Home / দেশ / পাবনা র‌্যাবের অভিযানে ৫১বোতল ফেন্সিডিলসহ ১জন গ্রেফতার

পাবনা র‌্যাবের অভিযানে ৫১বোতল ফেন্সিডিলসহ ১জন গ্রেফতার

মোবারক বিশ্বাস ঃ পাবনায় র‌্যাবের হাতে ৫১বোতল ফেন্সিডিলসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পাবনা র‌্যাব সদস্যরা। গতকাল বিকালে সদর উপজেলার চক রামানন্দপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পাবনা র‌্যাব ক্যাম্প-১২ সিপিসি-২ জানায়, তারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে চক রামানন্দপুর ব্রাক অফিসের সামনে জনৈক মাদক ব্যবসায়ী ফেন্সিডিলসহ অবস্থান করছে। খবর পেয়ে পাবনা ক্যাম্প কমান্ডার লেঃ কমান্ডার কেএম তানভীরের নির্দেশে ডিএডি বরকত আলী নেতৃত্বে একটি অভিযান দল ঘটনাস্থলের উদ্দ্যেশে রওনা হয়। অভিযানদল বিকাল সাড়ে ৪টায় সেখানে উপস্থিত হয়ে পাকা রাস্তার উপর থেকে ১ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ব্যাক্তি পৌর শালগাড়িয়া টিভি হাসপাতাল এলাকার মৃত আব্দুল গফুর খাঁনের ছেলে মিজানুর রহমান খাঁন (৩২)। অভিযান দল তার হাতে থাকা প্লাষ্টিকের ব্যাগ তল্লাশি করে ৫১ বোতল ভারতীয় নিষিদ্ধ ফেন্সিডিল উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত ফেন্সিডিলের মুল্য ২৫ হাজার ৫শত টাকা বলে জানায় অভিযানদল। এ ব্যাপারে পাবনা র‌্যাব ক্যাম্প বাদী হয়ে সদর থানায় ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতারকৃতকে সোর্পদ করে একটি মাদক আইনে মামলা দায়ের করেছে।

পাবনা চাটমোহরে চরমপন্থিকে কুপিয়ে গুরতর আহত
মোবারক বিশ্বাস ঃ পাবনা চাটমোহর উপজেলার চরমপন্থিখ্যাত খতবাড়ি গ্রামে গত বুধবার রাতে অন্তদলীয় দ্বন্দে এক চরমপন্থি নেতাকে কুপিয়ে গুরতর আহত করার খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ জানায়, বুধবার রাত ৯ টায় স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও চরমপন্থিদল বাহীনির আঞ্চলিক নেতা মোটর সাইকেল যোগে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাউতারা ব্রিজের কাছে ৮/১০ জনের সশস্ত্র একটি গ্র“প তার পথরোধ করে এলাপাথারীভাবে কুপাতে থাকে। ফরিদ মারা গেছে ভেবে সন্ত্রাসীরা তাকে ফেলে চলে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রত ঘটনাস্থলে পৌছে ফরিদকে উদ্ধার করে চাটমোহর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স্রে ভর্তি করে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীর অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাত ১১টায় আহতকে দ্রত পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন। আহত ফরিদ চরমপন্থিখ্যাত মূলগ্রাম ইউনিয়নের খতবাড়ি গ্রামের মৃত সমেদ খাঁর ছেলে। সে মূলগ্রাম ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সভাপতি। এ ঘটনায় এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশের ধারনা অভ্যান্তরীন কোন্দলের জের ধেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। খবর লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি। উল্লেখ্য খতবাড়ি গ্রামে ১৯৮৮ সালের ২৮ আগষ্ট রাতে চরমপন্থিদলের অভ্যান্তরিন কোন্দলে ১২ জন নিহত হন। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় একের পর এক হত্যাকান্ড হয়ে আসছে। এদিকে স্থানীয়রা জানায়, ফরিদ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হওয়ায় সে দলের ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করতো। সাধারন মানুষকে মিথ্যা মামলা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে শালিস বৈঠকে জরিমানা করে উক্ত টাকা নিজের পকেটস্থ করতো। এ ছাড়া থানায় বিভিন্ন সন্ত্রাসীদের পক্ষে তদবির বানিজ্য করতো। তার ভয়ে এলাকায় ক্ষমতাসীনদলের সদস্যরাও তটস্থ থাকতো। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

