Home / দেশ / বেসরকারী খাতে শস্যবীজ উৎপাদনে উত্তর টাঙ্গাইলের মধুপুর ও ধনবাড়ী এখন মডেল বিএডিসি’র সাথে পাল্লা দিয়ে উৎপাদিত হচ্ছে মানসম্মত শস্যবীজ

বেসরকারী খাতে শস্যবীজ উৎপাদনে উত্তর টাঙ্গাইলের মধুপুর ও ধনবাড়ী এখন মডেল বিএডিসি’র সাথে পাল্লা দিয়ে উৎপাদিত হচ্ছে মানসম্মত শস্যবীজ

নাজমুল হক বাংলার র্বাতা জামালপুর প্রতনিধিঃি ভালো বীজে ভালো ফসল : আর ভালো বীজই বাড়তি উৎপাদনের পূর্ব শর্ত। দেশের চিরাচরিত প্রথানুয়ায়ী কৃষকরা নিজ গৃহেই শস্যবীজ সংরক্ষণ করে রাখে। তবে নির্ভেজাল ও উন্নতমানের বীজের চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলায় বিএডিসি’র উপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধিই পাচ্ছে। এ জন্য বিএডিসি’র বীজ বিভাগ প্রতিবছরই উফশী ও হাইব্রিড বীজের উৎপাদন বাড়াচ্ছে। বিএডিসি’র বীজ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সারা দেশে উফশী রোপা আমন ধানের বীজের চাহিদা ৯০ হাজার ৩৭৫ মেট্রিক টন। এর মধ্যে বিএডিসি ২০১০-১১ সালে ২০ হাজার ৪৪২ মোট্রক টন বীজ উৎপাদন করে চাহিদার ২৩% পূরণ করে। একই ভাবে ২০১১-১২ সালে ২৬ হাজার ২২৭ মেট্রিক টন উৎপাদন করে চাহিদার ২৯% এবং ২০১২-১৩ সালে ৩৬ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন উৎপাদন করে চাহিদার ৪০% পূরণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। একই ভাবে দেশে উফশী বোরো বীজের চাহিদা ৯৩ হাজার ৭৫০ মেট্রিক টন। বিএডিসি ২০১০-১১ সালে ৫৮ হাজার ২ মেট্রিক টন উৎপাদন করে চাহিদার ৬২%, ২০১১-১২ সালে ৬৩ হাজার ৮২৬ মেট্রিক টন উৎপাদন করে চাহিদার ৬৮% এবং ২০১২-১৩ সালের চাহিদার বিপরীতে ৬৪ হাজার মেট্রিক টন বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ করছে। এ ছাড়াও হাইব্রিড বীজ উৎপাদনেও বিএডিসি নিরলশ ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশে হাইব্রিড বোরো বীজের চাহিদা ১৫ হাজার মেট্রিক টন। ২০১০-১১ সালে ৪১০ মেট্রিক টন আবাদ করে চাহিদার ৩%, ২০১১-১২ সালে ৭১৪ মেট্রিক টন উৎপাদন করে চাহিদার ৫% এবং ২০১২-১৩ সালের সাড়ে তিন হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন করে চাহিদার ২৩% পূরণে সক্ষমতা অর্জন করেছে। এছাড়াও বিএডিসি ২০১৩-১৪ সালে ৫ হাজার মেট্রিক টন হাইব্রিড উৎপাদন করে চাহিদার ৩৩% পূরণ করার আশা করছে।
উল্লেখিত পরিসংখ্যানে দৃষ্টে প্রকাশ, দেশের মোট বীজ ধানের চাহিদার বিপরীতে আমনে ৬০%, উফশী বোরোতে ৩০% এবং হাইব্রিডে ৬৭% পূরণ করা সম্ভব হয় নি। সে প্রেক্ষিতে দেশের বীজ সংকট নিরসনের জন্য কৃষি সম্পসারণ বিভাগও বেশ পূর্ব থেকেই কৃষক পর্যায়ে উন্নতমানের বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণে সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে। এ ছাড়াও দেশের বেশ কয়েকটি বহুজাতিক কোম্পানি প্রতি বছর বিদেশ থেকে হাইব্রিড শস্যবীজ আমদানী করে থাকে। এসব সত্বেও প্রায় প্রতি মৌসুমেই দেশে শস্য বীজের সঙ্কট দেখা যায়। সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে বীজ উৎপাদন খামারগুলো জোরালো না হওয়ায় এ সঙ্কট বলে সংশ্লিষ্টদের ধারনা।
