Home / দেশ / পাবনায় পদ্মা-যমুনার ব্যাপক ভাঙন

পাবনায় পদ্মা-যমুনার ব্যাপক ভাঙন

পাবনা থেকে মোবারক বিশ্বাসঃ  পদ্মা ও যমুনা নদীর পানি কমছে সেই সাথে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী ১০টি গ্রামের তিন শতাধিক বাড়ি-ঘর দোকানপাট, স্কুল, মসজিদ, মন্দিরসহ প্রায় ৫শ একর জমি গত এক সপ্তাহে পদ্মা গ্রাস করেছে। হার্ডিঞ্জ রেল সেতু এবং লালন শাহ সেতুর উত্তর দিকে আরামবাড়িয়া গ্রামের প্রায় অর্ধেকাংশ পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। নদী যে ভবে বাঁক নিয়েছে তাতে এখনই যদি ভাঙন প্রতিরোধ জোরদার করা না হয় তা হলে ব্রীজ দুটি হুমকীর সম্মুখিন হবে এমন আশঙ্কা করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা। সাঁড়া, কোমরপুর, আরামবাড়িয়া, শেখেরচর, মাঝদিয়া, ঝাউতলা, গোপালপুর মৌজায় ভাঙন অব্যাহত আছে। এসব গ্রামের জনগন ভাঙন আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছে। পদ্মা নদীর বাম তীর বরাবর সাঁড়া থেকে ঝাউদিয়া পর্যন্ত ৫ কি:মি: এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। আরামবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়টি এখন মারত্মক হুমকীর সম্মুখিন। মাঝদিয়া এবং শেখের চকের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীতে বিলীন হয়েছে। আবাদী জমি প্রতিদিনই ভাঙছে। পাবনা সদর উপজেলার রানীনগর, চর সানিরদিয়ার এবং চর গোহাইলবাড়ি গ্রামের বিরাট এলাকা পদ্মায় বিলীন হয়েছে। সুজানগরের নাজিরগঞ্জ, গোয়ারিয়া, সাতবাড়িয়া এলাকায় ভাঙন অব্যাহত আছে। এদিকে যমুনা নদীর নাকালিয়া অংশে ভাঙন প্রতিরোধ হলেও সিংহাসন এবং গণপদদিয়া এলাকায় ভাঙন অব্যাহত আছে। নগরবাড়ি পুরাতন ফেরী ঘাটের দক্ষিণ দিকে কাজিরহাট পর্যন্ত ১২ কি:মি: এলাকার ৮ টি পয়েন্টে যমুনায় ভাঙন চলছে । ইতোমধ্যেই প্রায় ২শ একর আবাদী জমি যমুনা গ্রাস করেছে। কাজিরহাট ঘাট সংলঘœ এলাকাতেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। যমুনার মধ্যবর্তী চর সাফুল্লা, চর নাকালিয়া, শ্রী কন্ঠদিয়া, চর নাগদা, চর কল্যানপুর এবং পদ্মার মধ্যবর্তী চর ভবানিপুর, চর বলরামপুর, নতুন চর ভাঙছে। যমুনা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে কয়েকটি পয়েন্টে কাজ চললেও পদ্মার ভাঙন প্রতিরোধের জন্য কোন কার্যকরি পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। লালপুরের ভাটিতে পদ্মা ঈশ্বরদীর দিকে যে ভাবে বাঁক নিয়েছে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান সাড়া’র ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধের জন্য উর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে জানিয়েছেন।

পাবনা ঢালারচর-রেল লাইনের ভুমি  অধিগ্রহনের টাকা প্রদানে ঘুষ গ্রহনের অভিযোগে কানুনগো ও সার্ভেয়ারকে প্রত্যাহার করা হলেও উর্দ্ধতন কর্তপক্ষ বহাল তবিয়তে