পাবনা চাটমোহর বয়েন উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ!
মোবারক বিশ্বাস ঃ পাবনার চাটমোহর উপজেলার প্রফেসর বয়েন উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের অফিস সহকারী আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার দুর্নীতির ফাঁদে পরে এই কলেজের বাউবি শাখার ৬ জন ছাত্র সেমিষ্টার ফি বাবদ প্রায় ২৫ হাজার টাকা অফিস সহকারী আঃ আজিজের কাছে জমা দেয়। এই ছাত্ররা গত ৬ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া চূড়ান্ত সেমিষ্টারের পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে যায়। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত তালিকায় তাদের রোল অন্তর্ভূক্ত নেই বলে জানায়। তাতে বলা হয় সেমিষ্টার ফি বাউবিতে জমা হয়নি । হতাশ ছাত্রদের দাবী, বিগত ৪ টি সেমিষ্টারের সমূদয় অর্থ আঃ আজিজের কাছে যেমন জমা দিয়েছি, তেমনি শেষ সেমিষ্টারের অর্থও তারে কাছে জমা দেওয়া হয়। এই কলেজের উন্মুক্ত পরীক্ষায় উন্মুক্ত ভাবেই নকল চলে বলে অভিযোগ। অফিস সহকারী আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ, সে পরীক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে সাবজেক্ট ক্রস এসেছে এমন কথা বলে মোটা টাকা আদায় করে পাশ করিয়ে দেবার নিশ্চয়তা দেন। বোর্ড কর্তৃক নির্দিষ্ট সেমিষ্টার ফি প্রদান সাপেক্ষে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যে বই বিতরণ করার কথা তা করা হয় না। বই বিতরণ কালে প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর কাছ থেকে ১শ টাকা করে আদায় করা হয়। প্রত্যেক সেমিষ্টার পরীক্ষার আগে আঃ আজিজ ছাত্র-ছাত্রীদের প্রবেশ পত্র নিজ হেফাজতে রেখে পরীক্ষায় নকল করতে দেওয়ার কথা বলে প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর কাছ থেকে ৩/৪শ টাকা করে আদায় করেন। অভিযোগে জানা যায় কলেজের অধ্যক্ষ ও অফিস সহকারী এই অর্থ ভাগ বাটোয়ারা করে নেন। এ ব্যাপারে আঃ আজিজ জানান, ঐ ৬ ছাত্র আমার কাছে কোন টাকা জমা দেয়নি। এখানে কোন অনিয়ম দুর্নীতি করা হয় না। এ ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ সদর উদ্দিন জানান, তাদের অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই। তবে তিনি বাউবির পরীক্ষায় কিছু নকল হতে পারে বলে জানান। প্রফেসর বয়েন উদ্দিন ডিগ্রী কলেজে উন্মুক্ত বিশ্ব বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় নকলবাজী বন্ধ ও অফিস সহকারী আঃ আজিজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি ভুক্ত ভোগীদের।


মৃত্যুর আগেই চেহলাম অনুষ্ঠিত!

মোবারক বিশ্বাস ঃ পাবনার চাটমোহর পৌর এলাকার চৌধুরী পাড়া মহল্লায় আলহাজ্ব শহিদুল ইসলাম প্রামানিক মৃত্যুর আগেই তার চেহলাম অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন । গত শুক্রবার তিনি তার বাসভবনে মৃত্যূ পূর্ব চেহলামে ৩ সহস্রাধিক ব্যক্তিকে দাওয়াত করে খাওয়ান। এ ব্যাপারে আলহাজ্ব শহিদুল ইসলাম তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘‘আমার ইচ্ছা থেকেই এ কাজ করলাম। এ কাজে আমি মানুষিক ভাবে শান্তি পেয়েছি।’’ আলহাজ্ব শহিদুল ইসলাম প্রামাণিকের ৮ ছেলে ২ মেয়েসহ নাতি নাতনী রয়েছেন।

ভাঙ্গুড়ায় শহীদ মিনার ভাঙ্গার অপপ্রচার ॥ গ্রাম্য কোন্দলে এক ঘরে এক স্কুল শিক্ষক!
মোবারক বিশ্বাস ঃ পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউপির ময়দানদীঘি বাজারে অবস্থিত একটি শহীদ মিনার ভাঙ্গার অপপ্রচার চালিয়ে গ্রাম্য কোন্দল সৃষ্টি করে এক স্কুল শিক্ষককে একঘরে করার অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগে জানা গেছে, বিগত ইউপি নির্বাচনে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আসাদুর রহমানের বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এলাকার জনপ্রিয় ব্যক্তি মরহুম আঃ কাদের মাষ্টারের ছেলে দোহারী গ্রাম রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুন্নবী দুলাল। নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী শহিদুল ইসলাম জয়লাভ করেন। আসাদুর রহমান পরাজয়ের জন্য দুলাল মাষ্টারকে দোষারোপ করে তার বিরুদ্ধাচার শুরু করেন। দুলাল মাষ্টারকে ফাঁসানোর জন্য বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিএনপি, জামায়াত নেতারা ও আওয়ামীলীগ সভাপতি জোট বাঁধে। তাকে নানাভাবে হয়রানী করতে থাকে। সম্প্রতি দুলাল মাষ্টার ময়দানদীঘি বাজারে তার পৈতৃক সম্পত্তিতে স্থাপনা নির্মান শুরু করেন। বাজারের শহীদ মিনার সংলগ্ন জমি দুলাল মাষ্টার ঘর নির্মান করতে থাকলে অপপ্রচারকারীরা শহীদ মিনার ভেঙ্গে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে মর্মে প্রচার চালায়। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। ময়দানদীঘি বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহীদ মিনারের জায়গা বাদে দুলাল মাষ্টার নিজস্ব জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করছেন। শহীদ মিনার ভাঙ্গার কোন চিহ্ন নেই। বাজারের লোকজন জানান, শহীদ মিনার ভাঙ্গার কোন ঘটনা এখানে ঘটে নাই। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আসাদুর রহমানও বলতে পারলেন না শহীদ মিনার ভেঙ্গেছে দুলাল মাষ্টার। এ ব্যাপারে দুলাল মাষ্টার জানান, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অপপ্রচার চালিয়ে আমাকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে। গ্রামে আমাকে একঘরে করেছে প্রভাবশালীগং। ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ও সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুর গং আমাকে নানাভাবে হুমকিও দিচ্ছে। আমি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

