কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য সচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস, কুয়েত। বিজ্ঞপ্তিটিতে কুয়েতের আইন মেনে নিয়ম-তান্ত্রিকভাবে সমস্যা সমাধানের জন্য কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশী কর্মীদেরকে অনুরোধ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে—
০১। কুয়েতের শ্রম আইন ২০১০ অনুযায়ী কোম্পানীতে বকেয়া বেতন আদায়সহ কোম্পানীতে কর্মীদের যে কোন সমস্যার ক্ষেত্রে কুয়েতের Public Authority for Manpower এ এবং ব্যক্তিগত কাফিলের অধীনে কর্মরত কর্মীদের কুয়েতের Department of Domestic Labour এ অভিযোগ করার বিধান রয়েছে। এ ধরণের অভিযোগ দাখিলের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে বাংলাদেশ দূতাবাস, কুয়েত সহায়তা প্রদান করে থাকে। কিন্তু কখনো কখনো পরিলক্ষিত হয় যে, কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশী কর্মীরা শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়মতান্ত্রিকভাবে তাঁদের বকেয়া বেতন আদায়ের জন্য কুয়েতের Public Authority for Manpower এ, Department of Domestic Labour এ বা বাংলাদেশ দূতাবাস, কুয়েতে অভিযোগ না করে কাজে অনুপস্থিত থাকেন বা ধর্মঘট করে থাকেন। কুয়েতের আইন অনুযায়ী ধর্মঘট, দলগতভাবে কর্মবিরতি বা কাজে অনুপস্থিত থাকা নিষিদ্ধ। কুয়েতে কোন কর্মী কর্মস্থল/কোম্পানীতে ধারাবাহিকভাবে ০৭ দিন কর্মবিরতি করলে বা বিনা অনুমতিতে কাজে অনুপস্থিত থাকলে উক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে অনুপস্থিতির মামলা (Absconding Case) দায়ের করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ তথা কর্মীকে চাকুরী হতে অব্যাহতি দেয়া ও তার ইকামা বাতিল করার বিধান রয়েছে। সে জন্য কুয়েতের আইন মেনে নিয়ম-তান্ত্রিকভাবে সমস্যা সমাধানের জন্য কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশী কর্মীদেরকে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।
০২। ‘কুয়েতে প্রবাসী কর্মীদের ইকামায় উল্লেখিত কর্মস্থলের বাহিরে অন্য কর্মস্থলে কাজ করা কুয়েতের শ্রম আইন ২০১০ অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। কিন্তু কখনো কখনো দেখা যায় যে, কুয়েতে নতুন আগত বাংলাদেশী কর্মীদের অনেকে আইন না জানার কারণে অধিক আয়ের আশায় অন্য কর্মস্থলে কাজ করে থাকেন। এক্ষেত্রে কুয়েতের পুলিশ ইকামার শর্ত ভঙ্গের (Violation of Residency Law) দায়ে তাদেরকে গ্রেফতারপূর্বক যথাযথ আইনী প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জেলে প্রেরণ করতে পারে। এরূপ প্রক্রিয়ায় আটক ব্যক্তিদের চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশে ডিপোর্ট করা হয়ে থাকে এবং পুনরায় তাদের আর কুয়েতে প্রবেশ করার সুযোগ থাকে না। ফলে ইকামায় উল্লেখিত কর্মস্থলের বাইরে অন্য কোন কর্মস্থলে কাজ না করার জন্য কুয়েতের প্রবাসী বাংলাদেশীদেরকে আহ্বান জানানো যাচ্ছে।
০৩। । বাংলাদেশ হতে কুয়েতে কর্মী আগমনের জন্য রিক্রুটিং এজেন্সীসমূহে সার্ভিস চার্জসহ কর্মী কর্তৃক প্রদেয় সর্বমোট অভিবাসন ব্যয় ১,০৬,৭৮০/- (এক লক্ষ ছয় হাজার সাতশত আশি) টাকা বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ হতে কুয়েতে কর্মী আগমনের জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ের অতিরিক্ত অর্থ লেনদেন করা দাতা ও গ্রহীতা অর্থাৎ উভয়ের জন্য দন্ডনীয় অপরাধ। মাঝে মধ্যে পরিলক্ষিত হয় যে, কিছু অসাধু বাংলাদেশী ব্যক্তি ভিসা ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে জড়িত। ভিসা ক্রয়-বিক্রয় এর কারণে অভিবাসন ব্যয় বেড়ে যায়। কুয়েতের আইন অনুযায়ী ভিসা ক্রয় ও বিক্রয় উভয়ই দন্ডনীয় অপরাধ। সুতরাং ভিসা ক্রয়-বিক্রয় থেকে বিরত থেকে বৈধভাবে কুয়েতে কর্মস্থলে আসার জন্য অনুরোধ করা হলো।