পাবনা থেকে মোবারক বিশ্বাস ঃ পাবনা-ঢালারচর রেল লাইনের ভূমি অধিগ্রহণের টাকা প্রদানে জমির মালিকদেরন নিকট থেকে শতকরা ৫ টাকা হারে ঘুষ আদায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে এলএ অফিসের ৬ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হলেও নাটের গুরু ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা বেঞ্জামিন জাম্বু গং বহাল তবিয়তে রয়ে গেছেন। বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, জমি অধিগ্রহনের টাকা প্রদানের জন্য ৫% টাকা আদায়ের নির্দেশনা ভুমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা বেঞ্জামিন জাম্বু গং দিয়েছেন। তার নির্দেশেই এল এ অফিসের কানুনগো আব্দুল খালেক, সাইদুল ইসলাম, সার্ভেয়ার আসাদুজ্জামান, মন্ত কুমার, আবু সাঈদ ও জিয়াউর রহমান ভুমি মালিকদের কাছ থেকে জোর পুর্বক টাকা আদায় করতেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাদেরকে চেক প্রদান করা হত না। এ বিষয়ে ভুমির কয়েকজন মালিক ভুমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানালেও তিনি চুপ থাকতেন। জেলা প্রশাসক অফিসে গুঞ্জন  উঠেছে বড় কর্তাদের নির্দেশে উৎকোচ গ্রহণ করা হলেও মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীদের খেসারত দিতে হচ্ছে। এ যেন পানি নিচের দিকে গড়ার ইতিহাস। নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে এবং উৎকোচের টাকা হালাল করতে কানুনগো ও সার্ভেয়ারদের প্রত্যাহার করে মূলত জনগণকে ধোকা দেওয়া হয়েছে এবং উর্দ্ধতন কর্তপক্ষকে রক্ষা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ঘুষ গ্রহনের অভিযোগে কানুনগো ও সার্ভেয়ারদের প্রত্যাহার করে নিলেও নাটের গুরু ভুমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা রয়ে গেছেন ধরা ছোয়ার বাইরে। বিষয়টি ঊর্দ্ধতন কর্তপক্ষ তদন্ত করলে উপরের অনেক কর্মকর্তা জড়িত থাকার প্রমান বের হয়ে আসত। জেলা প্রশাসন ৫ জনকে প্রত্যাহার করে অন্যদের উক্ত স্থানে দায়িত্ব দিয়ে তাদেরকে দিয়েও আগের মত কমিশন আদায় করবেন বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। উল্লেখ্য ঈশ্বরদী থেকে পাবনা পর্যন্ত ২৫ কি:মি: রেলপথ নির্মানের জন্য ২শ ৩৪ একর জমি হুকুম দখল করা হয়েছে। ১৬টি মৌজার এসব জমির জন্য মূল্য নির্ধারণ হয়েছে ১শ ৪৮ কোটি  ২৮ লাখ টাকা। ইতোমধ্যেই পাবনা জেলা প্রশাসনের তহবিলে দেয়া হয়েছে ১’শ৩২ কোটি টাকা। পাবনা জেলার অধিগ্রহণকৃত ভূমির মধ্যে সদরের বাইপাস এলাকাসহ ১১ কিলোমিটার ভূমি মালিকদের টাকা বিতরণ শুরু হয়েছে। বাকিদের টাকা আগামী বছরে দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। পাবনার  