ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তর (DGCA) জানিয়েছে, বর্তমানে বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৯০টি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে, যা পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করলে নিরাপত্তার স্বার্থে কুয়েত তার আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং বহু ফ্লাইট বাতিল বা অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বিমান চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ২৪ এপ্রিল কুয়েত কর্তৃপক্ষ সীমিত পরিসরে আকাশসীমা খুলে দেয় এবং কুয়েত এয়ারওয়েজ ও জাজিরা এয়ারওয়েজ নির্দিষ্ট কয়েকটি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। সে সময় পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু না হয়ে ধাপে ধাপে পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। তবে পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে ওঠে ৩ জুন। ওই দিন ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত ৬৩ জন আহত হন। নিরাপত্তার কারণে সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং অনেক ফ্লাইট বিকল্প বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কুয়েত এয়ারওয়েজের কিছু ফ্লাইট টার্মিনাল-৪ থেকে সীমিত আকারে চালু করা হয়। পরে টার্মিনাল-৪ ও টার্মিনাল-৫ ব্যবহার করে ধীরে ধীরে বিমান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। এরপর ১১ জুন ইরানি হামলার আশঙ্কায় কুয়েত আবারও সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে একই দিন বিমান চলাচল পুনরায় শুরু করা হয় এবং বিমানবন্দর স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে আসে। সর্বশেষ কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরের বিভিন্ন টার্মিনালে কার্যক্রম প্রায় স্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১৯০টি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোও ধীরে ধীরে তাদের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমে ফিরে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ায় প্রবাসী যাত্রী, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের জন্য স্বস্তি ফিরবে।








Discussion about this post