Home / দেশ / দিনাজপুরে আলোকিত মানুষ গড়ার যুদ্ধে গাড়ীচালক ফারুক

দিনাজপুরে আলোকিত মানুষ গড়ার যুদ্ধে গাড়ীচালক ফারুক

নাজমুল হক বাংলার র্বাতা জামালপুর প্রতনিধিঃি জাতির উন্নতির জন্য শিক্ষার বিকল্প নেই। শিক্ষিত জাতি ও শিক্ষিত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে সকল মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো থাকতে হবে। নিরক্ষর মানুষের মাঝে অক্ষরজ্ঞান ছড়িয়ে দিতে জ্ঞান অর্জনের বিকল্প নেই। কিন্তু এই জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে সমাজ-রাষ্ট্র ছাড়াও ব্যক্তিগত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে। শিক্ষাবিহীন জাতি মূল্যহীন। জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে নিজের যা সামর্থ তা নিয়েই অন্ধকারের কালিমা দুর করে আলোকিত মানুষ গড়ার যুদ্ধে নেমেছেন গাড়ীচালক ফারুক। আর তাকে এ কাজে সহযোগিতা করছেন তারই সহধর্মিনী ও একজন কলেজ ছাত্রী ছাবেরা আক্তার। ফারুকের এ কাজ দেখে গ্রামের অনেকে তাকে পাগল ছাড়াও অনেক টিটকারী করে বিভিন্ন কথা বললেও এ নিয়ে তার কোন আক্ষেপ নেই। সে তার লক্ষে অটুট থাকে। ফারুক একটি ছোট্র চাকুরী করে। নিজ আয় দিয়ে সংসার চালানোর পরেও এলাকার সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরনসহ শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে নিরবে। কখনও বাড়ীর উঠানে, রাস্তার পার্শে কিংবা বাড়ী বাড়ী নিজেই চাকুরীর অবসরে ছুটছেন ফারুক নামের এই যুবক শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে। অভাবের তাড়নায় শিক্ষা বঞ্চিত এই যুবক অস্টম শ্রেণী পাশের পর আর পড়ালেখা করার সুযোগ পায়নি। অভাবের যাতাকলে পিষ্ট সেই যুবক ফারুক নিজে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার জ্বালা নিভানোর জন্য সিদ্ধান্ত নেন, জীবনে এক টাকা আয় করলে অন্ততঃ পচিশ পয়সা এলাকার বঞ্চিত, অভাবী, দুঃস্থ, দরিদ্রদের লেখাপড়ায় সহায়তা করে যাবো। অর্থ উপার্জন করলেও ফারুকের মনে প্রশান্তি আসে নাই। নিজের অশান্ত মনকে শান্তনা দিতে গরীব-দুঃস্থদের মাঝে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ফারুক। মোঃ ফারুক হোসেন দিনাজপুর সদর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের মালিপুকুর মসজিদ পাড়ায়। মৃত মাহবুব হোসেনের পূত্র ফারুক হোসেন । ফারুক বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর রাজশাহী উপ-পরিচালকের (কঃ গ্রোঃ) দপ্তরের অনিয়মিত গাড়ী চালক। দৈনিক মজুরী ভিত্তিতে সে গাড়ী চালায়।
এদিকে ফারুক জানায়, তার ২ভাই ও ৪বোনের মধ্যে ৩বোনের বিয়ে হয়েছে। এখন বোন, ভাই, মা সহ নিজ ¯ী¿কে নিয়ে তার সংসার। তার স্ত্রী ছাবেরা আক্তার দিনাজপুর কেবিএম কলেজের কৃষি ডিপ্লোমা ৪র্থ সেমিস্টারের ছাত্রী। আমার সামর্থ অনুযায়ী আমি এলাকার ২শ থেকে আড়াই শত শিক্ষার্থীদের মাঝে খড়ি-মাটি, খাতা, পেন্সিল, কলম, বইসহ শিক্ষা উপকরন বিনামূল্যে বাড়ী বাড়ী পৌছে দেয়। ফারুকের বাড়ীর আঙিনায় বসে বয়স্ক মহিলাদের শিক্ষাদান। বিনামূল্যের শিক্ষাদানের কাজটি করেন তার স্ত্রী ছাবেরা আক্তার। এখানে ৪০জন মহিলা এতে অংশ নেন। চাকুরীতে রাজশাহীতে থাকার কারণে আমার স্ত্রী এ কাজটি করেন। তবে আমি প্রতি মাসে এখানে আসি। ১৯৯৭ সালে শিক্ষা উপকরন দিয়ে অভাবী ছাত্র-ছাত্রীদের সহায়তা করা শুরু করলেও ২০০৫ সাল থেকে নিজ গ্রামের সর্বত্র এটা ছড়িয়ে দেয়। এসব শিশুদের শিক্ষার বিকাশ ঘটাতে একটি স্কুল প্রতিষ্টা করতে চায়। জানিনা এটা কবে সম্ভব হবে। তবে আশা আমি ছাড়িনি। অভাবের তাড়নায় লেখা পড়তে গিয়ে শিশুরা ঝড়ে না পড়ে এবং বয়স্ক যারা শিক্ষালাভে বঞ্চিত হয়েছে তাদেরও মাঝে শিক্ষা দিয়ে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে চায়। ফারুকের এই উদ্যোগ সকলের মাঝে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।