ঈশ্বরদী থেকে ঢালারচর পর্যন্ত রেললাইনের জন্য ২০১০-’১১ অর্থবছরে বরাদ্দ করা হয় ৯শ ৩০ কোটি টাকা। বারবার রেল লাইনের গতিপথ পরিবর্তনের কারনে বিলম্বে হলেও পাবনা সদর উপজেলার অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকদের মধ্যে ক্ষতিপূরণের টাকা দেয়া শুরু হয়েছে। মোট ১৬টি মৌজার মধ্যে যে সমস্ত মৌজায় টাকা দেয়া হচ্ছে সেগুলো  হচ্ছে : বাড়ইপাড়া, রাধানগর, শালগাড়িয়া, ভজেন্দ্রপুর, ক্ষুদ্রমাটিয়াবাড়ি, বড় মাটিয়াবাড়ি, সিঙ্গা, ধরবিলা ইত্যাদি। সার্ভেয়ার আসলাম সরকার জানান, এসব মৌজার অধিগ্রহণকৃত জমির নথিপত্র দেখে নিয়মানুযায়ী ৭ ধারা নোটিশ দেয়া হয়েছে জমির  প্রকৃত মালিককে। এখন তারা টাকার চেক গ্রহণ করছেন। এদিকে জমির মালিকদের কাছ থেকে প্রাপ্য টাকার শতকরা ৫ টাকা হারে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে কানুনগো ও সার্ভেয়ারদের প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসকের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন।  আরো জানা যায়, নেজারত কালেক্টর বেঞ্জামিন জাম্বু গং এর বিরুদ্ধে রয়েছে আরো বিস্তর অভিযোগ। তার দপ্তরে বিভিন্ন অভিযোগের ফাইল গায়েব হয়ে গেলে এ ব্যাপারে তার কাছে অভিযোগ প্রদান করা হলেও তিনি রহস্যজনকভাবে নিশ্চুপ থাকতেন। গত ০৩-০৫-১২ ইং তারিখে ৭৬২২০০১২০৫০৩৩৮ নং স্বারকে জনৈক ব্যাক্তি জেলা প্রশাসক বরাবর সরকারী সম্পত্তিতে পাকা স্থাপনা নির্মানের একটি অভিযোগ প্রদান করেছিলেন। অফিস সুত্রে জানা যায়, সেই অভিযোগপত্র জেলা প্রশাসক এডিসি রেভিনিউ বরাবর ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশ দেন। এডিসি রেভিনিউ উক্ত দরখাস্ত আরডিসি ব্রেঞ্জামিন চাম্বু গং এর দপ্তরে প্রেরন করেন। আরডিসি দরখাস্তটি অফিস সহকারী দৌলত এর কাছে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রেরন করেন। এক পর্যায়ে অভিযোগটি দীর্ঘদিন ব্যবস্থা গ্রহণ না করাই অভিযোগকারী অভিযোগের খোঁজ নিতে গিয়ে দেখেন উক্ত দপ্তরে এ ধরনের কোন অভিযোগপত্র নাই। এ ব্যাপারে আরডিসি’র কাছে অভিযোগ করা হলেও সে এই ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নাই। পরবর্তিতে অভিযোগকারীর কাছে থেকে অভিযোগের ফটো কপি নিয়ে রেখে দেন। এ বিষয়ে আরডিসি’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারী সম্পত্তির ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ সহজে নেওয়া সম্ভব না। এটা দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। একটি সুত্র নিশ্চিত করেছে অফিস সহকারী দৌলত মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অভিযোগপত্রটি অফিস ফাইল থেকে সরিয়ে ফেলেন।

