Home / শীর্ষ সংবাদ / সুদানে কসবার সন্তান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের প্রচেষ্টায় শহীদ মিনার স্থাপন।

সুদানে কসবার সন্তান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের প্রচেষ্টায় শহীদ মিনার স্থাপন।

সুদানের দারফুর প্রদেশে ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ফর্মড পুলিশ ইউনিটের পক্ষ থেকে ইতিহাসের প্রথমবার সুদানের কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ শহীদ মিনার স্থাপন করা হল। সুদানিজ সময় সকাল ৮ টায় উনামিড মিশনের পুলিশ চিফ অফ স্টাফ জেনারেল আমাদো মান্নাহ প্রধান অতিথি হিসাবে শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ ফর্মড পুলিশ ইউনিটের কমান্ডার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের যিনি কসবার সন্তান তার একক প্রচেষ্টায় এটি নির্মিত করা হয়। তিনি সুদানের উত্তর দারফুরে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে এই শহীদ মিনারটি আল কিদা গার্লস স্কুলে স্থাপনে কাজ করেন। অবশেষে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ ভাষা দিবস ও আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবসে তা স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য উম্মুক্ত করা হয়। শহীদ মিনারটি উদ্বোধন করার পর বাংলাদেশ পুলিশ, স্কুলের শিক্ষক-ছাত্রীবৃন্দ, উনামিড শান্তিরক্ষা মিশনের কর্মকর্তাবৃন্দ, সুদান পুলিশের সদস্যগন শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ১০ ফুট লম্বা এই শহীদ মিনারটি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই নির্মান করা হয়েছে।

এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উনামিডের পুলিশ চিফ অফ স্টাফ জেনারেল আহমাদো মান্না, বিশেষ অতিথি ছিলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোনা বাদুই আব্দেল, উত্তর দারফুরে লিয়াজো অফিসার কর্নেল আমির ও ব্যানএফপিইউ কমান্ডার মোহাম্মদ আব্দুল হালিম। সুদানিজ ভাষা আরবিক হওয়াই অনুবাদের ও সঞ্চালনায় ছিলেন মিশরের পুলিশ মেজর ইসলাম কান্দেল।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভায় প্রধান শিক্ষিকা শহীদ মিনার নির্মানের জন্য বাংলাদেশ পুলিশকে ধন্যবাদ প্রদান করেন। তিনি বলেন এর মাধ্যমে সুদান ও বাংলাদেশের মধ্যে ভাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি করবে। উনামিড চিফ অফ স্টাফ জেনারেল আমাদো মান্নাহ আজকের অনুষ্ঠানকে ঐতিহাসিক দিন বলে আখ্যা দেন এবং শহীদ মিনার নির্মানের জন্য কমান্ডার মোহাম্মদ আব্দুল হালিম কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

কসবা শিকারপুর গ্রামের কৃতিসন্তানএরপর মুজিব বর্ষের লগো ও শহীদ মিনারের ছবি সম্বলিত আট শতাধিক শিক্ষা উপকরণ আল কিদা গার্লস স্কুলে প্রদান করা হয়। ব্যানএফপিইউ কমান্ডার মোহাম্মদ আব্দুল হালিম সূচনা বক্তব্যে মহান ভাষা দিবসের উপর সংক্ষিপ্ত ধারনা প্রদান করেন। তিনি বলেন আমরা মিশন এরিয়াতে ইতিমধ্যে দারফুরের নিয়ালা বিশ্ববিদ্যালয় ও খার্তুম বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতির পিতাকে পরিচিতি করার উদ্দেশ্যে শতাধিক বই প্রদান করি এবং ৪টি স্কুলে নানা ধরণের শিক্ষা উপকরণ প্রদান করি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুক মিয়া বলেন বাংলাদেশ ফর্মড পুলিশ ইউনিট সুদানের যুদ্ধ বিধস্ত প্রদেশ দারফুরে আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা সুদানিজ ভাষায় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ সংগিত পরিবেশন করে। এর আগে মহান ভাষা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে বঙ্গবন্ধু ক্যাম্পে শহীদ মিনারে বাংলাদেশ ফর্মড পুলিশ ইউনিটের সকল সদস্য পুষ্প স্তবক অর্পণ করে।

About বাংলার বার্তা

আরও পড়ুন...

কুয়েত প্রবাসী বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী এজাজুর রহমান জুনেল আর নেই

কুয়েত প্রবাসী জালালাবাদ এসোসিয়েশন এর সভাপতি বিশিষ্ট সংগঠক ও শিক্ষানুরাগী সমাজ সেবক এজাজুর রহমান জুনেল …

error: বাংলার বার্তা থেকে আপনাকে এই পৃষ্ঠাটির অনুলিপি করার অনুমতি দেওয়া হয়নি, ধন্যবাদ