তবে প্রতি বছর দেশ জুড়ে শস্য বীজের আকাল চললেও উত্তর টাঙ্গাইলের মধুপুর ও ধনবাড়ী এর ব্যতিক্রম। বেসরকারি খাতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে উঠা খামারে এখানে বিপুল পরিমাণ উন্নত জাতের শস্যবীজ বিশেষ করে বোরো ও রোপা আমন বীজ উৎপাদিত হয়। এসব বীজ সমগ্র টাঙ্গাইলের চাহিদা মিটিয়ে সারা দেশে সরবরাহ করা হয়। দেশে বীজ সঙ্কট দেখা দিলে সরকার জরুরী ভিত্তিতে মধুপুর থেকে বীজ সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সামাল দেন। এভাবে দেশের শস্য বীজ সঙ্কট নিরসনে মধুপুর ও ধনবাড়ী গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি বীজ খামারে বাড়তি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বেসরকারি বীজ খামারীরা লাভের মুখও দেখছেন। এজন্য বীজ উৎপাদনে মধুপুর ও ধনবাড়ী এখন সারা দেশের জন্য মডেল হয়ে দাড়িয়েছে।
দেশের বিশেষ ভৌগলিক এলাকা উত্তর টাঙ্গাইলের মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা নানা ধরনের শস্য বীজ উৎপাদনের জন্য বহু কাল ধরেই বিখ্যাত। এখানে বিএডিসি চার দশক ধরে চুক্তিবদ্ধ চাষীর মাধ্যমে উন্নত জাতের রোপা আমন, বোরো, পাট, গম, আলু, ভূট্টা ও সবজি বীজ উৎপাদন করে। বিএডিসি মধুপুর জোনের আওতায় মধুপুর, ধনবাড়ী ও ঘাটাইল উপজেলায় দুই সহস্রাধিক প্রশিক্ষিত বীজ চাষী রয়েছে। এদের কেউ কেউ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট বা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত। এদের অনেকেই তিন/চার দশক ধরে বীজ উৎপাদনের বিরল অভিজ্ঞতার অধিকারী। এসব ঝানু কৃষকরা অভিজ্ঞতার ঝুলি নিয়ে নিজেরাই খামার ভিত্তিতে বাণিজ্যিক ধারায় বীজ উৎপাদন শুরু করেছেন।
মধুপুর উপজেলার জটাবাড়ি গ্রামের এনামুল হক এদেরই একজন। এক টানা ২০ বছর বিএডিসির চুক্তিবদ্ধ চাষী হিসাবে বোরো ও রোপা আমন বীজ উৎপাদন করে হাত পাকিয়েছেন। কৃষি মন্ত্রণালয় বেসরকারি খাতে বীজ উৎপাদনে উৎসাহিত করায় তিনি ২০০১ সালে বিএডিসির বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির রেজিষ্ট্রেশন নিয়ে মাত্র ১০ একর আয়তনের খামারে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উন্নত জাতের বীজ উৎপাদন শুরু করেন। এক যুগের ব্যবধানে তার বীজ উৎপাদন খামারের আয়তন দাড়ায় প্রায় আড়াইশ একর। বোরো ও রোপা আমন মিলিয়ে তার “আতিক সিড কোম্পানি” বার্ষিক চার থেকে সাড়ে চারশ মেঃ টন প্রত্যায়িত ও ভিত্তি বীজ উৎপাদন করে থাকে। তার খামারে সারা বছর সহস্রাধিক মানুষ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। যান্ত্রিক উপায়ে বীজ শুকানো, বাছাই এবং সংরক্ষণ করায় দেশ জুড়ে তার বিশুদ্ধ বীজের সুনাম রয়েছে। বৃহত্তর ঢাকা ও ময়মনসিংহ ছাড়াও রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, রাজশাহী, যশোহর, কুষ্টিয়া, পাবনা এবং সিলেট অঞ্চলের চাষীরা আতিক সিডের একচেটিয়া গ্রাহক। মান সম্মত বীজ উৎপাদনে সুনাম অর্জন করায় বিএডিসির বীজ উইংয়ের সাথে পাল্লা দিয়ে এ কোম্পানির বীজ সারাদেশে বিপনন হচ্ছে। বীজ উৎপাদন খামার করে এনামুল এখন কোটিপতি।
নয়াপাড়ার বাসিন্দা এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট রেজাউল করিম ব্যাঙ্কের চাকরি ছেড়ে বীজ উৎপাদনে নেমেছেন। তার “আর কে সিড় কোম্পানী” তিন বছর ধরে ৩০/৩৫ মেঃ টন মান সম্পন্ন উন্নতজাতের বোরো ও রোপা আমন বীজ উৎপাদন করছে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক গ্র্যাজুয়েট রক্তিপাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বীজ উৎপাদনের জন্য গড়ে তুলেছেন গ্রামীণ এগ্রো বিজনেস সেন্টার। প্রতিষ্ঠানটি বার্ষিক ৩০/৪০ মেঃ টন শস্য বীজ উৎপাদন করছে। বাবার উৎসাহে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে জয়নাল আবেদীন চাকরিতে প্রবেশ না করে কৃষি খাতের উন্নয়নে মনোনিবেশ করেন। তিনি মনে করেন বেসরকারি খাতে বীজ উৎপাদন একটি বিকাশমান খাত। এখাতে পুঁজি বিনিয়োগ করে যে কেউ লাভবান হতে পারেন। বাড়তি কর্মসংস্থান সৃষ্টিও সম্ভব। কৃষি প্রধান দেশ হিসাবে শস্য বীজের চাহিদা কখনোই কমবেনা। বরং দিনকে দিন উন্নত মানের বীজের চাহিদা বাড়ায় বেসরকারি বীজ খামার আরো লাভের মুখ দেখতে পাবে।