পাবনা আটঘরিয়ায় ট্রাক চাাঁপায় বৃদ্ধ নিহত
পাবনা থেকে মোবারক বিশ্বাস ঃ  পাবনা আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর ইউনিয়নে পাবনা-চাটমোহর সড়কের উপহার সিনেমা হলের সামনে রোববার দুপুরে রাস্তা পার হওয়ার সময় ট্রাকের নিচে চাঁপা পড়ে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছে। নিহতের নাম মঈনউদ্দিন মোল্লা (৭৫)। আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, দুপুর ১২টায় উপহার সিনেমা হলের সামনে রাস্তা পার হচ্ছিলেন মাঈন উদ্দিন। এ সময় একটি ট্রাক তাকে চাঁপা দিয়ে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। পরবর্তিতে আত্বিয় স্বজনের কাছে নিহতের লাশ হস্তান্তর করা হয়।

আজ ম্যানেজিং কমিটির মিটিং-এ সিদ্ধান্ত পাবনা চাটমোহরে এবার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য
দ্বারা স্কুল ছাত্রী ইভটিজিংয়ের শিকার

পাবনা থেকে মোবারক বিশ্বাসঃ  পাবনার চাটমোহরে এবার ইভটিজিংয়ের  শিকার হলো দশম শ্রেণীর একজন ছাত্রী। স্কুল  ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য কর্তৃক  ছাত্রীটি ইভটিজিংয়ের শিকার হয়েছে গত শুক্রবার দুপুরে। অভিযোগে জানা গেছে, চাটমোহরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজা চন্দ্রনাথ ও বাবু শম্ভুনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের (আরসিএন এন্ড বিএসএন হাইস্কুল) ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য ও দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মহররম হোসেন গত শুক্রবার স্কুলের ভোকেশনাল শাখার ১০ম শ্রেনীর ছাত্রী ছোট শালিখা মহল্লার দুলাল হোসেনের মেয়ে আখিকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্কুলে ডেকে নিয়ে ল্যাবরেটরীতে নিয়ে যায়। সেখানে ছাত্রীটিকে নানা রকম কু-প্রস্তাব দেয়। এক পর্যায়ে ছাত্রীটি কান্নাজড়িত কন্ঠে কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসে। অভিযোগ জানায় প্রধান শিক্ষকসহ অন্যদের কাছে। এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগে আরো জানা যায়, সকল বিধিবিধান উপেক্ষা করে এবং আইন অমান্য করে অভিভাবক সদস্য মোঃ মহররম হোসেন ও বাবু উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে ছাত্রীদের নানাভাবে ডিস্টার্ব করে থাকেন। এছাড়া উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি করার কথা বলে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেছেন। বিষয়টি সুধীমহলসহ সর্বত্র আলোচিত হতে থাকলে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আজ রোববার জরুরী সভা আহবান করেছেন। এ ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ শামসুল আলম জানান, আমি প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে বিষয়টি জেনেছি। কমিটির জরুরী সভা আহবান করা হয়েছে। কোন ছাড় দেয়া হবে না। অবশ্যই চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক এসএম আঃ জব্বার বলেন, ঘটনাটি সত্যি। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। কমিটির মিটিং করে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেবো। তিনি আরো বলেন, এই দু’সদস্যের বিরুদ্ধে আরো অনেক অভিযোগ আছে। তারা পরীক্ষা কেন্দ্রে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে জোর করেই কেন্দ্রে প্রবেশ করে। আমি নিষেধ করলেও তারা শোনেননি। অভিযুক্ত মহররম হোসেন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যে ঘটনা ঘটেছে, তা তেমন কিছু নয়। সম্পূর্ণ মিথ্যে, রাজনৈতিক। আমি কোন খারাপ কথা বলিনি। সেতো আমার মেয়ের মতো। মহররম হোসেন বলেন, বসার কথা আছে। বসে কি হয় দেখি, আগেই কিছু লেখার দরকার নেই। তিনি বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে যাবার ব্যাপারে স্কুল থেকে আমাকে কিছু বলা হয়নি। একজন ম্যাডাম সাকুলে এসে ঘুমায়। বিষয়টি হেড স্যারকে বলেছি, মোবাইলে ছবি তুলেছি। এ কারণেই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ। অপর অভিযুক্ত বাবু জানান, আমি কিছুই জানি না। মহররম মোবাইলে মেয়েটিকে ডেকে নিয়ে আসে শুনেছি। কি বলেছে জানি না। আমি এর সাথে কোন ভাবেই জড়িত নই। আমি মহররমের বিচার চাই। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহল, অভিভভাবক, সচেতন মহল ও সুধীমহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযুক্ত অভিভাবক সদস্য মহররম ও বাবুর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন। তারা অভিযক্তদের আইনের হাতে সোপর্দ করারও দাবি জানিয়েছেন। এঘটনায় এলাকার সর্বস্তরের মানুষ ফুশে উঠছে। টক অব দ্যা চাটমোহরে পরিনত হয়েছে মহরম মহুরীর কাহিনী।

পাবনা চাটমোহরে বিয়ের প্রলোভনে বাক প্রতিবন্দ্বীকে ধর্ষণের অভিযোগ
পাবনা থেকে মোবারক বিশ্বাসঃ  পাবনার চাটমোহরে এক বাক প্রতিবন্দ্বীকে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষিতাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ধর্ষিতার চাচা এ ব্যাপারে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হরিপুর ইউপি’র পাচবাড়িয়া গ্রামের আফজাল হোসেনের বোবা মেয়ে রুপালী খাতুন(২০)কে ভালবাসার ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে মশাগাড়ী গ্রামের শামসুল হকের পালিত ছেলে এবং বাঙ্গালা গ্রামের ইব্রাহিম হোসেনের ছেলে রতন আলী(৩০) একাধিকবার ধর্ষণ করে। গত ২৫ জুলাই রাতে আবারও জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এতে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে ২৬ জুলাই তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এর আগে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংস্ার চেষ্টা করা হলে তা ব্যর্থ হয়। অবশেষে ২৬ জুলাই চাটমোহর থানায় ২০০০সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সংশোধনী /০৩ এর ৯(১) ধারা মতে একটি মামলা হয়েছে।মামলা নং-১৯। পুলিশ এখনও আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ধর্ষক রতন পলাতক রয়েছে।