যমুনা সারকারখানা সিবিএ নির্বাচন নির্বাচন কমিশনের মিথ্যা প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারীদের মাঝে চরম ক্ষোভ

নাজমুল হক বাংলার র্বাতা জামালপুর প্রতনিধিঃি দেশের বৃহত্তম ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সারকারখানা সিবিএ নির্বাচন নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। বিতর্কিত নির্বাচন কমিশনারের সংবাদপত্রে মিথ্যা বানোয়াট প্রতিবাদে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যমুনা সারকারখানার নিরিহ শ্রমিক-কর্মচারীদের অভিযোগ, স্থানীয় সাংসদ ও ট্রাক-ট্যাঙ্কলড়ি মালিক সমিতির সভাপতি যৌথ প্রভাব খাটিয়ে দুই বছর মেয়াদি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের ১১ মাস আগেই কমিটি অগঠনতান্ত্রিকভাবে ভেঙ্গে বিতর্কিত নির্বাচন কমিশন গঠনে নির্বাচন তফসিল ঘোষণা করে। বিতর্কিত ওই তফসিলে গত ২১ জুলাই বেলা ১১টায় মনোনয়নপত্র ক্রয় করতে গিয়ে প্রথমে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় উপস্থিত তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই আবু তাহের ও নির্বাচন কমিশনার গোলাম মোস্তফার কাছে। সিবিএ’র সাবেক সাধারন সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন একদল সাংবাদিকের উপস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র ক্রয় করতে গেলে নির্বাচন কমিশনার নানা টালবাহানা করে এবং এক পর্যায়ে তিনি ট্রাক-ট্যাঙ্কলড়ি মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেনকে ফোনে ডেকে মোয়াজ্জেম হোসেনকে কক্ষ থেকে বের করে দেন। এ সময় স্থানীয় এমপির ডানহস্ত আবুল হোসেন মোয়াজ্জেমকে মারধর করতে করতে কক্ষ থেকে বের করে এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের নিচে নিয়ে তার পালিত ক্যাডারদের হাতে ছেড়ে দেয়। সশস্্র ক্যাডাররা তাতে বেধড়ক পেটায়। এ সময় উপস্থিত পুলিশের কয়েকজন কনস্টবল মোয়াজ্জেমকে বাঁচালেও তারাকান্দি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক। ঘটনার সময় সাংসদ মুরাদ হাসান ঘটনাস্থল থেকে একশ গজ দূরে যমুনা সারকারখানার ভিআইপি কক্ষে অবস্থান করছিলেন। বেলা ১১টার ওই ঘটনা বেশ কয়েকটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলের স্কল ও সংবাদে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও এখনো ওই পুলিশ কর্মকর্তা বহাল তবিয়তে রয়েছেন। উল্টো বিতর্কিত নির্বাচন কমিশনার রোববার স্থানীয় সংবাদ পত্রে মিথ্যা প্রতিবাদ দিয়ে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেছেন। ওই দিনের ঘটনায় নির্যাতিত শ্রমিক নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন জামালপুর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করলে আদালতে পরবর্তী শুনানী না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। একই আদালতে অপর একটি মামলা করেছেন যমুনা সারকারখানা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক দাবিদার মতিয়ার রহমান মতি। ওই মামলায় আদালত নির্বাচনের উপর স্থিতাবস্থা জারি করেছেন। বিজ্ঞ আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের হলেও থেমে নেই বিতর্কিত নির্বাচন কশিশনার জামাত নেতা গোলাম মোস্তফা। নির্বাচন সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনার গোলাম মোস্তফা নানা অপকৌশল চালিয়ে যাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় শ্রমিকলীগের একাধিক নেতা অভিযোগ করেছেন, সাংসদ মুরাদ হাসান ও ট্রাক-ট্যাংলড়ি মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন যমুনা সারকারখানা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের যাকে সভাপতি বানানোর অপচেষ্টা করছেন তিনি একজন যুদ্ধাপরাধীর ছেলে এবং যাকে সাধারন সম্পাদক করার অপচেষ্টা চলছে তিনি ২০০১ সালে নির্বাচন পরবর্তী সহিংস্রতায় তারাকান্দিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ভাঙ্গচুর ও পদদলিত করেছিল। একজন যুদ্ধাপরাধীর ছেলেকে সভাপতি ও বঙ্গবন্ধুকে অপমানকারীকে শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক করার অপচেষ্টার ঘটনায় জাতীয় শ্রমিকলীগ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিতর্কিত এই নির্বাচন  নিয়ে যমুনা সারকারখানা শ্রমিক-কর্মচারীদের মাঝে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