পাবনা চাটমোহরে ডেসটিনির ফাঁদে পড়ে গ্রাহকরা নিঃস্ব
মোবারক বিশ্বাস ঃ পাবনার চাটমোহরের বিভিন্ন এলাকায় শত শত মানুষ ডেসটিনির ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হয়েছে। তারা এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। বিষয়টি এমন যে, “না পারছেন কইতে, না পারছেন সইতে”। অভিযোগে জানা গেছে, প্রতারনা আর প্রলোভনের ফাঁদ পেতে সাধারন মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ডেসটিনির স্থানীয় এজেন্ট বা কর্মীরা। বিভিন্ন পদ মর্যাদা সম্পন্ন ডেসটিনির কর্মকর্তারাও টাকা লগ্নি করে হতাশ হয়ে পড়েছে। এরপরও তারা হতাশা ঢাকতে ‘টাই’ পড়ে মাঠে আছে। গ্রাহকদের নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করছেন। ডেসটিনি কর্মীদের মিথ্যে আশ্বাসে টাকা জমা দিয়ে এখন অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। নিঃস্ব অনেকেই সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে ডেসটিনির কর্তাদের বিচার চেয়েছেন। দেশব্যাপী ডেসটিনির প্রতারনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে চাটমোহরের গ্রাহকদের মাঝেও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। “চাটমোহরে ডেসটিনির হাজার হাজার গ্রাহকের কেউই লাভবান হয়েছে এমন প্রমান বা নজির নেই”-এমন কথা বললেন অনেক গ্রাহক। ডেসটিনিতে বিনিয়োগকারীরা হতাশা ব্যক্ত করে তাদের দেয়া টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছেন। তবে ডেসটিনির স্থানীয় কর্তারা দাবি করেছেন, তাদের সংস্থা ভূয়া নয়। সঠিক সময়ে আমানতকারীরা মুনাফাসহ অর্থ ফেরত পাবেন। তারা আরো দাবি করেন কিছু পত্রিকাই ডেসটিনিকে ডোবানোর চেষ্টা করেছে। শুধু চাটমোহরেই নয় পাশ্ববর্তী ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, বড়াইগ্রাম, আটঘরিয়া ও তাড়াশ উপজেলাতেই ডেসটিনির হাজার হাজার গ্রাহক নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।


জানে আলমের ভাগ্য চুরি করেছে লাইফ : পাবনায় চাঞ্চল্যকর ভাগ্য চুরির ঘটনায় ৩ কোটি টাকা আতœসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা : শহরে চাঞ্চল্য

