বিদেশ থেকে কুয়েতে পাঠানো একটি মাদকের চালান জব্দের ঘটনায় এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাদকদমন বিভাগ। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশ থেকে আসা একটি সন্দেহভাজন পার্সেল বা চালানের ওপর নজরদারি শুরু করে মাদকদমন বিভাগ। তদন্তে জানা যায়, চালানটি জেলিব আল-শুয়েখ এলাকায় বসবাসরত এক বাংলাদেশি প্রবাসীর কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চালানটি নজরদারিতে রাখেন। সন্দেহভাজন ব্যক্তি চালানটি গ্রহণ করার পরপরই তাকে আটক করা হয়। পরে তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে আরও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জব্দ করা আলামতসহ অভিযুক্তকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কুয়েত সরকার পুনরায় সতর্ক করে জানিয়েছে, মাদক পাচার, সংরক্ষণ বা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। দেশের নিরাপত্তা ও সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে, ঘটনাটি কুয়েতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, অধিকাংশ বাংলাদেশি প্রবাসী সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুণ্ন রেখেছেন। তারা আশা করেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কারণে পুরো বাংলাদেশি কমিউনিকে যেন নেতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করা না হয়। উল্লেখ্য, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত এখনও চলমান। আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলো বিচারাধীন বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে।
এদিকে, কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটির মাদকদমন বিভাগ ১ হাজার ২০০টি মামলায় মোট ১ হাজার ৫৬৪ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় ৩২৩ কেজি বিভিন্ন ধরনের মাদক, ৬ লাখ ৩৫ হাজার মাদক ট্যাবলেট এবং ৯ হাজার বোতল মদ জব্দ করা হয়। একই সময়ে ৬১৪ জন প্রবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া ৩৪৬টি মাদকাসক্তির মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং তদন্তে কয়েকটি মাদকচক্রের সঙ্গে অস্ত্র অপরাধেরও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। অভিযানে ২৬টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১ হাজার ৪২৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব তথ্য তুলে ধরে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মাদক চোরাচালান, বিক্রি ও সেবনের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আটক প্রবাসীর পরিচয় প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।








Discussion about this post