দিনাজপুরে  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট  ২ জন নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু ॥ আহত-১

নাজমুল হক বাংলার র্বাতা জামালপুর প্রতনিধিঃি দিনাজপুর শহরের কাঞ্চন কলোনীতে একটি বাড়ীর দেয়াল প্লাস্টার করার সময় ২ জন নির্মান শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গুরুত্বও আহত হয়েছে আরো ১ জন। কোতয়ালী পুলিশ জানায়, গতকাল দুপুর ২ টায় দিনাজপুর শহরের কাঞ্চন কলোনীতর জনৈক মোজাম্মেল হকের বাড়ী রওশন ভিলার দ্বিতীয় তলার দেয়ালে প্লাস্টার করার সময় বিদ্যুাৎ স্পৃষ্টে  রশিদুল ও জাহাঙ্গীর নামে ২ জন নির্মান শ্রমিক ঘটনা স্থলেই মারা যায়। আহত হয় বাবু নামে আরো এক শ্রমিক। এলাকাবাসী জানায়, বাড়ীটির সীমানা অবৈধভাবে রাস্তার উপরে চলে আসায় বিদ্যুতের  তারে নির্মান শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ওই বাড়ীটির ব্যাপক ভাংচুর করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

দিনাজপুরে চাঞ্চল্যকর মা ও কন্যা পাচার মামলার পলাতক আসামী মাসুদ দেড় বছর পর গ্রেফতার
নাজমুল হক বাংলার র্বাতা জামালপুর প্রতনিধিঃি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটেন চাঞ্চল্যকর মা ও কন্যাকে ভারতে পাচার মামলার অন্যতম আসামী মাসুদ রানাকে পুলিশ দেড় বছর পর আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থানার অফিসার্স ইনচার্জ আখতার হোসেন জানান, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘোড়াঘাট উপজেলার ডুগডুগি বাজার নামক স্থান থেকে এই চাঞ্চল্যকর মামলার পলাতক আসামী মাসুদ রানা (৩০) কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী ঘোড়াঘাট পৌরসভার বড়গলি মহল্লার মৃত শাহদত হোসেনের পুত্র। সে গত দেড় বছর থেকে পুলিশের গ্রেফতার এড়িয়ে পলাতক রয়েছে। গ্রেফতারের সময় তার সঙ্গে এক যুবতীকে আটক করা হয়। আটক যুবতী জানায় তার নাম শ্যামা রানী দাস। সে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার মুর্শিদ হাট গ্রামের শ্যাম চন্দ্র দাসের কন্যা। মাসুদ পুলিশের নিকট স্বীকার করেছে আটক শ্যামা রানী দাসকে ধর্মান্তরিত করে সে গত এক সপ্তাহ পূর্বে বিয়ে করেছে। তাকে নিয়ে সে হিলি সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এসময় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। গতকাল শুক্রবার সকালে মাসুদকে দিনাজপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। আটক শ্যামা রাণী দাসকে মাসুদের মায়ের জিম্মায় দেয়া হয়েছে। জানা যায়, গত ২০১০ সালের ৪ মার্চ মাসুদ ও তার সহযোগীরা ঘোড়াঘাট উপজেলা কাজীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আব্দুর রশিদের স্ত্রী লালবানু (৩৫) ও তার কন্যা রুপা বেগম (১৩) কে অপহরণ করে ভারতের বোম্বে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আব্দুর রশিদ বাদি হয়ে ঘোড়াঘাট থানায় নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় পুলিশ তদন্ত করে গত বছর ৩ এপ্রিল মাসুদ সহ ১৩ জনকে আসামী করে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করে। মামলার অপর আসামী শহিদা বেগম রিয়া (২৫) সুমি আক্তার (২৭) এ দুজনসহ ভিকটিম লালবানু ও রুপা বেগম গত ৫ নভেম্বর ভারত থেকে হিলি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ সীমানায় প্রবেশ করলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। ভিকটিম লালবানুর শরীরে ক্যান্সার আক্রান্ত হলে দিনাজপুর জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধানে ঢাকা পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৯ জুন সে মারা যায়। পলাতক ১১ জন আসামীর মধ্যে মাসুদ রানাকে পুলিশ গতকাল গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। মামলার অপর আসামী শফিউল ইসলাম (২৩) মালা বেগম (২৫) লিপি বেগম (২২) সুফিয়া ওরফে অঞ্জলি (৩৫) রুবি আক্তার (৩২) আয়মনা বেগম (৫৫) শফির উদ্দীন (৪০) চান মিয়া (৪২) জিয়ারুল (৩২) ও আম্বিয়া বেগম (৪৮) পলাতক রয়েছে।