মোবারক বিশ্বাস ঃ টাকা, গহনাসহ ধন সম্পদ চুরির কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু মানুষের ভাগ্য চুরির ঘটনা বিরল। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, পাবনার জানে আলমের ভাগ্য চুরি করে কোটিপতি হয়ে আরাম আয়েশে দিন কাটাচ্ছে জানে আলম নাম ধারণকারী প্রতারক সৈয়দ নজমুল হক ওরফে লাইফ। আর ভাগ্য বিড়ম্বিত জানে আলম সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি করে স্ত্রী ও ৩ মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে সংসার চালাচ্ছেন। অথচ তার এমনটি হওয়ার কথা ছিলনা। বদলে যাওয়ার কথা ছিল জানে আলমের ভাগ্যের। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস তারই ভাগ্য চুরি করে কোটিপতি বনে গেছেন কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার সাতবাড়িয়া ভবানীপুর গ্রামের মরহুম সৈয়দ নজরুল হকের ছেলে সৈয়দ নজমুল হক ওরফে লাইফ। তবে লাইফ তার আসল নাম লুকিয়ে এখন জানে আলম, পিতা- ফজর প্রামানিক, মা নবিজান, গ্রাম যুগীপাড়া, পো : ও জেলা-পাবনা ধারণ করে দিব্বি কাটিয়ে দিচ্ছে দীর্ঘ ২১ বছর। গতকাল বুধবার প্রকৃত জানে আলম তার ভাগ্য চুরি করে ৩ কোটি টাকা আতœসাতের অভিযোগে ভূয়া জানে আলম (সৈয়দ নজমুল হক ওরফে লাইফ) এর বিরুদ্ধে পাবনার কগনাইজিং আদালতে ৪১৯,৪২০ এবং ৪০৬ ধারায় একটি মামলা করেছেন। বিচারক মামলাটি গ্রহণ করে তা তদন্তের জন্য পাবনা সদর থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি শহরের সর্বত্র টক অব দি টাউনে পরিনত হয়েছে।
বাদী পক্ষের আইনজীবী এম এ মতিন ও সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, জানে আলম একজন স্বল্প শিক্ষিত, সহজ সরল সাধারন মানুষ। ১৯৯১ সালে ভাগ্যেন্বষণে সে ওপি ওয়ান লটারী প্রাপ্ত হয়। আমেরিকা যাওয়ার জন্য আশায় বুক বাধে। এ সময় কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার সাতবাড়িয়া ভবানীপুর গ্রামের সৈয়দ নজরুল হকের ছেলে সৈয়দ নজমুল হক ওরফে লাইফের সঙ্গে পরিচয় ঘটে। লাইফ সহযোগিতা করার কথা বলে জানে আলমের কাছ থেকে ওপি ওয়ানের সকল কাগজপত্র চুরি করে নেয়। পরে সে লাইফ নিজেই জানে আলম সেঁেজ ঐ ওপি ওয়ান লটারীর মাধ্যমে গলাকাটা পাসপোর্টে আমেরিকা চলে যায়। এর পর দীর্ঘ ২১ বছর সে লাইফকে খুঁজেছে। কিন্তু তাকে পায়নি। পরে জানে আলম জানতে পারে, লাইফ জানে আলম নাম ধারণ করে বর্তমানে আমেরিকার ডালাস সিটিতে বসবাস করছে এবং জানে আলম নামে আমেরিকান পাসপোর্ট পেয়েছে। সম্প্রতি সে তার স্ত্রী মাহমুদা হক ও দুই সন্তান ফাহিম এবং ফারহানকে রেখে ঢাকায় এসে মৌসুমি আক্তার নামক এক ১৬ বছরের মেয়েকে বিয়ে করার পর সকল ঘটনা ফাঁস হতে শুরু করে। আতœীয় স্বজন বিক্ষুব্ধ হয়। লম্পট লাইফ তার আপন মামাতো বোন তুম্পাকে বিয়ের করার প্রতিশ্র“তি দিয়ে তার বিবাহিত স্বামীর কাছ থেকে ডিভোর্স করিয়ে আনে। কিন্তু পরে বিয়ে করেননি। এ নিয়ে লাইফের মামার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যায়।
সুত্র জানায়, জানে আলম ওরফে লাইফ পাবনা শহরের হেমায়েতপুরের প্যরামেডিকলের ছাত্রী পপির সঙ্গে মোবাইলে প্রেম করে বিয়ের প্রলোভন দেয়। পরে বিয়ে না করে সে তার ছোট খালাতো ভাইয়ের শ্যালিকাকে বিয়ে করে। এ সব ঘটনা এবং লাইফের লাম্পট্যের কারণে তার প্রথম স্ত্রী মাহমুদা হক বাধা দেওয়ায় তাকে আমেরিকায় অমানুষিক নির্যাতন করে। এ ঘটনায় মাহমুদার ভাই পাবনার কগনাইজিং আদালত -১ আরো একটি মামলা দায়ের করলে আদালত এর আগে লাইফের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করে।
এদিকে গতকাল বুধবার প্রকৃত জানে আলম তার ভাগ্য চুরি করে ৩ কোটি টাকা আতœসাতের অভিযোগে ভূয়া জানে আলম (সৈয়দ নজমুল হক ওরফে লাইফ) এর বিরুদ্ধে পাবনার কগনাইজিং আদালতে ৪১৯, ৪২০ এবং ৪০৬ ধারায় একটি মামলা করেছেন। বিচারক মামলাটি গ্রহণ করে তা তদন্তের জন্য পাবনা সদর থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ছাড়া অনেক তরুনী লাইফের প্রতারণার স্বীকার হলেও লোক লজ্জায় তারা মুখ খুলছে না। এ ছাড়া জানে আলমের সঙ্গে আর্ন্তজাতিক নিষিদ্ধ সংগঠনের যোগযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সে এক সময় জানে আলম আরেক সময় সৈয়দ নজমুল হক নাম ব্যবহার এবং একাধিক পাসপোর্ট ব্যবহার করছে। সম্প্রতি সে আমেরিকা থেকে ভারত আসে। সেখান থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশে এসে তার লালমাটিয়ার ২/৩ নং ব্লকের ৫ নং ফ্লাটে নতুন বউ নিয়ে বসবাস করছে। এ ছাড়া নাজমুল হক ওরফে লাইফ পাবনার হেমায়েতপুর গ্রামের মোহাম্মদ সেলিমসহ ১২ জনের কাছ থেকে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে প্রায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ ব্যাপারে ভূঁয়া জানে আলম (সৈয়দ নজমুল হক) এর সঙ্গে যোগাযোগর চেষ্টা করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। তবে প্রকৃত জানে আলম বলেন, তিনি এই ভয়াবহ প্রতারণার বিচার চেয়ে আদালতে মামলা করেছেন। তিনি ন্যয় বিচার পাবেন বলে আশা করেন।

