদর্শন ও তদন্তকাজ পরিচালনা করেন। তদন্তকাজ চালাতে গিয়েও বাধার সম্মুখীন হতে হয় তাদের।
এ ব্যাপারে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি সমবায় সমিতি আইন, ২০০১ (সংশোধিত ২০০২) অধীনে নিবন্ধিত হওয়ায় তারা পরিদর্শন দলকে কিছু তথ্য সরবরাহ করলেও তাদের প্রতিষ্ঠানের জেনারেল লেজার, সদস্য রেজিস্টার, সঞ্চয় রেজিস্টার, লোন রেজিস্টার, বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক প্রতিবেদন, নমুনাভিত্তিক দৈনন্দিন লেনদেনের ভাউচার ইত্যাদি প্রদর্শনে অপারগতা প্রকাশ করে।’ এ ধরনের পরিসি’তিতে তদন্ত প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে, তাই প্রতিষ্ঠানটি অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করলেও সরেজমিন ব্যাপকভিত্তিক ও অন্তঃগভীর পরিদর্শন ছাড়া তাদের অবৈধ ব্যাংকিং বিষয়টি আইনানুগভাবে প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হবে। এ জন্য স’ানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সমবায় অধিদফতর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সংস’ার সহযোগিতা প্রয়োজন। ’
বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনটি অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে এই তদন্তকাজ পরিচালনা করা হয়। এই অভিযোগগুলো ছিল- বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচলিত নীতিমালার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি প্রকাশ্যে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি চড়া সুদে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে প্রতি মাসে কমপক্ষে ২০-২৫ কোটি টাকা মুনাফা করছে। দ্বিতীয় অভিযোগটি ছিল- সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা মোট ৩৮ লাখ অ্যাজেন্টের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের কমিশন দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তার ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি করেছে। তৃতীয় অভিযোগটি ছিল- প্রতিষ্ঠানটি তথাকথিত শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এবং ডেসটিনি নামক এই ‘হায় হায়’ কোম্পানিটি কয়েক বছরের মধ্যে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে যেতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত এই তিন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই তদন্তকাজ পরিচালনা করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিদর্শন দলের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি এর সদস্যসংখ্যার কোনো তথ্য বা তালিকা প্রদান করেনি। তবে কিছু সদস্যের সাথে আলাপকালে জানা যায়, ডেসটিনির সদস্যসংখ্যা ৬৮ লাখ থেকে ৭০ লাখ হবে। তবে চলতি বছরের মধ্যে ডেসটিনি গ্রুপের সদস্যসংখ্যা এক কোটিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক উপাত্ত : তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ডেসটিনির মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ২৩ কোটি ৯৯ লাখ ২৫ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এই সম্পদ ২০১০ সালের ৩০ জুন বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৫৭০ কোটি ৬১ লাখ ১৬ হাজার ৬৫২ টাকা। এবং গত (২০১১) বছরের ৩১ ডিসেম্বর এটি আরো বেড়ে হয় তিন হাজার ১৮২ কোটি ৭১ লাখ ২২ হাজার ৮৩৬ টাকা। তিন বছরের ব্যবধানে মোট সম্পদ বেড়েছে তিন হাজার ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৯৩ টাকা। শতকরা হিসাবে সম্পদ বৃদ্ধির হার হচ্ছে ১৩ হাজার ১৬৫ দশমিক ৪৪ ভাগ। একইভাবে আমানতের সি’তিও পাঁচ কোটি ৫২ লাখ ১৮ হাজার টাকা থেকে তিন বছরে বেড়ে হয়েছে ৬৫১ কোটি ৯৪ লাখ ৬৩ হাজার ৬৪৯ টাকা। তিন বছরের আমানত বেড়েছে ৬৩৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। শতকরা হিসাবে বৃদ্ধির হার সাড়ে তিন হাজার ভাগ।
শুধু তাই নয়, কোম্পানিটির শেয়ার মূলধনও তিন বছরের ব্যবধানে পাঁচ কোটি ৫২ লাখ ১৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৩৫৫ কোটি ৬৬ লাখ ২৬ হাজার টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে এই বৃদ্ধির হারকে ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডেসটিনির আমানত প্রকল্পগুলো
