কায়রো: মরুভূমির বুকে গড়ে ওঠা মিশরের নতুন প্রশাসনিক রাজধানীর সঙ্গে পুরনো রাজধানী কায়রোর যোগাযোগকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করতে চালু হয়েছে অত্যাধুনিক চালকবিহীন মনোরেল। আফ্রিকার প্রথম সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় (ড্রাইভারলেস) মনোরেল হিসেবে পরিচিত এই প্রকল্প ইতোমধ্যে দেশটির গণপরিবহন ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। মিশর সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ‘ইস্ট নাইল মনোরেল’ নামে পরিচিত এই রেলপথ কায়রোর নাসর সিটি এলাকা থেকে নতুন প্রশাসনিক রাজধানী পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রায় ৫৬.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটে একাধিক স্টেশন রয়েছে, যা নতুন কায়রো ও প্রশাসনিক রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সরকারি অঞ্চলকে সংযুক্ত করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বর্ধনশীল কায়রো মহানগরীর তীব্র যানজট কমানো, পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন নিশ্চিত করা এবং নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে যাতায়াত সহজ করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। বিদ্যুৎচালিত হওয়ায় এটি কার্বন নিঃসরণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। মনোরেলটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে পরিচালিত হয়। ট্রেনে কোনো চালক থাকেন না; উন্নত কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সিগন্যালিং প্রযুক্তি এবং কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পুরো পরিচালনা কার্যক্রম তদারকি করা হয়। ফলে নিরাপত্তা, সময়ানুবর্তিতা ও পরিচালন দক্ষতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
যাত্রীসেবার ক্ষেত্রেও রাখা হয়েছে আধুনিক সুবিধা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ, ডিজিটাল তথ্য প্রদর্শন ব্যবস্থা, সিসিটিভি নজরদারি, প্রতিবন্ধীবান্ধব প্রবেশপথ, লিফট এবং হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। মিশরীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইস্ট নাইল লাইনের পাশাপাশি পশ্চিমাঞ্চলে আরেকটি মনোরেল লাইন নির্মাণাধীন রয়েছে। দুইটি লাইন সম্পূর্ণ চালু হলে পুরো নেটওয়ার্কের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি হবে, যা বিশ্বের দীর্ঘতম মনোরেল নেটওয়ার্কগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রকল্পটি কেবল পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন নয়, বরং নতুন প্রশাসনিক রাজধানীকে একটি স্মার্ট ও টেকসই নগরী হিসেবে গড়ে তোলার বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ। কায়রোর জনসংখ্যার চাপ কমিয়ে মরুভূমির বিস্তীর্ণ এলাকায় গড়ে ওঠা নতুন নগরকেন্দ্রে সরকারি কার্যক্রম স্থানান্তরের উদ্যোগের সঙ্গে এই মনোরেল সরাসরি সম্পৃক্ত। বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনার সমন্বয়ে মিশরের এই চালকবিহীন মনোরেল শুধু একটি পরিবহন ব্যবস্থা নয়; বরং ভবিষ্যৎ নগর উন্নয়নের প্রতীক হয়ে উঠেছে। মরুভূমির বুক চিরে ছুটে চলা এই মনোরেল আজ মিশরের আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ।







Discussion about this post