গভীর রাতে আসামী ধরে মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ

মোবারক বিশ্বাস ঃ ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত সার্টিফিকেট মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানাভূক্ত একজন আসামীকে গভীর রাতে গ্রেফতার করে মুক্তিপণের (ঘুষ) বিনিময়ে ছেড়ে দিয়ে এসেছেন চাটমোহর থানায় কর্মরত এএসআই মো. খাইরুল আলম। গভীর রাতে পুলিশের জুনিয়র ওই কর্মকর্তার হাতে টাকা প্রদানকারী যুবকটি এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। বিলম্বেপ্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, এএসআই খাইরুল আলম গত ৩ জুন দিনগত রাত আনুমানিক ২ টার দিকে সাদা পোশাকে সঙ্গীয় ফোর্স সহ উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের চরনবীন গ্রামের গিয়ে মৃত আনোয়ার মোল্লার ছেলে ঋণ খেলাপী সংক্রান্ত সার্টিফিকেট মামলার আসামী মো. মোবারক হোসেনকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে গ্রেফতার করে। তার হাতে হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ আসামী মোবারককে ছাইকোলা ডিগ্রী কলেজের পাশে রাখা পিকআপ ভ্যানে তুলে মোবাইল ফোনে বাড়ির সাথে যোগাযোগ করে নগদ ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ (ঘুষ) হিসেবে নিয়ে আসার কথা বলা হয়। ফোন পেয়ে আত্মীয়-স্বজনেরা দ্রুত ছুটে আসে ছাইকোলা ডিগ্রী কলেজের পাশে থাকা পুলিশ ভ্যানের কাছে। সেখানে এসে মুক্তিপণ নিয়ে চলে দরকষাকষি। অবশেষে গ্রেফতার হওয়া মোবারকের ভাগ্নে মো. তারেক হোসেন বাধ্য হয়ে এএসআই খাইরুল আলমকে নগদ ৫ হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে মামা মোবারক হোসেনকে এ যাত্রায় পুলিশের কবল থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়। এদিকে নগদ ৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ (ঘুষ) হাতে পেয়ে মোবারকের হাত থেকে হাতকড়া খুলে দিয়ে এএসআই খায়রুল আলম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত চলে যান। পুলিশের ধরা ছাড়া বাণিজ্যের প্রত্যক্ষ ঘটনাটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে কলেজ ছাত্র ভাগ্নে তারেক হোসেনের মনে। ফলে সে ঘটনাটির বিবরণ তুলে ধরে ডাকযোগে পাবনার পুলিশ সুপার বরাবর একটি অভিযোগপত্র প্রেরণ করেছে। অভিযোগের ব্যাপারে এএসআই খাইরুল আলমের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য জানাননি। মাঝরাতে ঘুম থেকে ডেকে তুলে আসামী গ্রেফতারের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন, একই সাথে ঘুষের বিনিময়ে আসামী ছাড়ার এই ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে পুলিশ বাহিনীর শৃংখলা ও সম্মান রক্ষার স্বার্থে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পাবনা চাটমোহর সড়কগুলো যেন ধান-খড়ের চাতাল

মোবারক বিশ্বাস ঃ পাবনা-চাটমোহর উপজেলার সাথে সংযোগ রক্ষাকারী সড়ক ও মহাসড়কগুলো বর্তমানে ধান-খড়ের চাতালে পরিণত হয়েছে। বোরো ধান কাটা শুরুর পর থেকেই সড়ক সংলগ্ন এলাকার চাষীরা এইসব সড়ক ও মহাসড়কে যথেচ্ছভাবে ধান মাড়াই ও খড় শুকানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে সড়কগুলো যানবাহন, বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা চলাচলের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। গত এক সপ্তাহে চাটমোহর থেকে ছাইকোলা, হান্ডিয়াল, বিলচলন,, পার্শ্বডাঙ্গা, ডিবিগ্রাম, ফৈলজানা ও রেলবাজার-কুয়াবাসী সড়ক এবং নেউতিগাছা-মাস্তানবাজার  সড়কে প্রায় ২০টি দুর্ঘটনায় মোটর সাইকেল ও অটোরিকশার অন্তত ৫৫ জন আরোহী আহত হয়েছেন এবং মৃত্যু বরণ করেছে ৩ জন। অথচ সড়ক ও মহাসড়কের ওপর ধান মাড়াই ও খড় শুকানো বন্ধে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এখন পর্যন্ত কোন আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সরেজমিনে কয়েকটি সড়ক ও মহাসড়কে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই এলাকার চাষীদের মধ্যে চলে সড়ক দখলের প্রতিযোগিতা। এসব পাকা সড়কে ধান মাড়াইসহ ধান ও খড় শুকানো কাজ চলাছে। সড়ক জুড়ে ধান ও খড় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখার কারণে সড়কগুলোতে চলাচলকারী যানবাহনগুলো প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনায় পড়ছে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, টেম্পো, নছিমন, করিমন ও বাইসাইকেল আরোহীরা। পাবনা-চাটমোহর মহাসড়কের মহেশপুর এলাকার চাষী লুৎফর রহমান, রেলবাজার-জগতলা সড়কের বালুদিয়ার এলাকার আব্দুল আজিজ ও নেউতিগ্রাছা-মাস্তানবাজার সড়কের শিবপুর গ্রামের আব্দুল কাউয়ুম বলেন, এলাকায় ধান মাড়াই ও শুকানোর জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়ে সড়কের ওপরই তাদের এই কাজগুলো করতে হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, একাধিকবার নিষেধ করার পরও চাষীরা সড়কের ওপর ধান মাড়াই ও ধান-খড় শুকানোর কাজ বন্ধ করছেন না।