একই ভাবে দুর্গাপুর গ্রামের প্রবীণ বীজ চাষী ছামান আলীর পুত্র আবু হানিফ বাবার উৎসাহে প্রতিষ্ঠা করেছেন রিপন সিড ট্রেডার্স। তিনি প্রতিবছর ৫০/৬০ মেঃ টন শস্য বীজ উৎপাদন করে থাকেন। একইভাবে সালাহউদ্দিন আরজুর ‘’শুভ সিড কোম্পানী’ ১০৫/১১০ মেঃ টন, শরীফ সিড ৪০/৫০ মেঃ টন, বিথি সিড ৬০/৬৫ মেঃ টন, মনিরা সিড ২৫/২৬ মেঃ টন, রাজু সিড ২৭/২৮ মেঃ টন, সিডস বাংলা ৩৫/৩৬ মেঃ টন, মিজান সিডস ২০/২৫ মেঃ টন, বায়োসেল ২০/২২ মেঃ টন, মাহি সিডস ১০/১২ মেঃ টন এবং মিম সিডস ৩০/৩২ মেঃ টন বীজ উৎপাদন করে থাকে। অপরদিকে ধনবাড়ী উপজেলার চালাষ গ্রামের মোঃ জামাল উদ্দিনের ‘তারেক সীড’ ৭০/৭৫ মেঃ টন, রামকৃষ্ণ বাড়ী গ্রামের ফরিদ আহাম্মদের ‘আলম সীড’ ৬০/৬৫ মেঃ টন, দড়িচন্দবাড়ী গ্রামের খোরশেদ আলমের ‘খান সীড’ ৩০/৩৫ মেঃ টন এবং চাতুটিয়া গ্রামের আঃ ছামাদ কমিশনারের ‘ভাই ভাই সীড’ ২০/২৫ মেঃ টন বীজ ধান উৎপাদন করে থাকে।
বেসরকারি খাতে উৎপাদিত বীজের বিশুদ্বতা এবং মান নির্ণয়ের তদারকি করছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন মধুপুর বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি। উৎপাদিত বীজ পরিস্কারকরণ, শোধন ও গ্রেডিংয়ের জন্য বীজ উৎপাদনকারিরা অন পেমেন্ট ভিত্তিতে মধুপুরস্থ বিএডিসির প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে থাকেন। ভেজাল রোধের জন্য বিএডিসির বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির নির্ধারিত ট্যাগ সংযুক্ত করে প্যাকেজ ও লেভেলিংয়ের মাধ্যমে বীজ বাজারজাত করা হয়। ফলে বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা অক্ষুন্ন থাকে। সারা দেশের পাইকার ও মহাজনরা অনেক সময় অগ্রিম বুকিং দিয়ে মধুপুরের বীজ সরবরাহ নিয়ে থাকে। বিএডিসির টাঙ্গাইল বীজ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মানসম্মত হওয়ায় মধুপুরের বীজ বিএডিসির সাথে পাল্লা দিয়ে সারা দেশে বিপণন হচ্ছে। এটি খুবই উৎসাহ ব্যঞ্জক ও আশাপ্রদ।
তবে এখানকার বেসরকারি বীজ উৎপাদনকারিরা কিছু সমস্যার কথাও জানান। বিএডিসির সাথে প্রতিযোগিতা করে তাদের বীজ উৎপাদন ও ব্যবসা চালাতে হয়। বিএডিসি প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ টাকা ভর্তুকি দিয়ে বাজারে বীজ সরবরাহ করছে। অথচ বেসরকারি বীজ উৎপাদনকারিদের জন্য সেচ, সার, কীটনাশক, বিদ্যুৎ ও ডিজেল খাতে কোন ভর্তুকির ব্যবস্থা নেই। এ জন্য তারা প্রতি বছর বিএডিসির সাথে একটি অসম প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ে। ব্যাঙ্ক ঋণ পেতেও তাদের নানা ঝামেলা পোহাতে হয়। পুঁজির অভাবে অনেকেই খামারের আয়তন বাড়াতে পারছেন না।
বিএডিসির মধুপুর কন্ট্রাক্ট গ্রোর্য়াস অফিসে বীজ গ্রেডিংয়ের সময় তাদের চরম ঝামেলা পোহাতে হয়। গ্রেডিংয়ে বিলম্ব হওয়ায় বীজের আদ্রতা ও মান রক্ষা কঠিন হয়ে পড়ে। বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, বেসরকারি খাতে বিশুদ্ব ও মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদনে মধুপুর ও ধনবাড়ী এখন দেশের মডেল হিসাবে দাড়িয়েছে। এখানকার চাষীরা ব্রিডার সিড থেকে ভিত্তি বীজ এবং প্রত্যায়িত বীজ উৎপাদনের অপরিসীম কৃতিত্ব দেখিয়েছে। আতিক সিডসহ ৪/৫টি বীজ খামারের ঈর্ষনীয় সাফল্য যে কাউকে উদ্দীপিত করবে। এ খাতে বিপুল লোকের কর্ম সংস্থান হওয়ায় দারিদ্র বিমোচনে ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন তারা। বীজ খামারীদের ব্যাপারে সরকার ইতিবাচক ভূমিকা নিলে মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলায় আরো ৪/৫ গুণ উন্নত মানের বেশি বীজ উৎপাদন সম্ভব বলে জানান তারা।

