সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কুয়েত সরকার। এ ক্ষেত্রে শুধু প্রবাসী নয়, কুয়েতি নাগরিকদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে মিথ্যা খবর প্রচারের দায়ে এক কুয়েতি নাগরিককে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির ফৌজদারি আদালত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পরিষেবা ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। দৈনিক আল-কাবাস–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পৃথক আরেকটি মামলায় আদালত আরও এক নাগরিককে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের দায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। পাশাপাশি ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে তার অ্যাকাউন্ট স্থগিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের পর বর্তমানে আদালতের পর্যালোচনায় থাকা একাধিক আইনি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে। জননিরাপত্তা রক্ষা এবং জনমনে আতঙ্ক বা অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে—এমন অপতথ্যের বিস্তার রোধ করতেই সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপ।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আরও কঠোর আইন
বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কুয়েতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছবি, ভিডিও বা হামলার দৃশ্য ধারণ করে লাইভ কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করাও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। প্রচলিত আইন অনুযায়ী এ ধরনের কাজ করলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার (ডিপোর্ট) হওয়ার বিধান রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর থেকেই কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস একাধিকবার ভিডিও বার্তা ও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক করেছে। একইভাবে কুয়েত সরকারও বারবার অনুরোধ ও নির্দেশনা দিয়েছে—যেন কেউ যুদ্ধ বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো ছবি, ভিডিও বা লাইভ সম্প্রচার সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ না করেন। তবুও দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, অনেকেই ভিউ, লাইক ও ভাইরাল হওয়ার নেশায় স্থানীয় আইন অমান্য করছেন। অথচ এ ধরনের কাজ শুধু ব্যক্তির জন্যই নয়, পুরো প্রবাসী কমিউনিটির জন্যও বড় ধরনের সমস্যার কারণ হতে পারে। বাংলাদেশ প্রেসক্লাব কুয়েতের সভাপতি সাংবাদিক মঈন উদ্দিন সরকার সুমন কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশ্যে অনুরোধ করে বলেন,
“সবাই স্থানীয় আইন মেনে চলুন এবং দায়িত্বশীল আচরণ করুন। ভাইরাল হওয়ার নেশায় নিজের জীবন ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে ফেলবেন না।”







Discussion about this post