কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন ৯ জুন কুয়েতের আমিরি দিওয়ান বিষয়ক মন্ত্রী শেখ হামাদ জাবের আল-আলী আল-সাবাহর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক পর্যালোচনা করা হয় এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি, প্রতিরক্ষা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন তারা এবং শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় যৌথ প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রদূত সৈয়দ তারেক হোসেন পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের ফলে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিতে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্ব ও সংহতির গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ১৯৭৪ সালে বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিতে কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য ও সিরামিক শিল্পের ক্রমবর্ধমান রপ্তানি সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরেন। এছাড়া বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) ও হাইটেক পার্কগুলোতে কুয়েতি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূত বলেন, কুয়েতের উন্নয়ন কার্যক্রমে অবদান রাখতে বাংলাদেশ দক্ষ প্রকৌশলী, চিকিৎসক, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও নার্সসহ বিভিন্ন খাতের পেশাজীবী সরবরাহে সক্ষম। এ সময় শেখ হামাদ জাবের আল-আলী আল-সাবাহ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ব্যাপারে কুয়েতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি কুয়েতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির ইতিবাচক অবদানের প্রশংসা করেন এবং ১৯৯১ সালে কুয়েত মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর চলমান পেশাদার সহযোগিতারও ভূয়সী প্রশংসা করেন। মন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতি কুয়েতের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।








Discussion about this post