
কুয়েত প্রতিনিধি: কুয়েতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা সরাসরি জানার এবং তা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস, কুয়েত নিয়মিতভাবে মাসিক গণশুনানির আয়োজন করে আসছে। একই সঙ্গে দূতাবাসের সেবার মানোন্নয়ন, কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং শ্রম কল্যাণ, পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার উদ্দেশ্যেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় জুন ২০২৬ মাসের গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয় ১৪ জুন ২০২৬, রবিবার, দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ দূতাবাসের হলরুমে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন, ওএসপি, এডব্লিউসি, পিএসসি। গণশুনানিতে দূতাবাসের বিভিন্ন শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাঁদের কর্মসংস্থান, শ্রম অধিকার, আকামা সংক্রান্ত জটিলতা, পাসপোর্ট নবায়ন, কনস্যুলার সেবা, আইনি সহায়তা এবং অন্যান্য নাগরিক সেবাসংক্রান্ত নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রবাসীদের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনেন এবং বিভিন্ন সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের বিষয়েও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের এ উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। গণশুনানির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অনেক জটিল সমস্যার সমাধান বের হয়ে আসছে এবং দূতাবাসের প্রতি প্রবাসীদের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে তা দূর করার সুযোগও তৈরি হচ্ছে। গণশুনানিতে অংশগ্রহণকারী প্রবাসীরা জানান, দূতাবাসের এ ধরনের উদ্যোগ তাঁদের কথা সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। এতে সমস্যা সমাধানের গতি যেমন বাড়ছে, তেমনি সেবার মানও উন্নত হচ্ছে। বাংলাদেশ দূতাবাস, কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রবাসীদের কল্যাণ ও সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এ ধরনের গণশুনানির আয়োজন অব্যাহত থাকবে। প্রবাসীদের যেকোনো সমস্যা দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধানের মাধ্যমে একটি সেবাবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক দূতাবাস গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।








Discussion about this post