কুয়েতের মহবুলা ও সালমি এলাকায় পৃথক দুটি নিরাপত্তা অভিযানে মোট ১৪ জন প্রবাসীকে গ্রেফতার করেছে দেশটির আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অবৈধ হকারি, অননুমোদিত দোকান পরিচালনা এবং মরুভূমিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে এসব অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার আহমাদি গভর্নরেটের ফিনতাস তদন্ত বিভাগ মহবুলা এলাকায় তিনটি অবৈধ ফুটপাত দোকানে অভিযান চালায়। এসব দোকানে কোনো বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য বিক্রি করা হচ্ছিল। অভিযান চলাকালে মোট ১০ জনকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে দুইজনের বিরুদ্ধে পূর্ব থেকেই গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। অন্যদিকে, সালমি মরুভূমি এলাকায় পৃথক অভিযানে চারজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা অনুমোদনহীন ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় ভূমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করছিল। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন সিরিয়ান, দুইজন মিশরীয় এবং একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। এদের মধ্যেও একজনের বিরুদ্ধে আগেই গ্রেফতারি ও অনুপস্থিতির পরোয়ানা ছিল বলে জানানো হয়েছে। অভিযান চলাকালে দুটি ভারী যানবাহন জব্দ করা হয়, যা বালু উত্তোলন ও পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং বিভিন্ন দেশের ভিসা নীতির কঠোরতার কারণে অনেক প্রবাসী শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে কিছু ভিসা দালালের মাধ্যমে “ফ্রি ভিসা” বা ভিজিট ভিসার নামে কুয়েতে এসে অনেক শ্রমিক নির্দিষ্ট কাজ বা কোম্পানির নিশ্চয়তা ছাড়াই জীবনযাপন করছেন। কর্মসংস্থান না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে ফুটপাতে হকারি বা অনানুষ্ঠানিক ছোট ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছেন। তবে এসব কার্যক্রম স্থানীয় আইন লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে । ফলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে তারা আটক হন, জরিমানা বা কারাদণ্ডের মুখোমুখি হন এবং শেষ পর্যন্ত অনেককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। ফলে দেখা যাচ্ছে, একটি অংশ প্রবাসে গিয়ে অর্থনৈতিক স্বপ্ন পূরণের আশা নিয়ে এলেও বাস্তবতায় অনিশ্চয়তা, আইনগত জটিলতা এবং অনিয়মিত কর্মসংস্থানের কারণে তারা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়ছেন।








Discussion about this post