পাবনায় চোরাই মোটর সাইকেলসহ আন্তঃজেলা মোটর সাইকেল চোর দলের এক সদস্য গ্রেপ্তার

মোবারক বিশ্বাস ঃ পাবনা সদর উপজেলার ঘোড়াদহ গ্রাম থেকে চোরাই মোটর সাইকেলসহ আন্তজেলা মোটর সাইকেল চোর দলের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আজাদ আলী (৩০) উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের ঘোড়াদহ গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে। সে আন্তজেলা মোটর সাইকেল চোর দলের একজন সক্রিয় সদস্য বলে পুলিশ দাবী করেছে। এ ব্যাপারে পাবনা থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, ঘোড়াদহ গ্রামের জৈনক মোফাজ্জল হোসেন কানাইয়ের বাড়ির সামনে কতিপয় ব্যাক্তি একটি চোরাই মোটর সাইকেল বেচা-কেনা করছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে গত সোমবার দিনগত গভীর রাতে পাবনা সদর থানার এস,আই আমিরুল ইসলাম,এ,এস,আই রবিউল হাসানসহ একদল সঙ্গীয় ফোর্স ওই স্থানে অভিযান চালিয়ে একটি চোরাই ওয়ালটন মোটর সাইকেলসহ আজাদ আলীকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় এস,আই আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে পাবনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস,আই মাহাফুজ রহমান জানান, গ্রেপ্তারকৃত আজাদ আলী আন্তজেলা মোটর সাইকেল চোর দলের একজন সক্রিয় সদস্য।


হলুদবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয় ঝড়ে লন্ডভন্ড শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত

মোবারক বিশ্বাস ঃ সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের হলুদবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের আধাপাকা স্কুল ঘরটি গত শনিবার রাতের ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। রাত আনুমানিক সাড়ে ৭ টায় আকস্মিক ঝড়ে স্কুলের ১শ ১০ হাত লম্বা আধাপাকা টিনসেড ঘরটি সম্পূর্ণ রূপে বিধ্বস্থ হয়। বৃহদাকার এ টিনের স্কুল ঘরটি লাইব্রেরী, বিজ্ঞানাগার ও শ্রেণিকক্ষ হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ঘরের চালাটি সম্পূর্ণ রূপে বিধ্বস্থ হওয়ায় লাইব্রেরীর বইপত্র, বিজ্ঞানাগারের যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নষ্ট গয়ে গেছে। শ্রেণীকক্ষ সমস্যায় বিদ্যালয়ের ৩৫০ জন ছাত্রছাত্রীর শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সাময়িকভাবে বিদ্যালয়ের মাঠে চাদোয়া টানিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম চালানোর ব্যবস্থা করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদুল্লাহ জানান, ঝড়ের কারণে স্কুলের প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ মোশাররফ হোসেন সোমবার বিকেলে লন্ডভন্ড স্কুলটি পরিদর্শন করে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন। উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি এলাকার শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় চলতি বছরও এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শতভাগ উত্তীর্ণ হয়েছে।


