কুয়েতে পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর বাজারে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের মূল্য অস্থিরতা। দেশটির স্থানীয় বাজারে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ গরু, দুম্বা ও ছাগল মূলত সোমালিয়া, মিশর, সুদান, ইথিওপিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়ে থাকে। তবে আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, সমুদ্রপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং আমদানি কার্যক্রমে দীর্ঘ কয়েক মাসের স্থবিরতার কারণে এবারের বাজারে পশুর সরবরাহ কমে গেছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ।
ব্যবসায়ীরা জানান, কুয়েত নিজস্বভাবে খুব সীমিত সংখ্যক পশু উৎপাদন করে। ফলে কোরবানির সময় দেশটি প্রায় পুরোপুরি আমদানিনির্ভর হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সোমালিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলো থেকে আসা জীবন্ত পশুর চালান কয়েক মাস ধরে অনিয়মিত হয়ে পড়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। পশুর হাটে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় গরু ও দুম্বার দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাঝারি আকারের একটি দুম্বা যেখানে আগে ৭০ থেকে ৯০ কুয়েতি দিনারে পাওয়া যেত, সেখানে এখন একই পশুর দাম ১১০ থেকে ১৪০ দিনার পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। বড় গরুর দামও কয়েকশ দিনার পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
ক্রেতাদের অনেকে বলছেন, উচ্চমূল্যের কারণে এবার কোরবানি দিতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশিসহ নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে। অনেকে যৌথ কোরবানি কিংবা ছোট পশুর দিকে ঝুঁকছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে ভবিষ্যতেও কুয়েতের পশুর বাজারে এমন চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় খামার উন্নয়ন এবং বিকল্প আমদানি উৎস তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।








Discussion about this post