০৪। কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশীদের কুয়েতের শ্রম আইন অনুযায়ী কর্মস্থলে তাদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা লাভের জন্য বাংলাদেশ হতে আগত কর্মীদের কোম্পানী/কর্মস্থলে নিজ কাজের মেয়াদ, বেতন ভাতা ইত্যাদি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে চুক্তি পত্র স্বাক্ষর করা এবং চুক্তি পত্রের কপি নিজের কাছে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরী।
০৫। কুয়েত প্রবাসী কর্মীদের কোন কোম্পানীতে কর্মরত থাকা অবস্থায় ছুটি গ্রহণ, আকামা নবায়ন ও আকামা ট্রান্সফার বাবদ যে কোন ধরণের আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ অবৈধ। কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশীদের এ ধরণের অবৈধ আর্থিক লেনদেন হতে বিরত থাকা একান্ত আবশ্যক।
০৬। যে কোন ধরণের আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধের রশিদ বা উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া শুধু পারস্পরিক বিশ্বাস বা মৌখিক প্রতিশ্রতিতে অর্থ লেনদেনের কোন আইনগত ভিত্তি থাকে না। পরবর্তীতে তা আদালত কর্তৃক আদায়যোগ্যও হয় না। কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশীদের কর্মস্থল, আবাসস্থল, কোন অফিস-আদালতে প্রয়োজনীয় কাজে যে কোন প্রকার আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে অবশ্যই অর্থ পরিশোধের রশিদ গ্রহণ অথবা উপযুক্ত প্রমাণ রাখা জরুরী।
০৭। কুয়েতে ভিক্ষাবৃত্তি বা অন্যের কাছে হতে আর্থিক সাহায্য গ্রহণ এবং রাস্তা হতে মালামাল কুড়ানো বা সংগ্রহ করে তা বিক্রয় করাকে গর্হিত আচরণ হিসাবে গণ্য করা হয়। এরূপ কার্যক্রমে কোন প্রবাসী কর্মী জড়িত থাকলে কুয়েত পুলিশ তার বিরুদ্ধে আইনগত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।
০৮। কুয়েতে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে চালকের লাইসেন্স ও গাড়ীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চালকের সঙ্গে থাকা আবশ্যক। গাড়ীতে সিট বেল্ট ব্যবহার, রাস্তায় নির্ধারিত গতিসীমা ও সিগনাল লাইট মেনে চলা, গাড়ি চালানো অবস্থায় চালক কর্তৃক মোবাইল ফোনে কথা না বলা ইত্যাদি সহ ট্রাফিক আইন ও জরিমানা সংক্রান্ত বিষয় জেনে এবং তা যথাযথভাবে অনুসরণ করে গাড়ী চালানোর জন্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের অনুরোধ করা যাচ্ছে।
০৯। কুয়েতে অর্থ জালিয়াতি, এটিএম কার্ড জালিয়াতি সংক্রান্ত অপরাধীচক্র প্রবাসীদের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে তাদেরকে এ সকল অপরাধে সম্পৃক্ত করে অপরাধমূলক কাজে সক্রিয় রয়েছে মর্মে বিভিন্ন সংবাদপত্রের তথ্যে জানা যায়। উল্লেখ্য, এটিএম বুথ থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা উঠানোর বিষয়ে সম্প্রতি কুয়েত প্রবাসী একজন বাংলাদেশি গ্রেপ্তার হয়েছেন যা প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য অত্যন্ত লজ্জার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশীদের এ ধরণের অবৈধ কাজে সম্পৃক্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
১০। কুয়েতে ফৌজদারী মামলায় আটক প্রবাসী বাংলাদেশীদের অধিকাংশই মাদকদ্রব্য বিক্রয় বা মাদকদ্রব্য পরিবহনের অপরাধে দন্ডিত হয়েছেন বা বিচারাধীন রয়েছেন মর্মে পরিলক্ষিত হচ্ছে। অধিক আয়ের জন্য প্রলুব্ধ হয়ে মাদক সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত হওয়ার পরিণাম সম্পর্কে অজ্ঞতা বশতঃ তারা এ ধরণের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন মর্মে দূতাবাসের টীম কুয়েত কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শনকালে আটক বাংলাদেশীদের সাথে সাক্ষাতে অবহিত হয়েছেন। এমতাবস্থায়, মাদকদ্রব্য বিক্রয়, মাদকদ্রব্য পরিবহন, মাদকদ্রব্য ব্যবহার এবং মাদক সংক্রান্ত যে কোন ধরণের কাজ হতে নিজেদের বিরত রাখার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের অনুরোধ করা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য বিজ্ঞপ্তিটি কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার (শ্রম) মোহাম্মদ আবুল হোসেন এর সাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিটি ২৭ আগষ্ট বুধবার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস, কুয়েত।


Discussion about this post