ঝড়ে মসজিদ লন্ড-ভন্ড : খোলা আকাশের নিচে নামাজ

মোবারক বিশ্বাস ঃ ঝড়ে মসজিদ লন্ড- ভন্ড হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে নামাজ আদায় করছেন মুসুল্লিরা। জানা যায় গত ২রা জুন রাত ১০টার দিকে বয়ে যাওয়া ঝরে সাঁথিয়া উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়নের দাড়ামুদা স্কুল সংলগ্ন মসজিদ ঝড়ে লন্ড ভন্ড হয়ে যায়। উক্ত মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আলহাজ মোঃ সিরাজ উদ্দৌলা জানান, অনেক পরিশ্রমের বিনিময়ে নির্মিত ৩০হাত লম্বা ও ১৬ হাত চওড়া ঢেউ টিনের ঘড়টি ভেঙ্গে গেছে। এতে মুসুল্লিদের নামাজ পড়তে কষ্ট হচ্ছে। তিনি আরো জানান বিধস্ত মসজিদটি নন্দনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শাহীন ইকবাল, নন্দনপুর ইউপি আওয়ামীলীগ সভাপতি নুর মোহাম্মদ, সাধারন সম্পাদক রবিউল ইসলাম লিটন মোল্লা প্রমুখ পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত মসজিদটি মেরামত না করা হলে গ্রাম বাসী ও স্কুলের ছাত্ররা নামাজ আদায় করতে পারবে না। উপজেলা, জেলা ত্রান বিভাগ, ধর্ম বিষয়ক কর্মকর্তাসহ সকলের সুদৃষ্টি কমনা করছেন।
পাবনা ভাঙ্গুড়ার বড়াল বেইলী ব্রীজ ঝুকি পূর্ণ
মোবারক বিশ্বাস ঃ পাবনার ভাঙ্গুড়া, অষ্টমনিষা, বেতুয়ান-বৃলাহিড়ীবাড়ি হয়ে পাবনা যাতায়াতের একমাত্র বড়াল বেইলী ব্রীজ নামে মাত্র সংস্কার পর একাধিক স্লিপার নষ্ট হয়েছে। যেকোন মুহুর্তে ব্রীজটি ভেঙ্গে যানবাহন সহ জনগণের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ১৯৮৫ সালে বড়াল নদীর উপরে নির্মিত পুরানো ব্রীজের একাধীক স্লিপার নষ্ট হওয়ায় দুই মাস হলো ওয়েলডিং করে জোড়া-তালি দিয়ে স্লিপার গুলি বসানো হলেও প্রায় সব নষ্ট হয়ে গেছে। যান বাহন চলাচলের সময় স্লিপার সহ সম্পূর্ণ ব্রীজ কাঁপে। ৫ টনের অধিক মালামাল সহ যান বাহন চলাচলের সরকারী নিষেধ জারীর সাইন বোর্ড থাকলেও কেউ মানে না। প্রতিদিন ব্রীজের উপর দিয়ে লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করে। ঐতিহ্যবাহী শরৎনগর বাজারে শানিবার গরু ছাগলের বিরাট হাট বসায় পুরো ব্রীজে যানজটের সৃষ্টি হয়। ব্রীজের দু’ধারে রেলিং দেওয়া থাকলেও অনেক রেলিং রাতের আধারে চুরি হয়ে গেছে। ফলে রাতের বেলায় খুব সাবধানে পার না হলে যেকোন মুহুর্তে ভাঙ্গা স্লিপারে হোচট লেগে নদীতে পড়ে যেতে পারে। স্থানীয় জনগণ অভিযোগ করেন প্রশাসনের নাকের ডগায় ব্যবসায়ীরা নিষেধাজ্ঞা না মেনে ভারী যান বাহন চলাচল করিয়ে ব্রীজটি বেশী ঝুকি পূর্ণ করেছে। ভারি যানবাহন ব্রীজে উঠলেই জনগণ ভয়ে দৌড় দিয়ে যান বাহনের আগেই ব্রীজ পার হয়।


চাটমোহরে কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট টিউশনির কাছে জিম্মি শিক্ষার্থীরা

মোবারক বিশ্বাস ঃ পাবনার চাটমোহরে কোচিং সেন্টার ও পাইভেট টিউশনির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। এখানকার স্কুল কলেজের শিক্ষকরা মিলে একাধিক সিন্ডিকেট তৈরি করে কোচিং সেন্টার ও পাইভেট টিউশনির বানিজ্য খুলে বসেছে। বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকদের কাছে পাইভেট না পড়লে কিংবা কোচিং না করলে পরীক্ষায় ফেল করানোর হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কোচিং সেন্টারে ও পাইভেট টিউশনে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হয় মোটা অংকের টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের চাপে পাইভেট পড়তে কিংবা কোচিং করতে বাধ্য হচ্ছে। শিক্ষকরা ক্লাসে পাঠ দানের পরিবর্তে বেশি সময় ব্যয় করেন পাইভেট টিউশনির ব্যবসায়। চাটমোহর মহিলা ডিগ্রী কলেজ, চাটমোহর ডিগ্রী কলেজ, প্রফেসর বয়েন উদ্দিন ডিগ্রী কলেজ, মির্জাপুর ডিগ্রী কলেজ, ছাইকোলা ডিগ্রী কলেজর শিক্ষকরা বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের সাথে অতপোত ভাবে জড়িত। একই ভাবে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা কোচিং বানিজ্যের সাথে জড়িত রয়েছেন।
চাটমোহরের কয়েকটি কিন্ডার গার্টেনের পরিচালক, অধ্যক্ষ ও শিক্ষক হিসেবে কলেজের শিক্ষকরা দায়িত্ব পালন করছেন। কলেজে সময় না দিয়ে এসকল শিক্ষকরা কিন্ডার গার্টেন স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। কিন্ডার গার্টেন ছাড়াও শিক্ষকদের রয়েছে আলাদা আলাদা কোচিং সেন্টার। কিন্ডার গার্টেন ও কোচিং সেন্টারের জন্য শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের নাম মাত্র টাকায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন রমরমা বানিজ্য। অনেকে সময় মত বেতন না পেয়ে চাকুরী ছেড়ে দিলে সেখানে নতুন কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়। কোচিংয়ের বাহিরে এসব শিক্ষকরা বাসা বাড়িতে সমান তালে পাইভেট পড়িয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান চাটমোহরের অলি-গলিতে গড়ে উঠেছে অবৈধ কোচিং সেন্টার ও কিন্ডার গার্টেন। এসকল শিক্ষা বানিজ্যের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