আরও পড়ুন...

নগরীতে জেএসইউএস ও সিডিডি আয়োজিত প্রতিবন্ধিতা ও একীভূত উন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কর্মরত জাতীয় সংগঠন সেন্টার ফর ডিজএ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি) ও সিবিএম এর সহযোগিতায় বেসরকারী মানব উন্নয়ন মূলক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (জেএসইউএস)’র অংশগ্রহণে “প্রতিবন্ধিতা ও একীভূত উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ”গত ১৯ নভেম্বর ২০২০ ইংরেজী নগরীর দেওয়ানবাজারস্থ সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে জেএসইউএস নির্বাহী পর্ষদের সদস্য ও সংস্থার উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সহ-সভাপতি ফারজানা রহমান শিমু, সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাহী পরিচালক ইয়াসমীন পারভীন, ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা ও পরিচালক কবি প্রাবন্ধিক সাঈদুল আরেফীন, সহ-সাধারণ সম্পাদক আলহাজ ছাবের আহমেদ, নির্বাহী সদস্য শাহানাজ বেগম, সিনিয়র এসিসটেন্ট ডিরেক্টর এম এ আসাদ, এসিসটেন্ট ডিরেক্টর শহীদুল ইসলাম, সংস্থার শাখা ব্যবস্থাপকসহ অপরাপর কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সিডিডি-এর পক্ষ থেকে থিমেটিক এক্সপার্ট মো: জাহাঙ্গীর আলম, সিডিডি’র কোঅর্ডিনেটর ও প্রজেক্ট ম্যানেজার তানবিন আহমেদ, শাহ জালাল, জুনায়েদ রহমান, হীরা বণিক উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক ধারণা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভূক্তি, সংস্থায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভূক্তি বিষয়ে ধারণা ও সকল কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে সম্পৃক্তকরণের পাশাপাশি এ সংক্রান্ত কর্মপদ্ধতি নির্ধারণসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করা হয়। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন মো: জাহাঙ্গীর আলম। কর্মশালা পরিচালনায় মো: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বর্তমান সরকারের আন্তরিকতা ও নানা উদ্যোগ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারের এ সংক্রান্ত অনেক আইন ও নীতিমালা রয়েছে। কিন্তু  সে অনুযায়ি সচেতনতা না থাকায় এর সুফল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গ পাচ্ছেন না। আমাদের সকলের সম্মিলত প্রচেষ্টায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হতে পারে।” উদ্যোগ নিতে হবে আমাদের সকলকে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ প্রসঙ্গে সংস্থার পরিচালক কবি প্রাবন্ধিক সাঈদুল আরেফীন বলেন, “জেএসইউএস প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। সংস্থা অপরাপর কর্মসূচীতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করে।” ভবিষ্যতে সকল প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধিতা ইস্যুটি সর্বাগ্রে বিবেচনা করা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। -প্রেস বিজ্ঞপ্তি বার্তা প্রেরক মো: আরিফুর রহমান প্রোগ্রাম ম্যানেজার (এসডিপি)