Home / প্রযুক্তি / সাইবার ক্রাইম ঠেকাতে নেমেছে বিটিআরসি

সাইবার ক্রাইম ঠেকাতে নেমেছে বিটিআরসি

সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে একটি বিশেষ টিম গঠন করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। বাংলাদেশ কম্পিউটার সিকিউরিটি ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (সিএসআইআরটি) নামে এই দল গতকাল বুধবার থেকে সাইবার ক্রাইম সনাক্তে কাজ শুরু করেছে বলে বিটিআরসি চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়া আহমেদ বুধবার ফেয়ার নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন। আগে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিত বিটিআরসি, তবে এখন সিএসআইআরটি কাজ শুরু করায় সাইবার ক্রাইমের বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলবে। রাষ্ট্রীয়, সমাজ, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ায়- ওয়েবসাইটগুলোতে এমন বিষয় সনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়াই হরে এই দলের মূল কাজ।
কমিশনের বিশেষ সভায় সিএসআইআরটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ। বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন আহমেদকে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যের এই দল গঠন করা হয়েছে। কমিশনের সদস্য, মোবাইল ফোন অপারেটর, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার, পিএসটিএন, ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে ও সাইবার ক্যাফের প্রতিনিধিদের এই দলে রাখা হয়েছে।মোবাইল অপারেটর ও অন্যান্যরা এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান। সম্প্রতি কতিপয় সেনাসদস্যের অভ্যুত্থান চেষ্টা নস্যাতের পরপরই সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে বিশেষ দল গঠনের কথা জানালো বিটিআরসি। গত ১৯ জানুয়ারি সেনাবাহিনী জানায়, অভ্যুত্থান চেষ্টাকারী ওই সৈন্যরা ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা এবং প্ররোচিত করার কাজটি করেন।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু কামনা করে মন্তব্য করার ঘটনা ঘটে, যা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। রাষ্ট্রীয়, সমাজ, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ায়- এমন ওয়েবসাইট সনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়াই হরে এই দলের মূল কাজ। অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে দলটি। সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে বিটিআরসি�র তিন জন সাইবার ক্রাইম (বিটিআরসি সহকারী পরিচালক পদমর্যাদা) বিশেষজ্ঞ পুরোদমে কাজ শুরু করেছেন।
বিটিআরসি ভবনে একটি কক্ষে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সর্বক্ষণ এ নজরদারি করা হবে বলে জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান। সহকারী পরিচালক পদের এই তিন জন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বলে বিটিআরসি চেয়ারম্যান জানান। তিনি বলেন, সন্দেহজনক কিছু পেলেই সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন তারা। বিটিআরসি মহাপরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্স) এ কে এম শহিদুজ্জামান জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে অপরাধীকে ২ থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছরের সাজা এবং ৫ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা জরিমানা দিতে হতে পারে। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের ৬৯ ধারা অনুযায়ী এই শাস্তি দেওয়া হতে পারে বলে জানান তিনি। কোনো ওয়েবসাইটে ক্ষতিকর কিছু থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে তা বন্ধ নাও করা হতে পারে জানিয়ে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসাই এই টিমের মূল লক্ষ্য। তবে গুরুতর কোনো অপরাধ বা যা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ, সে ক্ষেত্রে এ টিম কমিশনকে জানিয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে জানান তিনি।

About site-admin

আরও পড়ুন...

কঠোর হচ্ছে ফেসবুক, যা আছে নতুন নীতিমালায়

চলতি বছরের অক্টোবর থেকে নীতিমালায় (Terms of Service) কিছু পরিবর্তন আনছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম …

error: বাংলার বার্তা থেকে আপনাকে এই পৃষ্ঠাটির অনুলিপি করার অনুমতি দেওয়া হয়নি, ধন্যবাদ