পাবনা চাটমোহরে প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে হাট ॥ লেখাপড়া ব্যাহত
মোবারক বিশ্বাস ঃ পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চাটমোহর পৌর এলাকার শালিখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বর ও তার সম্পত্তি দখল করে পৌর কতৃক পক্ষ হাট বসিয়েছেন। প্রতি বছর এই হাট ইজারা দিয়ে লাখ লাখ টাকা আয় করছে পৌরসভা। একাধিক সূত্র জানান, হাট বসানোর ফলে পৌরসভা স্কুলকে প্রতিবছর মোটা টাকা প্রদান করে থাকে। ম্যানেজিং কমিটি এই টাকা কোন খ্যাতে কিভাবে ব্যয় করেন তার কোন হিসাব নেই। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অর্থ যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী ব্যয় করার বিধান রয়েছে। এছাড়া অমৃতকুন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মির্জাপুর, কৃয়াবাসী, কদমতলা, শরৎনগঞ্জ, কামালপুর, ধানকুনিয়া ও ছাইকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাট বসে নিয়মিত।
এদিকে চাটমোহর উপজেলার অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সময় মতো স্কুলে যান না। সহকারি শিক্ষা অফিসাররা স্কুলে পরিদর্শন করেন না নিয়মিত। ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা এব্যাপারে উদাসীন। বেশ ক’জন প্রধান শিক্ষক স্কুল বাদ দিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসে সময় কাটান বলে অভিযোগ। এসকল কারনে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।


চাটমোহরে চায়ের দোকান মিনি সিনেমা হলে পরিণত

মোবারক বিশ্বাস ঃ পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, সড়কমোড়, আবাসিক এলাকাসহ গ্রামের পাড়ায় পাড়ায় চায়ের দোকান গুলো এখন মিনি সিনেমা হলে পরিণত হয়েছে। দিন রাত এসকল চা-স্টলে ভিসিডিতে বাংলা ও ইংরেজী সিনেমা প্রদর্শন করা হচ্ছে। গভীর রাতে চলছে লীল ছবি। দিনের বেলায় স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্কুলে না গিয়ে চা-স্টলে বসে বা দাঁড়িয়ে সিনেমা দেখে সময় কাটায়। উপজেলার এমন কোন চা-স্টল নেই সেখানে ভিসিডি না ডিসলাইনের সংযোগ নেই। প্রতিটি চায়ের দোকান এক একটি মিনি সিনেমা হল। চা-স্টলে বসে ৮/১০ টাকার সারাদিন বসে সিনেমা দেখা যায়। দোকানীরা জানান, দোকানে ভিসিডি না রাখলে পন্য বিক্রি হয় না। মাঝের মধ্যে ভ্রাম্যমান আদালত এসকল চা-স্টলে অভিযান চালালেও কোন ভাবেই তা বন্ধ হয়নি।
দোকানীরা আরোও জানান, প্রতি মাসে থানা পুলিশকে টাকা দিয়ে ভিসিডি চালাতে হয়। চা-স্টল বা দোকানে প্রকাশ্যে সিনেমা প্রদর্শন করা নিষিদ্ধ থাকলেও এই আইনের যথাযথ প্রয়োগ নেই। উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় চা-স্টলে সিনেমা প্রদর্শন নিয়ন্ত্রন করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হলেও তার কোন বাস্তবায়ন নেই। গভীর রাত পর্যন্ত চা-স্টলে ভিসিডি প্রদর্শনের ফলে বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ নানা অসামাজিক কর্মকান্ড বেড়ে গেছে। এব্যাপারে জরুরীভাবে পদক্ষেপ দরকার বলে সচেতন মহলের অভিমত।

পাবনা আটঘরিয়ায় অগ্নিকান্ডে একটি বসত বাড়ি সম্পূর্ণ ভষ্মিভূত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ লক্ষাদীক টাকা
মোবারক বিশ্বাস ঃ পাবনার আটঘরিয়ার দেবোত্তর মহল্লার একটি বসত বাড়িতে গতকাল বুধবার ভোরে অগ্নিকান্ডে বাড়ির সম্পূর্ণ আগুনে পুড়ে ভষ্মিভূত হয়েছে। এতে ওই পরিবারের ২টি টিনের ঘর, নগদ টাকা, ধান চাল, ছাগলসহ প্রায় ২ লক্ষাধীক টাকার মালামাল ভষ্মিভূত হয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, গতকাল বুধবারভোর সাড়ে ৫ টার দিকে ওই মহল্লার আলমঙ্গীর হোসেনের চুলার আগুন লেগে আলমঙ্গীর ও আফাঙ্গীর হোসেনের ২টি টিনের ঘরসহ উক্ত পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ দুটি পরিবার এখনখোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।
গতকাল সন্ধা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের কোন কর্মকর্তা বা স্থানীয় রাজনীতিক দলের কোন নেতাকর্মী কোন খোঁজ খবর নেয়নি বলে ওই পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে আটঘরিয়া পৌর সবার ৮নং ওয়ার্ডের কমিশনার ও সাংবাদিক এসএম মোফাজ্জল হোসেন বাবু ও ৭নং ওয়ার্ডের কমিশনার সাংবাদিক আনোয়ারুল ইসলাম খান ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের আর্থিক সহযোগীতার আশ্বাস প্রদান করেছেন বলে জানাগেছে।

About

আরও পড়ুন...

চট্টগ্রামে ক্যাব’র উদ্যোগে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার সাথে অ্যাডভোকেসী সভা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রামে ক্যাব’র উদ্যোগে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার সাথে অ্যাডভোকেসী সভা অনুষ্ঠিত। ভোক্তাদের মাঝে শিক্ষা ও …

error: Content is protected !!