আটঘরিয়ায় এক বিদ্যালয়ে দুই প্রধান শিক্ষক
পাবনা থেকে মোবারক বিশ্বাসঃ  আটঘরিয়ায় এক প্রথমিক বিদ্যালয়ে দুই প্রধান শিক্ষক থাকায় বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিস সহ সংশি¬ষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা। বিদ্যালয়ের দেড় শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার মান নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে  এলাকার সচেতন মহলের। এতে কোমল মতি ছাত্র-ছাত্রীদের মনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। জানা যায়, উপজেলার মাজপাড়া ইউনিয়নের হাড়লপাড়া রেজিঃ বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জেষ্ঠ্য শিক্ষীকা জরিনা খাতুন কে তৎ কালীন ম্যানেজিং কমিটি প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠ ভাবে পরিচালনার জন্য গত ২৩ এপ্রিল/০৫ ইং তারিখে নিয়োগ দেন। নিয়োগের প্রেক্ষিতে ১ এপ্রিল /০৮ ইং তারিখে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের জন্য সরকারী ভাতা পেতে থাকেন। কিন্তু ১৩ ফেব্রয়ারী/১০ ইং তারিখে  খিদিরপুর ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক ইয়াছিন আলী কে সভাপতি করে নতুন কমিটি গঠিত হওয়ার পর থেকে শুরু হয় নানা অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি। গত ২৮-৩-১২ ইং তারিখে উপজেলা শিক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত শিক্ষা অফিসার ইসরাইল হোসেন কেন প্রধান শিক্ষকের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্বেও দায়িত্ব অর্পন করা হচ্ছেনা। ব্যাক্তিগত আক্রশের কারণ উলে¬খ করে সভাপতি বরাবর লিখিত সুপরিশপত্র পাঠান। এ সুপারিশ কে উপেক্ষা করে গত ২৭ মে /১২ ইং তারিখে গোপনে অত্র বিদ্যালয়ের নার্গিসআরা কে নিয়োগ দেন । ডিজি   অনুমোদিত প্রধান শিক্ষক কে বাদ দিয়ে পুনরায় অনিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেন। এনিয়ে জন মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে। জানাযায়,নতুন করে নিয়োগ প্রাপ্ত নার্গিস আরা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইয়াছিন আলীর স্ত্রী। যার কারনে নিয়ম নিতির তোয়াক্কা না করে অবৈধ ভাবে নিয়োগ দিয়ে প্রধান শিক্ষক বানাতে চায়। বিদ্যালয়ের শিক্ষীকা আফরোজা খাতুন জানান,স্কুলে শিক্ষক মাত্র ৪ জন ১ জন পি,টি,আই ট্রেনিং করছে ২জন প্রধান শিক্ষকের পদ নিয়ে লড়াই করছে। আমার একা ক্লাশ নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এব্যাপারে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোস্তফা মাহমুদ জানান,ওই বিদ্যালয়ে দুইজন প্রধান শিক্ষক থাকায় আমাদের নানা বিভ্রান্তির মধে পড়তে হচ্ছে। উপবৃত্তির তালিকা,বেতন ভাতা সহ বিভিন্ন তথ্য দুইজন ভিন্ন ভিন্ন ভাবে জমা দিয়ে থাকেন আমরা কোনটি গ্রহন করব তা বুঝতে কঠিন হয়ে পড়ে। উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা রয়েছে বলে আমরা কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছিনা। এদিকে এলাকার সচেতন মহল মনে করেন উক্ত ঘটনায় বিদ্যালয়ের ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। প্রতারিত হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীরা। বিদ্যালয়ের স্বার্থে কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপে এ সমস্যা নিরসনের জোর দাবি জানিয়েছেন ছাত্র অভিভাবক ও সচেতন মহল।

About

আরও পড়ুন...

চট্টগ্রামে ক্যাব’র উদ্যোগে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার সাথে অ্যাডভোকেসী সভা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রামে ক্যাব’র উদ্যোগে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার সাথে অ্যাডভোকেসী সভা অনুষ্ঠিত। ভোক্তাদের মাঝে শিক্ষা ও …

error: Content is protected !!