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রচারিত লিফলেট অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি চলতি আমানত, সঞ্চয়ী আমানত, স’ায়ী আমানত, সাড়ে পাঁচ বছরে দ্বিগুণ আমানত প্রকল্প, মাসিক মুনাফাভিত্তিক আমানত প্রকল্প, শেয়ার মূলধন (যা সঞ্চয় আমানতেরই নামান্তর মাত্র) ইত্যাদি প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির বেশির ভাগ আমানত প্রকল্পগুলো তফসিলি ব্যাংকগুলোর আমানত প্রকল্পের প্রায় অনুরূপ। ২০১১ সালের ৩০ জুন সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মোট আমানতে সি’তি ছিল ৫২২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৪৯২ কোটি ৯৩ লাখ টাকাই ছিল দীর্ঘমেয়াদি আমানত। যার সুদের হার ১৬ শতাংশ। আমানত প্রকল্পগুলো উচ্চ সুদযুক্ত, করমুক্ত ও কমিশনযুক্ত হওয়ায় বহুসংখ্যক প্রশিক্ষিত মাঠকর্মী বা কমিশন অ্যাজেন্টের সুদক্ষ বিপণনব্যবস’ায় তা শহরের আনাচেকানাচে এবং প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হচ্ছে। ডেসটিনি উচ্চ সুদ ও মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে কমিশন অ্যাজেন্ট ব্যবহারের মাধ্যমে জনসাধারণের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহে লিপ্ত রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সংগৃহীত প্রায় এক হাজার ৪০০ কোটি টাকার শেয়ার মূলধনও প্রকৃতপক্ষে আমানতেরই নামান্তর। ২০০৯-১০ অর্থবছরে ডেসটিনির সঞ্চয়ী ও স’ায়ী আমানতের ওপর সুদের হার ছিল যথাক্রমে ৯ ও ১৬ শতাংশ। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করের আওতায় না থাকার কারণে এই সুদের হার অস্বাভাবিক বলে প্রতীয়মান হয়।
গবেষণা নেই তবুও গবেষণায় বিশাল বরাদ্দ! : তদন্ত প্রতিবেদনে ডেসটিনিতে গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম করার মতো কোনো ল্যাব, কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কিংবা যুক্তিসঙ্গত কোনো গবেষণা কার্যক্রমও নিরীক্ষাকালে দৃষ্টিগোচর হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন’ বাংলাদেশ সরকারের বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়, ঢাকা বিভাগ কর্তৃক সম্পাদিত ২০০৯-১০ অর্থবছরে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১০ সালের ৩০ জুনে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে সি’তির পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১৯৩ কোটি ২৭ লাখ ৫৪ হাজার ৯৯৯ টাকা।
চাহিবামাত্র আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেয়া নিয়ে শঙ্কা : তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বিবরণী অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরতযোগ্য আমানতের পরিমাণ ছিল ২২২ কোটি ১৮ লাখ ৫৫ হাজার ২৮৮ টাকা। কিন’ এর বিপরীতে যে পরিমাণ তারল্য সংরক্ষণের প্রয়োজন ছিল দেখা গেছে সেই পরিমাণ তারল্য প্রতিষ্ঠানটির নেই। সমবায় সমিতি বিধিমালা অনুযায়ী ডেসটিনিরি তারল্য ঘাটতি ছিল ৪৭ কোটি ৭৩ লাখ ১১ হাজার টাকা। তাই সমবায় সমিতির অধিদফতরের অডিট পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী তারল্য সঙ্কটের কারণে যেকোনো সময় আমানতের টাকা ফেরত প্রদানের ক্ষেত্রে বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে এবং আমানতকারীদের মধ্যে আস’াহীনতারও সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরিদর্শন দলের মন্তব্য : ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড উচ্চ সুদ ও কমিশনের বিনিময়ে আমানত ও শেয়ার মূলধন সংগ্রহে লিপ্ত রয়েছে। যা কি না অনৈতিক ও প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব ভবিষ্যতে হুমকি সম্মুখীন হতে পারে বলে পরিদর্শন দল মনে করে। শেয়ার মূলধন ও সঞ্চয় আমানতে একটি অংশ কমিশন হিসেবে প্রদান করার কারণে প্রতিষ্ঠানের সংগৃহীত মূলধন হ্রাস পাওয়ায় সদস্যদের শেয়ারে বিনিয়োগকৃত অর্থ প্রতারিত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ডেসটিনির বর্তমান প্রতারণামূলক ও অভিনব এমএলএম কার্যক্রম, উচ্চহারে ও অযৌক্তিকভাবে মূলধন বৃদ্ধি এবং সংগৃহীত আমানত ও মূলধন সুকৌশলে অন্যান্য কোম্পানিতে সরিয়ে নেয়া ইত্যাদি অনিয়মের বিষয়ে আইনি কাঠামোর মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস’া নেয়া জরুরি। এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সমবায় অধিদফতর, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি সমন্বয় একটি উচ্চপর্যায়ে তদন্ত দল গঠন করা জরুরি।

আরও পড়ুন...

কুয়েতে ফ্রাইডে মার্কেট বন্ধের ঘোষণা

কুয়েতে শুক্রবার থেকে ফ্রাইডে মার্কেট (সুক জুমা) বন্ধ অনির্দিষ্টকালের জন্য। করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে সংক্রমণের …