বাংলাদেশ ও কুয়েতের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা এবং সহযোগিতার ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। যদিও ২০১০ সালের পর থেকে বাংলাদেশের কোনো প্রধানমন্ত্রী কুয়েতে সরকারি সফর করেননি এবং রাষ্ট্রপতি পর্যায়ে সর্বশেষ সফর হয় ২০১২ সালে, তবুও এটিকে দুই দেশের সম্পর্কের দুর্বলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বাস্তবে, গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যে শ্রমশক্তি রপ্তানি, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়মিতভাবে অব্যাহত রয়েছে। দুই দেশের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধি এবং কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের পারস্পরিক সফরের মাধ্যমে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় আছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৬ সালের মে মাসে তৎকালীন কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেন। সেই সফরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয় এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির পথ সুগম হয়। বর্তমানে কুয়েতে প্রায় তিন লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন, যারা দেশটির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন। প্রতিবছর তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করছে। এছাড়া কুয়েত বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে সহায়তা প্রদান করে আসছে। তবে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের সফরের একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এ ধরনের সফর শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয় বরং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে। উচ্চপর্যায়ের সফরের মাধ্যমে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের ক্ষেত্র তৈরি হয়।
কুয়েতে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের অনেকেই মনে করেন, দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর একটি সরকারি সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও ফলপ্রসূ করবে। বিশেষ করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা এবং প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ ও কুয়েতের সম্পর্ক বর্তমানে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সুদৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। এখন প্রত্যাশা, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কুয়েত সফরের মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে নতুন নতুন সহযোগিতার দ্বার উন্মোচিত হবে। বিশেষ করে কুয়েতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের কিছু প্রত্যাশা ও সমস্যার সমাধানে উচ্চপর্যায়ের এ সফর একটি ইতিবাচক মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।







Discussion about this post