Home / প্রযুক্তি / মহাশুন্যে বিশ্বের প্রথম ব্যক্তিমালিকানাধীন খেয়াযান।

মহাশুন্যে বিশ্বের প্রথম ব্যক্তিমালিকানাধীন খেয়াযান।

বিশ্বের প্রথম বেসরকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজস্ব বাণিজ্যিক মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করলো যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস এক্স কোম্পানি। পৃথিবীর কক্ষপথে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে(আইসএসএস) মালামালবাহী ড্রাগন ক্যাপসুল প্রেরণের মাধ্যমে সৃষ্টি হলো এই যুগান্তকারী অধ্যায়। ক্যাপসুলটিকে বহন করছে একটি স্পেসএক্স ফ্যালকন-৯ রকেট। স্পেসএক্স এর আগে গত ২০১০ সালের জুনে পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম ফ্যালকন-৯ রকেট উৎক্ষেপণ করে। একই বছর তারা তাদের নির্মিত ড্রাগন ক্যাপসুলকে পরীক্ষমূলকভাবে পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠায়। এর মাধ্যমে পৃথিবীর প্রথম বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা একই সঙ্গে পৃথিবীর কক্ষপথে ক্যাপসুল পাঠিয়ে পৃথিবীতে সাফল্যজনকভাবে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়। পুনরায় ব্যবহারযোগ্য ড্রাগন ক্যাপসুল একই সঙ্গে মালামাল এবং সাতজন মানুষ পরিবহনে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্র ব্যতীত বিশ্বে এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র রাশিয়া, জাপান এবং ইউরোপের স্পেস এজেন্সি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন ‘আইএসএসে’ স্পেসশাটল বা খেয়াযান পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে মালামাল পরিবহণের কাজে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগানোর যুগে প্রবেশ করলো মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা। ধারণা করা হচ্ছে এখন থেকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যাতায়াতের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা স্পেস শাটলের ওপর ওপর নির্ভর করবে নাসা। সোমবারের এই সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো মহাশুন্যে ফ্লাইট পরিচালনায় তাদের সক্ষমতা প্রদর্শন করতে সক্ষম হলো। গত ২০১১ সালে নাসা পৃথিবীর কক্ষপথে স্পেস শাটল অভিযানের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করে। এরপর থেকেই পৃথিবীর অন্যান্য মহাশুন্য শক্তিগুলো আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে তাদের ক্যাপসুল পাঠিয়ে আসলেও যুক্তরাষ্ট্র কোনো নিজস্ব ক্যাপসুল পাঠায়নি। তবে এই স্পেস ফ্লাইটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেসশাটল প্রেরনে নতুন ইতিহাস তৈরি হলো। ধারণা করা হচ্ছে এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিমালিকানাধীন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোই নাসাকে তাদের কাংখিত স্পেসশাটল বা নভোখেয়াযান সরবরাহ করবে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী নভোখেয়াযান নির্মাণে স্পেস এক্স ইতিমধ্যেই নাসার সঙ্গে প্রায় ১৬০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন নভোখেয়াযান নির্মানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে আসার ফলে মহাকাশ গবেষণাখাতে প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র সরকারের খরচ করা বিপুল পরিমান অর্থের সাশ্রয় ঘটাবে। স্পেস শাটল ‘ড্রাগন’ এবারের যাত্রায় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের জন্য প্রয়োজনীয় সরবরাহ বহন করছে। সেখানে অবস্থান করা ছয় নভোচারী ড্রাগনকে মহাকাশ স্টেশনে সংযুক্ত করবেন। সেখানে মালামাল নামিয়ে আবারো পৃথিবীতে ফেরত আসবে ড্রাগন। ড্রাগনের উৎক্ষেপণ শনিবার পূর্বনির্ধারিত থাকলেও রকেটের প্রধান ইঞ্জিনভাল্বে ত্রুটির কারণে এর যাত্রা স্থগিত করা হয়েছিলো। পরবর্তীতে ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক ‘স্পেসএক্স’র মালিক যুক্তরাষ্ট্রের কোটিপতি তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক ব্যবসায়ী এলোন মাসক। আগামী ২০১৫ সালের মধ্যেই মহাকাশে বেসরকারিভাবে প্রথম মনুষ্যবাহী খেয়াযান পাঠানোর প্রতিযোগিতায় তার কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের আরো বেশ কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।

আরও পড়ুন...

স্মার্টফোনের স্পীড বাড়াবেন যেভাবে

স্মার্টফোন এখন সকলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এক ডিভাইস হয়ে উঠেছে। অনেক সময় দেখা যায় দরকারি কাজে …