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার দেড় মাসেও মূল আসামীকে গ্রেফতার হচ্ছে না
নাজমুল হক বাংলার র্বাতা জামালপুর প্রতনিধিঃি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে যৌতুকের টাকা না পেয়ে পাষন্ড স্বামী তার স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার দেড় মাস অতিবাহিতের পরও রহস্যজনক কারনে পার্বতীপুর থানা পুলিশ মূল আসামীকে গ্রেফতার করতে পারছেনা। জানা যায়,পার্বতীপুর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের মোস্তফাপুর গ্রামের মৃত তফিল উদ্দিনের পুত্র মনোয়ার হোসেনের সাথে গত ৩১/০৭/১১ ইং তারিখে একই ইউনিয়নের পার্শ্ববতী অসুরকোর্ট গ্রামের আলাল উদ্দিনের ২য় কন্যা সেলিনা আক্তার ওরফে রুনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক জন্য মনোয়ার হোসেন সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও রুনাকে চাপ দিতে থাকে। এক পর্যয়ে রুনাকে পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেয়। দিন মজুর আলাল মেয়ের চোখের পানি দেখে ধার-দেনা করে ২০ হাজার টাকা মেয়ে-জামাইকে দেয়। এর পরও যৌতুকলুভি মনোয়ার হোসেন আরো ৩০ হাজার টাকার জন্য পুনারায় স্ত্রীর উপরে নির্যাতন করে। গত ১৭/০৬/১২ রবিবার যৌতুকের টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাক-বিতান্ডের এক পর্যায়ে মনোয়ার হোসেন স্ত্রী সেলিনা আক্তার ওরফে রুনাকে বেধড়ক মারপিট করলে সেলিনা আক্তার মারা যায়। পিটিয়ে হত্যার পর মনোয়ার হোসেন বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে মনোয়ার হোসেনের বড় ভাবী আবুল বাসারের স্ত্রী শাহিদা বেগম কৌশলে লাশের গলায় ফাঁস দিয়ে অতœহত্যা করেছে বলে প্রচার চালায়। মনোয়ার হোসেনের চাচাতো ভাই রুহুল আমিন মোবাইল ফোনে আলালকে জানায় যে, তার মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আতœহত্যা করেছে। পরে নিহতের পিতা আলাল উদ্দিন সরকার ৬ জনকে আসামী করে পার্বতীপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। যৌতুকের কারনে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা ঘটনার প্রায় দেড় মাস অতিবাহিতের পরও রহস্য জনক কারনে পুলিশ ঘাতক মনোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করতে পারছেনা। মামলার বাদী হতদরিদ্র দিন-মজুর আলাল উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন যে, আসামী গ্রেফতারে পুলিশের কোন ভূমিকাই নেই। পার্বতীপুর থানার ওসি শওকত আলী জানান, এ হত্যা মামলার মূল আসামী ছাড়া ঘাতক মনোয়ার হোসেনের বড় ভাই আবুল বাসার ও ভাবী শাহিদা বেগমসহ অন্যান্য আসামীরা হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছে।
এলাকার প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় জামিন প্রাপ্তরা এই হত্যাকান্ড মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।

About

আরও পড়ুন...

চট্টগ্রামে ক্যাব’র উদ্যোগে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার সাথে অ্যাডভোকেসী সভা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রামে ক্যাব’র উদ্যোগে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার সাথে অ্যাডভোকেসী সভা অনুষ্ঠিত। ভোক্তাদের মাঝে শিক্ষা ও …

error: Content is protected !!