ঈদের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম Bongo-তে মুক্তি পেয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী চলচ্চিত্র Ali। মুক্তির পর থেকেই দর্শকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে সিনেমাটি। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিন পর এমন একটি গল্প এসেছে যা নিঃশব্দে মানুষের ভেতরের অনুভূতিকে নাড়া দিয়েছে। চলচ্চিত্রটি কেবল একটি গল্প নয় এটি বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি। বিশেষ করে “সাজু মামা” চরিত্রটি দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। দায়িত্ববোধ, ভালোবাসা, ভুল এবং অনুশোচনার মিশেলে গড়ে ওঠা এই চরিত্রটি এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে উঠে এসেছে। গল্পে দেখা যায়, ঢাকার ব্যস্ত জীবনে এক সাধারণ গার্মেন্টস কর্মী সাজু, যিনি নিজের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও পরিবারের বাইরে পাহাড়ে থাকা ভাগ্না-ভাগ্নিদের খোঁজ রাখেন। এক পর্যায়ে তিনি সাহস করে তার ভাগ্নি রশ্নিকে ঢাকায় এনে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সংসারের চাপ এবং স্ত্রীর আপত্তি সত্ত্বেও তিনি এগিয়ে যান কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, একটি মেয়ের স্বপ্ন মানেই একটি ভবিষ্যৎ। তবে গল্পে আসে নাটকীয় মোড়। ঢাকায় আসার পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্তে হারিয়ে যায় আলী ও রশ্নি। এই ঘটনার পর সাজুর জীবনে নেমে আসে দায়িত্ব ও অপরাধবোধের গভীর সংকট। পরবর্তীতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আলীর প্রতিরোধ এবং সেই প্রেক্ষাপটে সাজুর দ্বিধা, অস্বীকার এবং শেষ পর্যন্ত সত্যে ফিরে আসার যাত্রা চলচ্চিত্রটিকে আরও গভীরতা দিয়েছে। সাজু মামা চরিত্রে অভিনয় করেছেন Shaukat Sajal, যিনি তার অভিনয় দক্ষতায় চরিত্রটিকে জীবন্ত করে তুলেছেন। অন্যদিকে নির্মাতা Biplob Haydar-এর ব্যতিক্রমধর্মী নির্মাণশৈলী সিনেমাটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, “আলী” শুধু আলীর প্রতিবাদ বা রশ্নির স্বপ্নের গল্প নয়—এটি সমাজের প্রতিচ্ছবি, যেখানে একজন সাধারণ মানুষের ভেতরের লড়াই এবং আত্মসমালোচনা উঠে এসেছে নিখুঁতভাবে। ওটিটি-তে মুক্তির পর দর্শকরা সিনেমাটি দেখে যেমন আবেগাপ্লুত হচ্ছেন, তেমনি সাজু মামার নীরব কষ্ট ও মানবিক দ্বন্দ্ব তাদের মনে গভীর ছাপ ফেলছে। আর এই অনুভূতির জায়গাটিই “আলী”কে একটি স্মরণীয় চলচ্চিত্রে পরিণত করেছে।















Discussion about this post