কুয়েতের সর্বোচ্চ আদালত কোর্ট অব ক্যাসেশন এক বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে । একই সময়ে পৃথক একটি মামলায় স্ত্রী হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে কুয়েতের আপিল আদালত। বিষয়টি দেশটির ইংরেজি দৈনিক আরব টাইমস প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশির মামলায় কী ঘটেছিল?
আদালতের নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তার এক বন্ধুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর ওপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করেন এবং পরে তার মোবাইল ফোন নিয়ে যান। ঘটনার পর কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত হত্যা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ গঠন করে। মামলাটি প্রথমে ফৌজদারি আদালতে বিচারাধীন হয়। বিচারিক প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ শেষে অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে সর্বশেষ আপিলের সর্বোচ্চ স্তর কোর্ট অব ক্যাসেশন মামলাটি পুনর্বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে। এই রায়ের ফলে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আশঙ্কা দূর হয়েছে।
ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড বহাল
অন্যদিকে, আরেকটি মামলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে কুয়েতের আপিল আদালত। মামলার তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে তিনি তার স্ত্রীকে গুরুতরভাবে আঘাত করেন, যার ফলে তার মৃত্যু ঘটে। পরে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে এবং আপিল আদালত সেই রায় বহাল রাখে।
কুয়েতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া
কুয়েতে হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে মামলাটি সাধারণত একাধিক বিচারিক ধাপ অতিক্রম করে। প্রথমে ফৌজদারি আদালত, এরপর আপিল আদালত এবং সর্বশেষ কোর্ট অব ক্যাসেশনের পর্যালোচনার সুযোগ থাকে। সব বিচারিক ধাপ শেষ হওয়ার পর আমিরের অনুমোদনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সম্প্রতি কুয়েতে পাঁচজন দণ্ডিতের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঘটনাও দেশটির পাবলিক প্রসিকিউশন নিশ্চিত করেছে।
এই রায় আবারও প্রমাণ করে যে কুয়েতে ফৌজদারি অপরাধ, বিশেষ করে হত্যা সংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে আইন অত্যন্ত কঠোর। সবার জন্য দেশটির আইন-কানুন মেনে চলা এবং যেকোনো বিরোধ বা সংঘাত থেকে দূরে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কুয়েতের আদালত কঠোর শাস্তি প্রদানে কোনো ধরনের ছাড় দেয় না।







Discussion about this post